ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

গাজীপুরে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ: ভোগান্তিতে যাত্রীরা

মৃণাল চৌধুরী সৈকত

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ঘোষণা আসার পরই গাজীপুরে গণ-পরিবহনে যেন ভাড়ার নতুন হিসাব শুরু হয়েছে। নতুন ভাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণের আগেই সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন সড়ক মহাসড়কের যাত্রীদের কাছ থেকে ১০ থেকে ৫০ এবং ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষ করে চন্দ্রা থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা রুটে ৪০ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। বাড়তি ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানালে কোথাও কোথাও চালক-সহকারীদের সঙ্গে যাত্রীদের তর্কাতর্কি ও ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া, শ্রীপুর, কালিয়াকৈর, কাপাসিয়া, কালীগঞ্জসড়কসহ ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল,সিলেট, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, চচ্রগ্রাম অঞ্চলে যাতায়াতরত বাস কাউন্টারগুলো একই ভাবে ১০০ থেকে ২০০ টাকা ভাড়া অতিরক্ত নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এতে প্রশ্ন উঠেছে, নতুন ভাড়া নির্ধারণের আগেই পরিবহন শ্রমিকেরা কার নির্দেশে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি কোথায় ?
সোমবার সকাল থেকে চন্দ্রা, কোনাবাড়ী, গাজীপুর চৌরাস্তা ও আশপাশের এলাকায় গণ-পরিবহনে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তেলের দাম বাড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে কোনো কোনো বাসে আগের ভাড়ার সঙ্গে অতিরিক্ত টাকা যোগ করা হচ্ছে। চন্দ্রা থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত আগে ৪০ টাকা নেওয়া হলেও কয়েকটি বাসে ৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে। মাঝপথের বিভিন্ন স্টপেজ থেকেও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
চন্দ্রা থেকে চৌরাস্তা যাচ্ছিলেন ফজলুল হক। তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়লে ভাড়া সমন্বয় হবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু সরকারিভাবে নতুন ভাড়া নির্ধারণের আগেই ১০, ২০, ৫০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হলো কেন ? আমরা যারা প্রতিদিন বাসে যাতায়াত করি, তাদের মাস শেষে বাড়তি কয়েক শ টাকা খরচ হবে।
আরেক যাত্রী বলেন, বাসে উঠলেই বলা হচ্ছে তেলের দাম বেড়েছে, তাই ভাড়াও বেড়েছে। কিন্তু নতুন ভাড়ার কোনো তালিকা দেখানো হচ্ছে না। একেক বাসে একেক রকম ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে চালক-হেলপারের সঙ্গে যাত্রীদের কথা-কাটাকাটি হচ্ছে।
তবে পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, তেলের দাম বাড়ায় গাড়ি পরিচালনার খরচ বেড়েছে। উত্তরবঙ্গ সড়কের এক চালক বলেন, তেলের দাম বাড়ার পর গাড়ির খরচ বেড়েছে। মালিকের জমা, জ্বালানি, মেরামত-সবকিছুর খরচ আছে। তবে ভাড়া সরকারি ভাবে যেটা নির্ধারণ করবে, সেটাই নেওয়া উচিত। বাস মালিক, বিভিন্ন কোম্পানী, স্থানীয় কাউন্টার, এবং চালকের নিজেদের সিদ্ধান্তে ভাড়া বাড়ানো ঠিক নয়। গাজীপুর থেকে বরিশাল সড়কের এক চালক বলেন, যাত্রীরা আমাদের সঙ্গে তর্ক করেন। অথচ এসব সড়কের বাসে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত চালকের হাতে নেই। মালিক সমিতি ও সরকার যে ভাড়া নির্ধারণ করবে, সেটাই কার্যকর হবে। তেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন মালিকদের ওপর যে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া দরকার সাধারণ যাত্রীদের।
গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন পরিচালনার ব্যয় বেড়েছে। এ কারণে ভাড়া সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। তবে নতুন ভাড়া নির্ধারণের আগে কোনো কোম্পানী, বাস মালিক সমিতি বা চালক কিংবা শ্রমিক নিজেদের মতো করে বাড়তি ভাড়া নিতে পারেন না। সরকার যে ভাড়া নির্ধারণ করবে, মালিক সমিতি সেটিই বাস্তবায়ন করবে।
তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা বা অসৌজন্যমূলক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। তবে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়েও নজরদারি রয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর পরিবহন মালিকদের খরচ বাড়ার বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু নতুন ভাড়া নির্ধারণের আগেই যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায়ের অভিযোগ তৈরি হলে তা নিয়ে বিরোধ হওয়াটাও স্বাভাবিক। ফলে ভাড়া সমন্বয়ের প্রক্রিয়ায় যেমন পরিবহন খাতের বাড়তি ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন, তেমনি সাধারণ যাত্রীদের সামর্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি উঠেছে।
গাজীপুর জেলা বা মহানগর শিল্পাঞ্চল হওয়ায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পোশাক শ্রমিক ও কর্মজীবী মানুষ চন্দ্রা, কোনাবাড়ী, চৌরাস্তা, টঙ্গী, উত্তরা, বোর্ডবাজার, মাওনা, শ্রীপুরসহ বিভিন্ন সড়কে গণপরিবহনে ব্যবহার করেন। গন-পরিবহনের বড় একটি অংশের মাসিক আয়ের ওপর পরিবারের ব্যয় নির্ভর করে। ফলে প্রতিদিনের যাতায়াতে ১০ থেকে ২০,৩০ টাকা বাড়তি ব্যয় হলেও মাস শেষে সেটি তাঁদের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।
যাত্রীদের প্রশ্ন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে ভাড়া বাড়াতে হলে সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সেটি হবে-এটাই নিয়ম। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই যদি রুটভেদে পরিবহনগুলো নিজেদের মতো ভাড়া বাড়িয়ে নেয়, তাহলে যাত্রীদের অভিযোগ শোনার দায়িত্ব কার ? একই সঙ্গে নতুন ভাড়া নির্ধারণের পরও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কার্যকর নজরদারি থাকবে কি না, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ অবস্থায় গাজীপুরের যাত্রীদের দাবি, দ্রুত নতুন ভাড়া নির্ধারণ করে তা প্রতিটি রুটে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হোক। বাসে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে যাত্রী-শ্রমিক বিরোধও অনেকটা কমানো সম্ভব হবে। অন্যদিকে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদেরও নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে নিজেদের মতো করে টাকা না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

