নিজস্ব প্রতিনিধি, রাজশাহী
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি বাজারে এক নারী ডিশ ব্যবসায়ীর বৈধ ডিশ সংযোগ ও দীর্ঘদিনের ব্যবসা জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও লুটপাটের যে অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার অপচেষ্টা বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী নারী ও সংশ্লিষ্ট ছাত্রদল নেতারা।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন ডিশ ব্যবসায়ী মোসা. ফাইমা খাতুন। এ সময় নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ রানা, গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শাহীন আলম এবং হামিরকুৎসা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সুমন উপস্থিত থেকে তার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান।
লিখিত বক্তব্যে ফাইমা খাতুন বলেন, তার স্বামী শাহ মো. শরিফুল ইসলাম রাজু ২০১০ সাল থেকে বাগমারা উপজেলার হামিরকুৎসা, গোয়ালকান্দি, পলাশী, চন্দ্রপুর, উদপাড়া, ডাংগাপাড়া ও রায়পুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি অনুমোদন নিয়ে ডিশ সংযোগের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গ্রহণ এবং নিয়মিত কর-খাজনা পরিশোধের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। ধাপে ধাপে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে তারা বিস্তৃত ডিশ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় যুবলীগ নেতা ইমন তাদের ব্যবসায় হামলা চালিয়ে মেশিন ও ডিশ লাইনের তার খুলে নিয়ে যান। এ সময় তাকে এবং তার সন্তানদের মারধর করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। ওই ঘটনার পর মানসিক আঘাতে তার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ব্যবসার পুরো দায়িত্ব তার কাঁধে এসে পড়ে। পরবর্তীতে দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি ব্যবসার কিছু অংশ পুনরুদ্ধার করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় যুবদল নেতা আসাদুল ইসলাম তাদের ডিশ সংযোগের লাইন ও ব্যবসা জোরপূর্বক দখল করে নেন। এ ঘটনায় তিনি বাগমারা থানা, সেনাবাহিনী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পুলিশ সুপার, বিটিভি কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। এছাড়া বাগমারা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের কাছেও বিচার চান। কিন্তু কোনো কার্যকর সমাধান পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
ফাইমা খাতুন বলেন, পরে উপজেলা বিএনপির নেতাদের উদ্যোগে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই প্রেক্ষাপটে আসাদুল ইসলাম তাকে আলোচনার জন্য নিজের কার্যালয়ে ডাকেন। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি একা না গিয়ে নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ রানা, গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শাহীন আলম এবং হামিরকুৎসা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সুমনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার একপর্যায়ে আসাদুল ইসলাম উত্তেজিত হয়ে তাকে ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। তিনি রাজি না হলে গালিগালাজ শুরু করেন এবং তার গলার চেইন, ব্যাগ ও মোবাইল ফোন টানাহেঁচড়া করে নিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করেন। এ সময় উপস্থিত ছাত্রদল নেতারা তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার পর নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আড়াল করতে আসাদুল ইসলাম নিজেই আহত হওয়ার নাটক সাজিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ প্রচার করেন। বাস্তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছাত্রদল নেতারা বলেন, তারা কোনো ধরনের ভাঙচুর, লুটপাট বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। একজন অসহায় নারীর অনুরোধে তার নিরাপত্তার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়ে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
তারা ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান। পাশাপাশি ভুক্তভোগী নারী যাতে তার বৈধ ডিশ ব্যবসা পুনরুদ্ধার করে নিরাপদে পরিচালনা করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে যুবদল নেতা আসাদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তাই অভিযোগ না থাকায় বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত মন্তব্য করার সুযোগ নেই।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 



















