ঢাকা, বাংলাদেশ। , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

‘বড় মাওলানা’র  ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় ও গ্রামীণ মেলা

লোহাগাড়া, (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:১০:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৩২ বার পঠিত

লোহাগাড়া, (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : ক্ষিণ চট্টগ্রামের লোকজ সংস্কৃতি ও সামাজিক ঐতিহ্যের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে পরিচিত ‘বড় মাওলানা’র প্রবর্তিত ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে লোহাগাড়ায়। আগামী ৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের সুখছড়ী গ্রামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৩০তম ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা।
এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের সূচনা করেছিলেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন ও সমাজসংস্কারক হযরত মাওলানা সৈয়দ মোফাজ্জালুর রহমান (রহঃ), যিনি এলাকাবাসীর কাছে ‘বড় মাওলানা’ নামে সমধিক পরিচিত। ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি সামাজিক ঐক্য, সম্প্রীতি ও গ্রামীণ সংস্কৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে তাঁর হাত ধরেই শুরু হয়েছিল এই ঘোড়দৌড় মেলা। সময়ের স্রোত পেরিয়ে আজ তা পরিণত হয়েছে শতবর্ষী ঐতিহ্যে।
বড় মাওলানার পরিবার ও ঘোড়দৌড় সভা পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাত ৮টায় বড় মাওলানা জামে মসজিদের মুতাওয়াল্লি সৈয়দ আফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে ১৩০তম ঘোড়দৌড় সভার প্রাথমিক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আয়োজনের সময়সূচি, শৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
ঘোড়দৌড় সভা পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি সৈয়দ আরিফ মঈনুদ্দিন জানান, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দুই দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে প্রাথমিক বা ছোট সভা এবং রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে মূল বা বড় সভা ও ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা।
প্রতিবছর এই আয়োজনকে ঘিরে লোহাগাড়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার পাশাপাশি গ্রামীণ মেলায় দেশীয় খেলাধুলা, লোকজ পণ্যের প্রদর্শনী, হস্তশিল্প ও নানা ধরনের স্টল বসে, যা শিশু-কিশোরসহ সর্বস্তরের মানুষের আনন্দ-বিনোদনের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের মতে, এই ঘোড়দৌড় ও গ্রামীণ মেলা কেবল একটি বিনোদনমূলক আয়োজন নয়; এটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের সামাজিক বন্ধন, ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ। বড় মাওলানার স্মৃতি ও আদর্শকে ধারণ করে যুগের পর যুগ ধরে এই আয়োজন অব্যাহত থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

‘বড় মাওলানা’র  ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় ও গ্রামীণ মেলা

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:১০:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

লোহাগাড়া, (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : ক্ষিণ চট্টগ্রামের লোকজ সংস্কৃতি ও সামাজিক ঐতিহ্যের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে পরিচিত ‘বড় মাওলানা’র প্রবর্তিত ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে লোহাগাড়ায়। আগামী ৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের সুখছড়ী গ্রামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৩০তম ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা।
এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের সূচনা করেছিলেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন ও সমাজসংস্কারক হযরত মাওলানা সৈয়দ মোফাজ্জালুর রহমান (রহঃ), যিনি এলাকাবাসীর কাছে ‘বড় মাওলানা’ নামে সমধিক পরিচিত। ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি সামাজিক ঐক্য, সম্প্রীতি ও গ্রামীণ সংস্কৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে তাঁর হাত ধরেই শুরু হয়েছিল এই ঘোড়দৌড় মেলা। সময়ের স্রোত পেরিয়ে আজ তা পরিণত হয়েছে শতবর্ষী ঐতিহ্যে।
বড় মাওলানার পরিবার ও ঘোড়দৌড় সভা পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাত ৮টায় বড় মাওলানা জামে মসজিদের মুতাওয়াল্লি সৈয়দ আফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে ১৩০তম ঘোড়দৌড় সভার প্রাথমিক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আয়োজনের সময়সূচি, শৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
ঘোড়দৌড় সভা পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি সৈয়দ আরিফ মঈনুদ্দিন জানান, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দুই দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে প্রাথমিক বা ছোট সভা এবং রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে মূল বা বড় সভা ও ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা।
প্রতিবছর এই আয়োজনকে ঘিরে লোহাগাড়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার পাশাপাশি গ্রামীণ মেলায় দেশীয় খেলাধুলা, লোকজ পণ্যের প্রদর্শনী, হস্তশিল্প ও নানা ধরনের স্টল বসে, যা শিশু-কিশোরসহ সর্বস্তরের মানুষের আনন্দ-বিনোদনের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের মতে, এই ঘোড়দৌড় ও গ্রামীণ মেলা কেবল একটি বিনোদনমূলক আয়োজন নয়; এটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের সামাজিক বন্ধন, ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ। বড় মাওলানার স্মৃতি ও আদর্শকে ধারণ করে যুগের পর যুগ ধরে এই আয়োজন অব্যাহত থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।