নির্ধারণের চেয়ে বাড়তি ভাড়া নিলে রুট পারমিট বাতিল করা হবে: সড়কমন্ত্রী

22 September 2026

মির্জাপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় আ.লীগ নেতা ফালু গ্রেপ্তার

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com
nagorikbhabna

গাজীপুরে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ: ভোগান্তিতে যাত্রীরা

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৫:৪৫:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মৃণাল চৌধুরী সৈকত

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ঘোষণা আসার পরই গাজীপুরে গণ-পরিবহনে যেন ভাড়ার নতুন হিসাব শুরু হয়েছে। নতুন ভাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণের আগেই সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন সড়ক মহাসড়কের যাত্রীদের কাছ থেকে ১০ থেকে ৫০ এবং ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষ করে চন্দ্রা থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা রুটে ৪০ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। বাড়তি ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানালে কোথাও কোথাও চালক-সহকারীদের সঙ্গে যাত্রীদের তর্কাতর্কি ও ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া, শ্রীপুর, কালিয়াকৈর, কাপাসিয়া, কালীগঞ্জসড়কসহ ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল,সিলেট, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, চচ্রগ্রাম অঞ্চলে যাতায়াতরত বাস কাউন্টারগুলো একই ভাবে ১০০ থেকে ২০০ টাকা ভাড়া অতিরক্ত নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এতে প্রশ্ন উঠেছে, নতুন ভাড়া নির্ধারণের আগেই পরিবহন শ্রমিকেরা কার নির্দেশে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি কোথায় ?
সোমবার সকাল থেকে চন্দ্রা, কোনাবাড়ী, গাজীপুর চৌরাস্তা ও আশপাশের এলাকায় গণ-পরিবহনে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তেলের দাম বাড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে কোনো কোনো বাসে আগের ভাড়ার সঙ্গে অতিরিক্ত টাকা যোগ করা হচ্ছে। চন্দ্রা থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত আগে ৪০ টাকা নেওয়া হলেও কয়েকটি বাসে ৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে। মাঝপথের বিভিন্ন স্টপেজ থেকেও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
চন্দ্রা থেকে চৌরাস্তা যাচ্ছিলেন ফজলুল হক। তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়লে ভাড়া সমন্বয় হবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু সরকারিভাবে নতুন ভাড়া নির্ধারণের আগেই ১০, ২০, ৫০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হলো কেন ? আমরা যারা প্রতিদিন বাসে যাতায়াত করি, তাদের মাস শেষে বাড়তি কয়েক শ টাকা খরচ হবে।
আরেক যাত্রী বলেন, বাসে উঠলেই বলা হচ্ছে তেলের দাম বেড়েছে, তাই ভাড়াও বেড়েছে। কিন্তু নতুন ভাড়ার কোনো তালিকা দেখানো হচ্ছে না। একেক বাসে একেক রকম ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে চালক-হেলপারের সঙ্গে যাত্রীদের কথা-কাটাকাটি হচ্ছে।
