ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন বিভাগের সহযোগিতায় পাচার করা হচ্ছে সুন্দরবনের জংড়া

মাহফুজুর রহমান, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১১:৩৪:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৪৯ বার পঠিত
মাহফুজুর রহমান, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা): বন বিভাগের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মচারীদের সক্রিয় সহযোগিতায় বিশ্ব ঐতিহ্যের লীলাভূমি সুন্দরবন এবং জীব বৈচিত্র  ধ্বংসে মেতে উঠেছে একটি পাচারকারী চক্র।
প্রতিদিন সন্ধ্যা হতে সুন্দরবনের গহীনে ও সুন্দরবন সংশ্লিষ্ট খালগুলিতে রাতভর অবৈধ জংড়া (এক শ্রেণীর শামুক) সংগ্রহের  কর্মযজ্ঞ চলে। রাতে ধরা জংড়াগুলো উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খুচরা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে দিনের আলোয় প্রকাশ্য বেচাকেনা হয়। সারাদিনই খুচরা ভাবে  ক্রয়কৃত জংড়াগুলি আড়ৎদার বা মহাজনের কাছে পৌঁছায়। মহাজন সেগুলি সন্ধ্যায় গাড়ি লোড় করে ঢাকা হয়ে  দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে।
এই লম্বা প্রক্রিয়াটির সবকিছু প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলে।  বনবিভাগ দেখেও না দেখার চেষ্টা করে।
বন বিভাগের এই উদাসীনতার  কারণ খুঁজতে বেশ কয়েদিন অনুসন্ধান চালানো হয়, বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সিগঞ্জ, গাবুরা ও কৈখালী ইউনিয়নের জংড়া আহরণে জড়িত জেলেদের কাছে। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী প্রতি মাসে,নির্বিঘ্নে জংড়া পাচারের জন্য দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হয়। এই ঘুষের টাকা গ্রহনের তালিকায় বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা, বনবিভাগের দালালসহ অনেকের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি সময়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জার কোবাদক ফরেস্ট  স্টেশান, কাঠেশ্বর বন টহল ফাঁড়ি ,বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন  , মুন্সিগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ি,কদমতলা ফরেস্ট স্টেশন এবং  কৈখালী ফরেস্ট স্টেশন  অফিস ম্যানেজ করে প্রতিনিয়ত জংড়া নির্বিচারে  নিধন চলছে। যহা অচিরেই বিলুপ্ত প্রজাতি বলে ঘোষণা করা হবে।
দীর্ঘদিন পরিবেশ নিয়ে কাজ করা লিডার্সের নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মন্ডল বলেন, জংড়া নদীর তলদেশের মাটি ও পানির গুণগত মান নিয়ন্ত্রক হিসাবে কাজ করে । নদীর প্রাকৃতিক ফিল্টার হিসেবে কাজ করে, দূষণ কমায়, মাটির উর্বরতা বাড়ায়। এছাড়া মাছ ও কাঁকড়ার খাদ্যচক্র বৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। জংড়া (শামুক) ও ঝিনুক ব্যাপক নিধন হলে নদীর জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকিতে পড়বে।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ ফজলুল হক বলেন, অর্থনৈতিক সংশ্লিষ্ট থাকার কোন প্রশ্নই ওঠে না। আমাদের ডিপার্টমেন্টের কেউ যদি এ ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেনের সাথে জড়িত থাকে তাহলে সুনির্দিষ্ট করা অভিযোগ দিলে বিষয়টা দেখা হবে। এছাড়া শামুক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য,বন বিভাগের অভিযানে গত ২৭ নভেম্বর রাতে উপজেলার মুন্সিগঞ্জের হাজীর মোড় থেকে ৮৬০ কেজি শামুকসহ একটি ইঞ্জিন চালিত ভ্যান জব্দ করে মুন্সিগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ি। পরে অজ্ঞাত কারণে ভ্যানটি ছেড়ে দেওয়া হয়। ৭ সেপ্টেম্বর ৬৯০ কেজি শামুক উদ্বার করে সুন্দরবনের নদীতে অবমুক্ত করা হয়। উপজেলায় পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাতাখালী লঞ্চ ঘাট থেকে একটি ট্রলারসহ হাজার কেজি (৭৫ বস্তা) শামুক জব্দ করে বন বিভাগ। এসময় ট্রলার ড্রাইভার কওছার গাজী (৪৮)কে আটক করা হয়। একই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের অধিন মহসিনের হুলা নামক স্থান  থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৮ বস্তা (৬০০ কেজি) শামুক উদ্ধার করে। ২রা ফেব্রুয়ারি ক্লিনিক মোড় থেকে একটি ট্রাকসহ ৭৫০০ কেজি ২১৩ বস্তা শামুক জব্দ করে বন বিভাগ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বন বিভাগের সহযোগিতায় পাচার করা হচ্ছে সুন্দরবনের জংড়া

