ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

নির্ধারণের চেয়ে বাড়তি ভাড়া নিলে রুট পারমিট বাতিল করা হবে: সড়কমন্ত্রী

মৃণাল চৌধুরী সৈকত

দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় করলে পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল, জরিমানা ও জবাবদিহির ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পরিবহন ভাড়া সমন্বয় নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
দুই দফায় ভাড়া বাড়ানোর কারণে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়বে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কষ্ট তো হবে। কষ্ট তো আর অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু আমি বলছি যে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বাস্তবিকভাবে জ্বালানি সংকট, জ্বালানির অ্যাভেলেবিলিটি—এগুলো যদি আপনি বিবেচনা করেন, তো সেই জায়গায় রাষ্ট্রকে তো অ্যাডজাস্ট করতে হয়।
জ্বালানির দাম কমার সময় পরিবহন ভাড়া কমানো হয়নি, অথচ এখন দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে, এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সবকিছু বিবেচনায় নিয়েছি। কিন্তু আলোচনার পর আমাদের কাছে যেটা মনে হয়েছে, আমরা যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করতেই সক্ষম হয়েছি। বিবেচনায় অনেক কিছু আছে, কিন্তু বাস্তবতার জায়গাটা হচ্ছে যে, পরিবহন সেক্টরের ব্যয়ও বেড়েছে, মেইনটেনেন্স ব্যয়ও বেড়েছে।
তিনি বলেন, আমি বললাম যে ডলারের ব্যয়টা বেড়েছে, তারা প্রায় ২০ পয়সার মতো ওখানে দাবি করে। এ কথা তো অস্বীকার করবেন না, যাদের ভেহিকেল আছে তারা জানেন যে এক্সেসরিজের প্রাইসটা কেমন বেড়েছে, ওয়ার্ল্ডওয়াইড বেড়েছে, বাংলাদেশেও বেড়েছে। তো সেখান থেকে সরকার অ্যাডজাস্ট করার চেষ্টা করেছে, সবসময় জনস্বার্থ বিবেচনা করে।
মন্ত্রী বলেন, ভাড়া কমাতে পারলে ভালো লাগতো। কিন্তু আমি বলতে চাচ্ছি, জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় ও পরিবহন সেক্টরে প্রভাব তো পড়েই। সেই প্রভাবটা আমরা যৌক্তিকভাবে রাখতে পারলাম কি না-সেটা হচ্ছে প্রশ্ন।
নির্ধারিত ভাড়ার আগে থেকেই বিভিন্ন জায়গায় বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, না, গতবার আমি আমার একবারের অভিজ্ঞতা থেকে বলি—গতবার বাড়িয়েছিলাম ১১ পয়সা, কার্যকর হয়েছে, তার চেয়ে বেশি কেউ নেয়নি। এবার ১৭ পয়সা বাড়ানো হয়েছে পার কিলোমিটার, ২০ টাকা পার লিটার দাম বাড়ার ফলে। এর ব্যত্যয় ঘটবে না এবং ঘটতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার পর বিচ্ছিন্নভাবে গতকাল দু-এক জায়গায় বাড়তি ভাড়া চাওয়া হয়েছে। এই প্রবণতাটা আমাদের দেশে আছে। আমাদের দেশে পরিবহন সেক্টর একেবারে সুশৃঙ্খল, একেবারে নীতি-নির্ধারণ-আদেশ মেনে চলে-তা তো না, এটা তো স্বীকার করতেই হবে। ব্যবস্থা হচ্ছে যে ধরেন, যদি কেউ এই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেয়, তার রুট পারমিট ক্যানসেল হবে, তাকে জবাবদিহির আওতায় নেওয়া হবে, ফাইনের ব্যবস্থা থাকবে, আগামীতে রুট পারমিট থাকবে কি না—সেটা নিয়েও প্রশ্ন।
মনিটরিং কঠোরভাবে থাকবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আবারও বলছি, গতবার আমি করতে সক্ষম হয়েছিলাম, এবার শুরু করেছি, দেখেন থাকে কি না।
জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ভাড়া বাড়ার পর পণ্যের দামও বাড়ে, সাধারণ মানুষের এই উদ্বেগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, না, এখন ধরেন এটা তো বিভিন্ন সেক্টর এখানে কাজ করছে। আমি পরিবহন ভাড়াটা নির্দিষ্ট করতে পেরেছি। আমাদের রাষ্ট্র হিসেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে যে এই প্রয়োজনীয় বাড়তি তেলের দাম যেটা আমাদের করতে হয়েছে, তার অপব্যবহার যেন না হয় এবং তার জন্য মানুষ যৌক্তিক পর্যায়ের চেয়ে বেশি সাফারিং যেন না করে।
সেটা দেখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব-আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে, পরিবহনের অন্য সেক্টর আছে, ব্যবসায়ীরা আছে, সবাইকে সংযত থাকতে হবে।’
সড়কমন্ত্রী বলেন, পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত তারাও জনগণ। সেখানেও শ্রমিক আছে, ৭০ লাখের বেশি শ্রমিক। তারা ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে বাড়াবে, যৌক্তিক পর্যায়ে থাকবে—এটা দেখা হলো আমাদের কাজ। কিন্তু তারা আবার বড় আকারে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটাও রাষ্ট্রের জন্য ভালো না। আবার জনগণও ধরেন বেশি পেমেন্ট করবে, সেটাও কাম্য না। জনগণ যৌক্তিক পেমেন্ট করবে।
তিনি বলেন, ভাড়া বাড়ার একটা নেতিবাচক প্রভাব তো সব জায়গায়ই আছে, কিন্তু সেটা আমরা শেয়ার করে নিতে চাই যৌক্তিকভাবে।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

