ঢাকা, বাংলাদেশ। , শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

প্রেসক্লাব সভাপতির ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:৪৬:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • / ৭১ বার পঠিত
অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী:  রাজশাহীতে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে মহানগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে আয়োজিত এই মানববন্ধনে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিক সমাজকে ভয় দেখানোর অপচেষ্টা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে রেজাউল করিম বলেন, তিনি কেবল একজন ব্যক্তি নন, বরং পুরো সাংবাদিক সমাজের প্রতিনিধি। তার ওপর হামলা মানে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ওপর আঘাত। তিনি অভিযোগ করেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করায় তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়।
তিনি আরও জানান, হামলার সময় তার মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা হলে তিনি প্রতিরোধ করেন, এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার পর এতদিন পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবে।
মানববন্ধনে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শেখ রহমতুল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ মামুনুর রশীদসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য দেন। তারা বলেন, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং সংঘবদ্ধভাবে পরিচালিত হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
রিভিরসিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা রাব্বানী অভিযোগ করেন, প্রধান অভিযুক্ত নূরে ইসলাম মিলন ও সুরুজ আলী এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছে। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
এদিকে, রাজশাহী প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকরা। তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবি জানান।
ঘটনার পর বোয়ালিয়া মডেল থানায় নূরে ইসলাম মিলন, সুরুজ আলীসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং গোয়েন্দা টিম কাজ করছে।
সাংবাদিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে রাজশাহীতে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, রাজশাহীর শিরোইল কাঁচা বাজার এলাকায় অবস্থিত বরেন্দ্র প্রেসক্লাবকে কেন্দ্র করে কিছুদিন ধরে চাঁদা দাবির অভিযোগ চলছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, নূরে ইসলাম মিলন ও তার সহযোগীরা প্রায় চার লাখ টাকা দাবি করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ মার্চ রাত ৮টার দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল ব্যক্তি ক্লাবে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
হামলার সময় সভাপতির মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এক পর্যায়ে সুরুজ আলী ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করলে রেজাউল করিম তা প্রতিহত করেন। এতে তার উরুতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তাকে ১৩টি সেলাই নিতে হয়।
এ বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ড. জিললুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র গাজিউর রহমান জানান, মামলার তদন্ত চলছে এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

প্রেসক্লাব সভাপতির ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:৪৬:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী:  রাজশাহীতে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে মহানগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে আয়োজিত এই মানববন্ধনে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিক সমাজকে ভয় দেখানোর অপচেষ্টা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে রেজাউল করিম বলেন, তিনি কেবল একজন ব্যক্তি নন, বরং পুরো সাংবাদিক সমাজের প্রতিনিধি। তার ওপর হামলা মানে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ওপর আঘাত। তিনি অভিযোগ করেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করায় তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়।
তিনি আরও জানান, হামলার সময় তার মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা হলে তিনি প্রতিরোধ করেন, এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার পর এতদিন পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবে।
মানববন্ধনে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শেখ রহমতুল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ মামুনুর রশীদসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য দেন। তারা বলেন, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং সংঘবদ্ধভাবে পরিচালিত হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
রিভিরসিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা রাব্বানী অভিযোগ করেন, প্রধান অভিযুক্ত নূরে ইসলাম মিলন ও সুরুজ আলী এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছে। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
এদিকে, রাজশাহী প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকরা। তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবি জানান।
ঘটনার পর বোয়ালিয়া মডেল থানায় নূরে ইসলাম মিলন, সুরুজ আলীসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং গোয়েন্দা টিম কাজ করছে।
সাংবাদিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে রাজশাহীতে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, রাজশাহীর শিরোইল কাঁচা বাজার এলাকায় অবস্থিত বরেন্দ্র প্রেসক্লাবকে কেন্দ্র করে কিছুদিন ধরে চাঁদা দাবির অভিযোগ চলছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, নূরে ইসলাম মিলন ও তার সহযোগীরা প্রায় চার লাখ টাকা দাবি করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ মার্চ রাত ৮টার দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল ব্যক্তি ক্লাবে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
হামলার সময় সভাপতির মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এক পর্যায়ে সুরুজ আলী ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করলে রেজাউল করিম তা প্রতিহত করেন। এতে তার উরুতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তাকে ১৩টি সেলাই নিতে হয়।
এ বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ড. জিললুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র গাজিউর রহমান জানান, মামলার তদন্ত চলছে এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।