ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
তাজা খবর
“কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র অভিনন্দন
উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ১৪৪ তম খুলনা দিবস!
চট্রগ্রামের জব্বারের বলি খেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হোমনার বাঘা শরীফ
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
বরেন্দ্র প্রেসক্লাব সভাপতির ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন,গ্রেপ্তারের দাবি

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:৩৯:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
- / ৫৫ বার পঠিত

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের ওপর সশস্ত্র হামলা ও চাঁদা দাবির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
রোববার (৮ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর ব্যস্ততম সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট এলাকায় এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, স্থানীয় সামাজিক ও সাংগঠনিক নেতারা অংশ নেন এবং হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
মানববন্ধনে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মো. রহমত উল্লাহ সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন। বক্তারা বলেন, প্রেসক্লাব সভাপতির ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এটি শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়, বরং সাংবাদিক সমাজের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার ওপর আঘাত। তারা অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এসে এই হামলা চালিয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, অপরাধীরা যেই হোক না কেন, তাদের কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় থাকতে পারে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে বলেও তারা সতর্ক করেন।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও দেশ টিভির প্রতিনিধি কাজী শাহেদ, সংগঠনটির সাবেক সভাপতি আবু কাওসার মাখন, সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, দৈনিক কালবেলার রাজশাহী ব্যুরোর আমজাদ হোসেন শিমুল, রিভারসিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রাব্বানী, রাজশাহী রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান টনি এবং দপ্তর সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেন।
এছাড়াও বক্তব্য দেন রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন, ফারুক আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ এবং সদস্য শাহিন সাগর।
মানববন্ধনে আরও সংহতি প্রকাশ করেন রাজশাহী প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন বাবু, কার্যনির্বাহী সদস্য রাজিব আলী রাতুল, বৃহত্তর রাজশাহী বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ রানা, ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ শুভ এবং মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা তারানা আক্তার জিনিয়া।
এ সময় রাজশাহী নিউ গভমেন্ট ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাব্বির আহমেদ অন্তরও বক্তব্য দিয়ে হামলার ঘটনার নিন্দা জানান এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। উপস্থিত ছিলেন আইএইচটি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আয়াতুল্লাহ কমেনি, তিন নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রতন আলী এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের তিন নম্বর ওয়ার্ডের শান্ত ইসলামসহ আরও অনেকে।
ঘটনার পটভূমি সম্পর্কে জানা যায়, রাজশাহীর শিরোইল কাঁচাবাজার এলাকায় অবস্থিত বরেন্দ্র প্রেসক্লাবকে কেন্দ্র করে কিছুদিন ধরে নুরে ইসলাম মিলন ও তার সহযোগীরা ক্লাব কর্তৃপক্ষের কাছে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এই চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত শনিবার (৭ মার্চ) রাত প্রায় ৮টার দিকে দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে হামলা চালায়।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন একটি পিস্তল বের করে প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের মাথায় ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। হামলার একপর্যায়ে সুরুজ আলী নামে এক ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি তা প্রতিহত করতে গেলে তার উরুতে গুরুতর জখম হয়। পরে চিকিৎসকেরা সেখানে ১৩টি সেলাই দেন।
আহত রেজাউল করিম বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় নুরে ইসলাম মিলন, সুরুজ আলী, মিশাল, সাইদ আলী, ইব্রাহিম ও রেন্টুসহ আরও অজ্ঞাত ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং হামলাকারীদের ফেলে যাওয়া একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


