সরকারি হাসপাতালের সামনে কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

22 September 2026

কালীগঞ্জ সেন্ট্রাল কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com
nagorikbhabna

নির্ধারণের চেয়ে বাড়তি ভাড়া নিলে রুট পারমিট বাতিল করা হবে: সড়কমন্ত্রী

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৫:৫৫:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মৃণাল চৌধুরী সৈকত

দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় করলে পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল, জরিমানা ও জবাবদিহির ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পরিবহন ভাড়া সমন্বয় নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
দুই দফায় ভাড়া বাড়ানোর কারণে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়বে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কষ্ট তো হবে। কষ্ট তো আর অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু আমি বলছি যে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বাস্তবিকভাবে জ্বালানি সংকট, জ্বালানির অ্যাভেলেবিলিটি—এগুলো যদি আপনি বিবেচনা করেন, তো সেই জায়গায় রাষ্ট্রকে তো অ্যাডজাস্ট করতে হয়।
জ্বালানির দাম কমার সময় পরিবহন ভাড়া কমানো হয়নি, অথচ এখন দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে, এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সবকিছু বিবেচনায় নিয়েছি। কিন্তু আলোচনার পর আমাদের কাছে যেটা মনে হয়েছে, আমরা যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করতেই সক্ষম হয়েছি। বিবেচনায় অনেক কিছু আছে, কিন্তু বাস্তবতার জায়গাটা হচ্ছে যে, পরিবহন সেক্টরের ব্যয়ও বেড়েছে, মেইনটেনেন্স ব্যয়ও বেড়েছে।
তিনি বলেন, আমি বললাম যে ডলারের ব্যয়টা বেড়েছে, তারা প্রায় ২০ পয়সার মতো ওখানে দাবি করে। এ কথা তো অস্বীকার করবেন না, যাদের ভেহিকেল আছে তারা জানেন যে এক্সেসরিজের প্রাইসটা কেমন বেড়েছে, ওয়ার্ল্ডওয়াইড বেড়েছে, বাংলাদেশেও বেড়েছে। তো সেখান থেকে সরকার অ্যাডজাস্ট করার চেষ্টা করেছে, সবসময় জনস্বার্থ বিবেচনা করে।
মন্ত্রী বলেন, ভাড়া কমাতে পারলে ভালো লাগতো। কিন্তু আমি বলতে চাচ্ছি, জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় ও পরিবহন সেক্টরে প্রভাব তো পড়েই। সেই প্রভাবটা আমরা যৌক্তিকভাবে রাখতে পারলাম কি না-সেটা হচ্ছে প্রশ্ন।