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১১:৩৪:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
মাহফুজুর রহমান, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা): বন বিভাগের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মচারীদের সক্রিয় সহযোগিতায় বিশ্ব ঐতিহ্যের লীলাভূমি সুন্দরবন এবং জীব বৈচিত্র  ধ্বংসে মেতে উঠেছে একটি পাচারকারী চক্র।
প্রতিদিন সন্ধ্যা হতে সুন্দরবনের গহীনে ও সুন্দরবন সংশ্লিষ্ট খালগুলিতে রাতভর অবৈধ জংড়া (এক শ্রেণীর শামুক) সংগ্রহের  কর্মযজ্ঞ চলে। রাতে ধরা জংড়াগুলো উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খুচরা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে দিনের আলোয় প্রকাশ্য বেচাকেনা হয়। সারাদিনই খুচরা ভাবে  ক্রয়কৃত জংড়াগুলি আড়ৎদার বা মহাজনের কাছে পৌঁছায়। মহাজন সেগুলি সন্ধ্যায় গাড়ি লোড় করে ঢাকা হয়ে  দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে।
এই লম্বা প্রক্রিয়াটির সবকিছু প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলে।  বনবিভাগ দেখেও না দেখার চেষ্টা করে।
বন বিভাগের এই উদাসীনতার  কারণ খুঁজতে বেশ কয়েদিন অনুসন্ধান চালানো হয়, বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সিগঞ্জ, গাবুরা ও কৈখালী ইউনিয়নের জংড়া আহরণে জড়িত জেলেদের কাছে। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী প্রতি মাসে,নির্বিঘ্নে জংড়া পাচারের জন্য দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হয়। এই ঘুষের টাকা গ্রহনের তালিকায় বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা, বনবিভাগের দালালসহ অনেকের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি সময়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জার কোবাদক ফরেস্ট  স্টেশান, কাঠেশ্বর বন টহল ফাঁড়ি ,বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন  , মুন্সিগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ি,কদমতলা ফরেস্ট স্টেশন এবং  কৈখালী ফরেস্ট স্টেশন  অফিস ম্যানেজ করে প্রতিনিয়ত জংড়া নির্বিচারে  নিধন চলছে। যহা অচিরেই বিলুপ্ত প্রজাতি বলে ঘোষণা করা হবে।
দীর্ঘদিন পরিবেশ নিয়ে কাজ করা লিডার্সের নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মন্ডল বলেন, জংড়া নদীর তলদেশের মাটি ও পানির গুণগত মান নিয়ন্ত্রক হিসাবে কাজ করে । নদীর প্রাকৃতিক ফিল্টার হিসেবে কাজ করে, দূষণ কমায়, মাটির উর্বরতা বাড়ায়। এছাড়া মাছ ও কাঁকড়ার খাদ্যচক্র বৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। জংড়া (শামুক) ও ঝিনুক ব্যাপক নিধন হলে নদীর জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকিতে পড়বে।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ ফজলুল হক বলেন, অর্থনৈতিক সংশ্লিষ্ট থাকার কোন প্রশ্নই ওঠে না। আমাদের ডিপার্টমেন্টের কেউ যদি এ ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেনের সাথে জড়িত থাকে তাহলে সুনির্দিষ্ট করা অভিযোগ দিলে বিষয়টা দেখা হবে। এছাড়া শামুক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য,বন বিভাগের অভিযানে গত ২৭ নভেম্বর রাতে উপজেলার মুন্সিগঞ্জের হাজীর মোড় থেকে ৮৬০ কেজি শামুকসহ একটি ইঞ্জিন চালিত ভ্যান জব্দ করে মুন্সিগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ি। পরে অজ্ঞাত কারণে ভ্যানটি ছেড়ে দেওয়া হয়। ৭ সেপ্টেম্বর ৬৯০ কেজি শামুক উদ্বার করে সুন্দরবনের নদীতে অবমুক্ত করা হয়। উপজেলায় পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাতাখালী লঞ্চ ঘাট থেকে একটি ট্রলারসহ হাজার কেজি (৭৫ বস্তা) শামুক জব্দ করে বন বিভাগ। এসময় ট্রলার ড্রাইভার কওছার গাজী (৪৮)কে আটক করা হয়। একই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের অধিন মহসিনের হুলা নামক স্থান  থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৮ বস্তা (৬০০ কেজি) শামুক উদ্ধার করে। ২রা ফেব্রুয়ারি ক্লিনিক মোড় থেকে একটি ট্রাকসহ ৭৫০০ কেজি ২১৩ বস্তা শামুক জব্দ করে বন বিভাগ।