ঢাকা, বাংলাদেশ। , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

বসতভিটা নিয়ে আইনি লড়াই, আতঙ্কে লামার অসহায় পরিবার

জাহিদ হাসান,বান্দরবান প্রতিনিধি।।
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০১:৩৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৪৭ বার পঠিত
জাহিদ হাসান,বান্দরবান প্রতিনিধি।। বান্দরবানের লামা উপজেলার কুমারী স্কুলপাড়া ৪ নম্বর ওয়ার্ড, ২৮৬ নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে বসবাসরত একটি পরিবার বসতভিটা হারানোর চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। ভুক্তভোগী মো. নুরুল ইসলাম (পিতা: খুইলা মিয়া) অভিযোগ করেছেন, একটি চক্র নতুন কাগজপত্র তৈরি করে মামলা দিয়ে তাদের উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মো. নুরুল ইসলাম পরিবারসহ প্রায় ৫ একর জায়গায় বসবাস করে আসছেন। ওই জমিতে পরিবার বসত করছে এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালাও রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নুরুল ইসলাম পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। পরিবারটির আর্থিক অবস্থা দুর্বল হওয়ায় একটি প্রভাবশালী চক্র সুযোগ নিয়ে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।ভুক্তভোগীর দাবি, পূর্বে দায়ের করা মামলায় তারা আদালতের রায় পেয়েছেন। কিন্তু আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও নতুন কাগজপত্র দেখিয়ে আবারও মামলা করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কুমারী স্কুলপাড়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সেতারা বেগম (স্বামী: মো. শাহাজান) ভিন্ন কাগজ ব্যবহার করে নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করে আসছেন।এদিকে ভূমি অফিস থেকে পাওয়া একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরেজমিন তদন্ত ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়—২৮৬ নং ফাঁসিয়াখালী মৌজার হোল্ডিং নং-৭২২, দাগ নং-৭০০৮, ৩২৩, ৩২৫ ও ৪৩২-এর অন্তর্ভুক্ত ৫.০০ একর তৃতীয় শ্রেণির জমি বাদী সেতারা বেগম ২০২৩ সালের ২ জানুয়ারি তারিখে ০৫/২০২৩ নম্বর রেজিস্ট্রি বায়না নামা দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেছেন বলে মালিকানা দাবি করেন।অন্যদিকে, নালিশী জমির ১ নম্বর বিবাদী দেলোয়ার হোসেন দাবি করেন, জমিটি তার নামীয় হোল্ডিং আর/৯-এর অংশ এবং তিনি কাঁচা দলিলের মাধ্যমে ওই জমি ক্রয় করেছেন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বাদী সেতারা বেগম বিগত ৮ থেকে ১০ বছর ধরে নালিশী জমির দখলে রয়েছেন বলে দাবি করেন এবং তার দখলীয় অংশে বিবাদী প্রবেশ করতে গেলে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা রয়েছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মো. নুরুল ইসলাম ওই জায়গায় প্রায় ৩৪ বছর ধরে দখলে রয়েছেন এবং তার বসতভিটা দীর্ঘদিনের। তারা অভিযোগ করেন, নতুন কাগজ তৈরি করে একটি পক্ষ দীর্ঘদিনের দখলদার পরিবারটিকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছে।এ বিষয়ে সেতারা বেগমের বক্তব্য নিতে চাইলে তিনি প্রথমে ফোন রিসিভ করলেও জমিতে কত বছর ধরে দখলে রয়েছেন—এ প্রশ্নের জবাব দিতে রাজি হননি। পরে তিনি তার ছেলের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তার ছেলে জানান, বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে নিয়ে মীমাংসা করা হয়েছে।
এদিকে একের পর এক মামলা চলতে থাকায় নুরুল ইসলাম পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত অসহায় পরিবারটির ন্যায্য অধিকার ও বসতভিটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

বসতভিটা নিয়ে আইনি লড়াই, আতঙ্কে লামার অসহায় পরিবার

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০১:৩৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
জাহিদ হাসান,বান্দরবান প্রতিনিধি।। বান্দরবানের লামা উপজেলার কুমারী স্কুলপাড়া ৪ নম্বর ওয়ার্ড, ২৮৬ নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে বসবাসরত একটি পরিবার বসতভিটা হারানোর চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। ভুক্তভোগী মো. নুরুল ইসলাম (পিতা: খুইলা মিয়া) অভিযোগ করেছেন, একটি চক্র নতুন কাগজপত্র তৈরি করে মামলা দিয়ে তাদের উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মো. নুরুল ইসলাম পরিবারসহ প্রায় ৫ একর জায়গায় বসবাস করে আসছেন। ওই জমিতে পরিবার বসত করছে এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালাও রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নুরুল ইসলাম পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। পরিবারটির আর্থিক অবস্থা দুর্বল হওয়ায় একটি প্রভাবশালী চক্র সুযোগ নিয়ে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।ভুক্তভোগীর দাবি, পূর্বে দায়ের করা মামলায় তারা আদালতের রায় পেয়েছেন। কিন্তু আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও নতুন কাগজপত্র দেখিয়ে আবারও মামলা করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কুমারী স্কুলপাড়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সেতারা বেগম (স্বামী: মো. শাহাজান) ভিন্ন কাগজ ব্যবহার করে নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করে আসছেন।এদিকে ভূমি অফিস থেকে পাওয়া একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরেজমিন তদন্ত ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়—২৮৬ নং ফাঁসিয়াখালী মৌজার হোল্ডিং নং-৭২২, দাগ নং-৭০০৮, ৩২৩, ৩২৫ ও ৪৩২-এর অন্তর্ভুক্ত ৫.০০ একর তৃতীয় শ্রেণির জমি বাদী সেতারা বেগম ২০২৩ সালের ২ জানুয়ারি তারিখে ০৫/২০২৩ নম্বর রেজিস্ট্রি বায়না নামা দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেছেন বলে মালিকানা দাবি করেন।অন্যদিকে, নালিশী জমির ১ নম্বর বিবাদী দেলোয়ার হোসেন দাবি করেন, জমিটি তার নামীয় হোল্ডিং আর/৯-এর অংশ এবং তিনি কাঁচা দলিলের মাধ্যমে ওই জমি ক্রয় করেছেন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বাদী সেতারা বেগম বিগত ৮ থেকে ১০ বছর ধরে নালিশী জমির দখলে রয়েছেন বলে দাবি করেন এবং তার দখলীয় অংশে বিবাদী প্রবেশ করতে গেলে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা রয়েছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মো. নুরুল ইসলাম ওই জায়গায় প্রায় ৩৪ বছর ধরে দখলে রয়েছেন এবং তার বসতভিটা দীর্ঘদিনের। তারা অভিযোগ করেন, নতুন কাগজ তৈরি করে একটি পক্ষ দীর্ঘদিনের দখলদার পরিবারটিকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছে।এ বিষয়ে সেতারা বেগমের বক্তব্য নিতে চাইলে তিনি প্রথমে ফোন রিসিভ করলেও জমিতে কত বছর ধরে দখলে রয়েছেন—এ প্রশ্নের জবাব দিতে রাজি হননি। পরে তিনি তার ছেলের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তার ছেলে জানান, বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে নিয়ে মীমাংসা করা হয়েছে।
এদিকে একের পর এক মামলা চলতে থাকায় নুরুল ইসলাম পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত অসহায় পরিবারটির ন্যায্য অধিকার ও বসতভিটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।