বগুড়া শেরপুর চেতনা নাশক ঔষধ খাইয়ে ইজি বাইক চুরি: সক্রিয় ৪ চোর গ্রেফতার

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:২৭:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫
- / ৪৬ বার পঠিত

বগুড়ার শেরপুরে চেতনা নাশক ওষুধ খাইয়ে ইজি বাইক চুরির ঘটনায় ৪ জন সংঘবদ্ধ চোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযানে চুরি হওয়া দুটি ইজি বাইক ও চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার ইদলপুর গ্রামের মো. আসাদুল ইসলাম (২৭), বগুড়া জেলার গাবতলী থানার লাঠিগঞ্জ সারোটিয়া গ্রামের মো. ওয়াহেদুল ইসলাম (২৯), বগুড়া সদর থানার মালতিনগর এলাকার মো. ফিরোজ উদ্দিন (৩০) এবং ধুনট থানার নান্দিয়ারপাড় (পূর্বপাড়া) গ্রামের মো. মিন্টু মেকার (৪০)। তারা আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য, যারা বিভিন্ন এলাকা থেকে ইজি বাইক চুরি করে মিন্টু মেকারের কাছে বিক্রি করতেন।
২৪ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে শেরপুর উপজেলার মহিপুর বারইপাড়া গ্রামের ইজি বাইক চালক লাভলু মন্ডল (৪৮) তার ইজি বাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে লাভলুর চাচাতো ভাই জাহিদুল ইসলাম খবর দেন, শেরপুর থানার কুসুম্বী ইউনিয়নের ধাওয়াপাড়া-সোনাকানিয়া বাজারের কাছে লাভলুর ছেলে শামীম অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তাকে অজ্ঞান করে তার ইজি বাইকটি ছিনিয়ে নেয়। শামীমকে দ্রুত শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং পরে লাভলু মন্ডল অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রকিব হোসেন জানান, তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রথমে শাজাহানপুর উপজেলার পোয়ালগাছা হাই স্কুলের সামনে থেকে চুরি হওয়া ইজি বাইকসহ আসাদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে ওয়াহেদুল ইসলাম ও ফিরোজ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা, যা তারা চুরির কাজে ব্যবহার করত।
পরে ধুনট থানার সোনাহাটা বাজার এলাকা থেকে মিন্টু মেকারকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে আরও একটি চুরি হওয়া ইজি বাইক উদ্ধার করা হয়।
এসআই মো. রকিব হোসেন জানান, আসাদুল, ওয়াহেদুল ও ফিরোজ একটি আন্তঃজেলা চোর চক্রের সদস্য। তারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইজি বাইক চুরি করে মিন্টু মেকারের কাছে বিক্রি করত। মিন্টু এসব চুরি করা ইজি বাইক ক্রয় করে পরে অন্যত্র বিক্রি করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই চক্রের সাথে আরও অনেক ব্যক্তি জড়িত রয়েছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা এই সংঘবদ্ধ ইজি বাইক চোর চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করে দুটি চুরি হওয়া ইজি বাইক ও একটি সিএনজি উদ্ধার করেছি। উদ্ধারকৃত যানবাহন বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং আসামীদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”


