তবে পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, তেলের দাম বাড়ায় গাড়ি পরিচালনার খরচ বেড়েছে। উত্তরবঙ্গ সড়কের এক চালক বলেন, তেলের দাম বাড়ার পর গাড়ির খরচ বেড়েছে। মালিকের জমা, জ্বালানি, মেরামত-সবকিছুর খরচ আছে। তবে ভাড়া সরকারি ভাবে যেটা নির্ধারণ করবে, সেটাই নেওয়া উচিত। বাস মালিক, বিভিন্ন কোম্পানী, স্থানীয় কাউন্টার, এবং চালকের নিজেদের সিদ্ধান্তে ভাড়া বাড়ানো ঠিক নয়। গাজীপুর থেকে বরিশাল সড়কের এক চালক বলেন, যাত্রীরা আমাদের সঙ্গে তর্ক করেন। অথচ এসব সড়কের বাসে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত চালকের হাতে নেই। মালিক সমিতি ও সরকার যে ভাড়া নির্ধারণ করবে, সেটাই কার্যকর হবে। তেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন মালিকদের ওপর যে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া দরকার সাধারণ যাত্রীদের।
গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন পরিচালনার ব্যয় বেড়েছে। এ কারণে ভাড়া সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। তবে নতুন ভাড়া নির্ধারণের আগে কোনো কোম্পানী, বাস মালিক সমিতি বা চালক কিংবা শ্রমিক নিজেদের মতো করে বাড়তি ভাড়া নিতে পারেন না। সরকার যে ভাড়া নির্ধারণ করবে, মালিক সমিতি সেটিই বাস্তবায়ন করবে।
তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা বা অসৌজন্যমূলক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। তবে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়েও নজরদারি রয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর পরিবহন মালিকদের খরচ বাড়ার বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু নতুন ভাড়া নির্ধারণের আগেই যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায়ের অভিযোগ তৈরি হলে তা নিয়ে বিরোধ হওয়াটাও স্বাভাবিক। ফলে ভাড়া সমন্বয়ের প্রক্রিয়ায় যেমন পরিবহন খাতের বাড়তি ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন, তেমনি সাধারণ যাত্রীদের সামর্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি উঠেছে।
গাজীপুর জেলা বা মহানগর শিল্পাঞ্চল হওয়ায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পোশাক শ্রমিক ও কর্মজীবী মানুষ চন্দ্রা, কোনাবাড়ী, চৌরাস্তা, টঙ্গী, উত্তরা, বোর্ডবাজার, মাওনা, শ্রীপুরসহ বিভিন্ন সড়কে গণপরিবহনে ব্যবহার করেন। গন-পরিবহনের বড় একটি অংশের মাসিক আয়ের ওপর পরিবারের ব্যয় নির্ভর করে। ফলে প্রতিদিনের যাতায়াতে ১০ থেকে ২০,৩০ টাকা বাড়তি ব্যয় হলেও মাস শেষে সেটি তাঁদের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।
যাত্রীদের প্রশ্ন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে ভাড়া বাড়াতে হলে সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সেটি হবে-এটাই নিয়ম। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই যদি রুটভেদে পরিবহনগুলো নিজেদের মতো ভাড়া বাড়িয়ে নেয়, তাহলে যাত্রীদের অভিযোগ শোনার দায়িত্ব কার ? একই সঙ্গে নতুন ভাড়া নির্ধারণের পরও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কার্যকর নজরদারি থাকবে কি না, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ অবস্থায় গাজীপুরের যাত্রীদের দাবি, দ্রুত নতুন ভাড়া নির্ধারণ করে তা প্রতিটি রুটে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হোক। বাসে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে যাত্রী-শ্রমিক বিরোধও অনেকটা কমানো সম্ভব হবে। অন্যদিকে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদেরও নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে নিজেদের মতো করে টাকা না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

Share this news as a Photo Card