দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীরা। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মোমিন খান। তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনের ব্রুনেল বিশ্ববিদ্যালয়ে Vice- Chancellor স্কলারশিপে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন।
৫ আগস্ট (বুধবার) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্হাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তরিকুল ইসলাম জনি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপ অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গৌরবের বিষয় যা অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরও উচ্চশিক্ষার প্রতি আরও উৎসাহিত করবে ।
মোমিন খানের এই অর্জন তার দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, একাগ্রতা ও কঠোর পরিশ্রমের কারণে অনার্সের রেজাল্টের মাত্র ৩ মাস পরেই পেলেন যুক্তরাজ্যের মতো স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ। তাঁর এই প্রাপ্তির পিছনের কারণ জানতে চাইলে নয়া দিগন্তের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “পরিশ্রম বলতে সবথেকে বেশি যে জিনিসটা করা লেগেছে তা হল ইন্টারভিউ প্রিপারেশন কারণ এটা খুবই অথেনটিক এবং খুবই স্ট্রেটফরোয়ার্ড নেয় সেক্ষেত্রে ইন্টারভিউ নেওয়ার আগে অনেকদিন পরিশ্রম করেছি, রিসার্চ করেছি কি ধরনের প্রশ্ন করতে পারে এবং এধরণের আন্সার দেওয়ার জন্য কি কি আন্সার দিলে সুইটেবল হয়। সব মিলিয়ে এটি হচ্ছে একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং তীব্র ইচ্ছার।”
এছাড়াও মোমিন উচ্চশিক্ষার জন্য আইএলটিএস এর প্রস্তুুতির জন্য জুনিয়র শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “যারা আইএলটিএস দিতে চায় তাদের যদি বাইরে মাস্টার্স করার ইচ্ছে থাকে তাহলে ব্যাচেলর এর পাশাপাশি আইএলটিএস টা দিয়ে দেওয়া উচিৎ। তাহলে দেখা গেল ভার্সিটির রেজাল্ট শেষ হওয়ার সাথে সাথে আবেদন করে নিতে পারবে। তবে একটা জিনিস সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের ইচ্ছে। তাই একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের লক্ষ্য সিলেক্ট করে সবার উচিৎ প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়া।” মোমিন খানের এমন সাফল্যের খবরে উচ্ছ্বসিত বিভাগটির শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীসহ শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তাঁর এ সাফল্যে আনন্দে শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যবস্হাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তরিকুল ইসলাম জনি বলেন, “ আমাদের পক্ষ থেকে বিশেষ করে আমি তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করারা চেষ্টা করেছি। মোমিনের শুরু থেকেই চেষ্টা ছিল সে দেশের বাইরে একটা ডিগ্রী করবে। সে করোনার সময় থেকেই নিজেকে আস্তে আস্তে তৈরি করতে ছিল। অনেক দিনের পরিশ্রমের ফসল তার এই আজকের অর্জন। সে যখন রিকমেন্ডেশন লেটার নিতে আসছিল তখন তার যে সিরিয়াসনেস দেখেছি, তাতে মনে হয়েছে যে, প্রত্যেকটা শিক্ষার্থী চাইলে ভালো কিছু করতে পারে, যদি তার মধ্যে সেই চেষ্টা এবং ধৈর্য থাকে আর সেই ধৈর্যটা মোমিনের মধ্যে ছিল।”এছাড়াও মোমিন ভবিষ্যতে তার অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা দেশের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বে কাজে লাগাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন অধ্যাপক তরিকুল ইসলাম।

মোমিন ইসলাম, কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় 



















