ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত, দিনে মিলছে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ

  • আব্দুলআওয়াল
  • সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৫:৫৫:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৬৩ বার পঠিত
আব্দুলআওয়াল:   জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম ও কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, পৌর এলাকায় তুলনামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও উপজেলার অধিকাংশ গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।
উপজেলার ৮নং পলবান্ধা  ইউনিয়নের উঃ সিরাজাবাদ  গ্রামের কৃষক মোঃ সুহেল মিয়া  বলেন, “এই গরমে আমরা অতিষ্ঠ। বিদ্যুৎ চলে গেলে আর আসে না। এক বিঘা জমিতে সবজি চাষ করেছি, কিন্তু সেচ দিতে পারছি না। দিনে-রাতে মিলিয়ে চার ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না।”
পলবান্ধা  ইউনিয়নের সিরাজাবাদ  গ্রামের অটোরিকশাচালক মোঃ মোখলেছ আকন্দ বলেন, “অটোরিকশার আয়েই আমার সংসার চলে। বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো চার্জ দিতে পারছি না। ফলে আয় কমে গেছে, পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়াও ব্যাহত হচ্ছে। সিরাজাবাদ খান পাড়া  এলাকার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাহাত  জানায়, সামনে এসএসসি পরীক্ষা। কিন্তু দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না।
এদিকে বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতির মুখে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই লোডশেডিংয়ের কারণে ইসলামপুরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে উপজেলার উন্নয়ন ও বিনিয়োগেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের উপমহাব্যবস্থাপক মো. আবু সাঈদ বলেন, “চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন না থাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। ইসলামপুরে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৬ মেগাওয়াট, অথচ বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬ থেকে ৮ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এ সংকট অনেকটাই কেটে যাবে।”
ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে লোডশেডিংয়ের প্রকৃত কারণ এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

সরকারি হাসপাতালের সামনে কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

22 September 2026

কালীগঞ্জ সেন্ট্রাল কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com
nagorikbhabna

তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত, দিনে মিলছে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৫:৫৫:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
আব্দুলআওয়াল:   জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম ও কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, পৌর এলাকায় তুলনামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও উপজেলার অধিকাংশ গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।
উপজেলার ৮নং পলবান্ধা  ইউনিয়নের উঃ সিরাজাবাদ  গ্রামের কৃষক মোঃ সুহেল মিয়া  বলেন, “এই গরমে আমরা অতিষ্ঠ। বিদ্যুৎ চলে গেলে আর আসে না। এক বিঘা জমিতে সবজি চাষ করেছি, কিন্তু সেচ দিতে পারছি না। দিনে-রাতে মিলিয়ে চার ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না।”
পলবান্ধা  ইউনিয়নের সিরাজাবাদ  গ্রামের অটোরিকশাচালক মোঃ মোখলেছ আকন্দ বলেন, “অটোরিকশার আয়েই আমার সংসার চলে। বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো চার্জ দিতে পারছি না। ফলে আয় কমে গেছে, পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়াও ব্যাহত হচ্ছে। সিরাজাবাদ খান পাড়া  এলাকার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাহাত  জানায়, সামনে এসএসসি পরীক্ষা। কিন্তু দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না।
এদিকে বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতির মুখে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই লোডশেডিংয়ের কারণে ইসলামপুরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে উপজেলার উন্নয়ন ও বিনিয়োগেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের উপমহাব্যবস্থাপক মো. আবু সাঈদ বলেন, “চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন না থাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। ইসলামপুরে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৬ মেগাওয়াট, অথচ বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬ থেকে ৮ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এ সংকট অনেকটাই কেটে যাবে।”
ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে লোডশেডিংয়ের প্রকৃত কারণ এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

Share this news as a Photo Card