নির্ধারিত ভাড়ার আগে থেকেই বিভিন্ন জায়গায় বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, না, গতবার আমি আমার একবারের অভিজ্ঞতা থেকে বলি—গতবার বাড়িয়েছিলাম ১১ পয়সা, কার্যকর হয়েছে, তার চেয়ে বেশি কেউ নেয়নি। এবার ১৭ পয়সা বাড়ানো হয়েছে পার কিলোমিটার, ২০ টাকা পার লিটার দাম বাড়ার ফলে। এর ব্যত্যয় ঘটবে না এবং ঘটতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার পর বিচ্ছিন্নভাবে গতকাল দু-এক জায়গায় বাড়তি ভাড়া চাওয়া হয়েছে। এই প্রবণতাটা আমাদের দেশে আছে। আমাদের দেশে পরিবহন সেক্টর একেবারে সুশৃঙ্খল, একেবারে নীতি-নির্ধারণ-আদেশ মেনে চলে-তা তো না, এটা তো স্বীকার করতেই হবে। ব্যবস্থা হচ্ছে যে ধরেন, যদি কেউ এই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেয়, তার রুট পারমিট ক্যানসেল হবে, তাকে জবাবদিহির আওতায় নেওয়া হবে, ফাইনের ব্যবস্থা থাকবে, আগামীতে রুট পারমিট থাকবে কি না—সেটা নিয়েও প্রশ্ন।
মনিটরিং কঠোরভাবে থাকবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আবারও বলছি, গতবার আমি করতে সক্ষম হয়েছিলাম, এবার শুরু করেছি, দেখেন থাকে কি না।
জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ভাড়া বাড়ার পর পণ্যের দামও বাড়ে, সাধারণ মানুষের এই উদ্বেগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, না, এখন ধরেন এটা তো বিভিন্ন সেক্টর এখানে কাজ করছে। আমি পরিবহন ভাড়াটা নির্দিষ্ট করতে পেরেছি। আমাদের রাষ্ট্র হিসেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে যে এই প্রয়োজনীয় বাড়তি তেলের দাম যেটা আমাদের করতে হয়েছে, তার অপব্যবহার যেন না হয় এবং তার জন্য মানুষ যৌক্তিক পর্যায়ের চেয়ে বেশি সাফারিং যেন না করে।
সেটা দেখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব-আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে, পরিবহনের অন্য সেক্টর আছে, ব্যবসায়ীরা আছে, সবাইকে সংযত থাকতে হবে।’
সড়কমন্ত্রী বলেন, পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত তারাও জনগণ। সেখানেও শ্রমিক আছে, ৭০ লাখের বেশি শ্রমিক। তারা ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে বাড়াবে, যৌক্তিক পর্যায়ে থাকবে—এটা দেখা হলো আমাদের কাজ। কিন্তু তারা আবার বড় আকারে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটাও রাষ্ট্রের জন্য ভালো না। আবার জনগণও ধরেন বেশি পেমেন্ট করবে, সেটাও কাম্য না। জনগণ যৌক্তিক পেমেন্ট করবে।
তিনি বলেন, ভাড়া বাড়ার একটা নেতিবাচক প্রভাব তো সব জায়গায়ই আছে, কিন্তু সেটা আমরা শেয়ার করে নিতে চাই যৌক্তিকভাবে।

Share this news as a Photo Card