
শ.ম.গফুর, কক্সবাজার: জসিম উদ্দিন। একজন টগবগে কিশোর ছিল।শৈশব কাটিয়েছে হাসি-খুশিতে।কিন্তু কে জানতো সেই কিশোর ২০০৭-৮ সালে মস্তিষ্ক বিকৃত হবে।জীবন চলার স্বাভাবিক হুশ-জ্ঞান হারিয়ে দিগ্বিদিক ছুটে বেড়াতো।পরিবারের মেঝ সন্তান হিসেবে সকাল চেষ্টা ছিল সুস্থ্য করে তোলা।খেয়ে না খেয়ে জীবন চলতো জসিমের।
মানসিক ভারসাম্য হারানো জসিম উদ্দিন ২০১৮ সালে মিয়ানমার সীমান্ত লাগোয়া কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী কাস্টমস এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন।সে উখিয়ার ঘাট ঘাটিরবিলের বাসিন্দা আবুল হোসেনের দ্বিতীয় ছেলে।পরিবারের সদস্যরা নানাভাবে খোঁজার চেষ্টা করেছেন, অবশেষে ৮ বছর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি ভিডিওর কল্যাণে জসিমকে খুঁজে পাওয়া গেছে।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ১০ টার দিকে পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধায় জসিমের সাথে দীর্ঘদিন পর পরিবারের ৩ সদস্যের সাক্ষাৎ হয়।জসিমের আপন ছোটভাই মিজানুর রহমান বলেন ,‘০৭-০৮ সালের দিকে ভাইয়া মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ১৮’সালের দিকে আমরা তাকে হারিয়ে ফেলি। কল্পনাও করতে পারিনি তিনি আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। আল্লাহর কাছে তাদের জন্য অনেক দোয়া করি যাদের কারণে ভাইকে ফিরে পেয়েছি। তিনি জানান, গতকাল (২০ সেপ্টেম্বর) ফেসবুকে HopeNest BD নামের একটি পেজে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে ভাইয়ার সন্ধান পাওয়া মাত্র তাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। ভাইয়াকে দেখার পর কক্সবাজার থেকে প্রায় হাজার কিলোমিটার ভ্রমণক্লান্তি নিমেষেই দূর হয়ে গেছে, শীঘ্রই আমরা একসাথে ঘরে ফিরব ইনশাআল্লাহ। হোপনেস্ট বাংলাদেশ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক সংগঠন পরিচালনা করেন রংপুরের যুবক জয়নাল আবেদীন রাজিব। সম্প্রতি তিনি মানসিক ভাবে অপ্রকৃতস্থ অবস্থায় জসিমকে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে দেখতে পেয়ে তার পরিবার খুঁজে পেতে সংগঠনের ফেসবুক পেজে দুইটি ভিডিও প্রচার করেন।
রাজিব বলেন, ‘জসিম ভাইয়ের পরনে প্যান্ট ছাড়া আর কোনো পোশাক ছিল না। নিজের নাম ছাড়া তিনি তেমন কোনো তথ্য দিতে পারছিলেন না। প্রথমে সে নাম বলেন জসিম উদ্দিন, বাবার নাম কি? আবুল হোসেন,বাড়ি কোথায় কাস্টমস, কাস্টমস কোন জায়গায়? বালুখালী তার বাড়ি।এমন একটি তথ্য তিনি জানিয়েছিলেন। আমরা তাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নতুন পোশাক পরিয়ে দিই। এরপর তার পরিবারের সন্ধানে ভিডিওটি প্রকাশ করি।তিনি আরো জানান,’ আলহামদুলিল্লাহ, সেই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা তাকে চিনতে পারেন। পরবর্তীতে তার ছোট ভাই মিজান আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নিশ্চিত করেন যে, তিনি তাদেরই ভাই।৬ বছর ধরে মানবিক কাজে জড়িত স্বেচ্ছাসেবী রাজিব বলেন, ‘দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে আপনজনের কাছে ফিরে আসার এই আনন্দ সত্যিই অসাধারণ। তাদের এই মিলন আমাদের জন্যও অনেক আনন্দের ও আবেগের।এই মানুষটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন—বাংলাবান্ধার সকল ভাই, বিশেষ করে নাজমুল ভাই সহ সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জ্ঞাপন করছি।
পরিবার জানিয়েছে, ব্যক্তিজীবনে অবিবাহিত জসিমের চিকিৎসার জন্য দ্রুতই যাবতীয় ব্যবস্থা করা হবে এবং তার সুস্থতা কামনায় সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করছেন।

শ.ম.গফুর, কক্সবাজার 


















