রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী: রাজবাড়ী সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খানখানাপুর ইউনিয়নের প্রধান বাজারে নিয়মনীতি ও প্রশাসনের অনুমতির তোয়াক্কা না করেই গড়ে উঠছে একের পর এক বহুতল ভবন। উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদিত নকশা ও ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র ছাড়াই নির্মিত এসব অপরিকল্পিত স্থাপনার কারণে একদিকে ধ্বংস হচ্ছে গ্রামীণ পরিবেশ, অন্যদিকে বাজার এলাকায় তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট ও ভয়াবহ অগ্নিঝুঁকি।
অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে চারতলা ভবন
সম্প্রতি খানখানাপুর বাজারের জনতা ব্যাংকের পাশে গড়ে তোলা হয়েছে একটি বিলাসবহুল চারতলা ভবন। ভবনের মালিক ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন মল্লিক কোনো ধরনের সরকারি প্রশাসনিক অনুমোদন না নিয়েই এটি নির্মাণ করেছেন। উপজেলা থেকে অনুমোদন না নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে আলাউদ্দিন মল্লিক জানান, “বিষয়টি স্থানীয় ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন পরিষদকে জানানো হয়েছিল। তবে সদর উপজেলা প্রশাসন থেকে আলাদা কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।”
এদিকে বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা জানান, তারা সাধারণত ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনুমতি নিয়েই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা ভবনের কাজ করে থাকেন।
’উপর মহলে’র প্রভাবে থেমে নেই কাজ
উপজেলা প্রশাসনের তোয়াক্কা না করে ভবন নির্মাণের বিষয়ে খানখানাপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জনাব আলী বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর খানখানাপুর বাজারে এই ভবনটি নির্মিত হয়েছে। শুরুতেই আমি ভবনের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু ভবন মালিক আলাউদ্দিন মল্লিক উপর মহলে যোগাযোগ করে কাজ চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করেন।”
যা বলছেন ইউপি চেয়ারম্যান
ইউনিয়ন পরিষদের অনুমোদনই যথেষ্ট কি না—এমন প্রশ্নে খানখানাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম ইকবাল হোসেন জানান, ইউপি থেকে ঢালাওভাবে বহুতল ভবনের অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “আমার জানামতে বাজারে কেউ বহুতল ভবন নির্মাণ করলে প্রশাসনিক নিয়মানুযায়ী উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়। এটিই আইনি প্রক্রিয়া। যারা অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ করছেন, আমি তাদের পরামর্শ দেবো যেন অতি দ্রুত উপজেলা প্রশাসনের নিয়ম মেনে বৈধ অনুমোদন গ্রহণ করেন।”
ফায়ার সার্ভিসের তীব্র ক্ষোভ ও সতর্কতা
বাজারের এমন অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও বহুতল ভবন নির্মাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজবাড়ী সদর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা শামীম রেজা। তিনি জানান, বাজারে বড় বা বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন ও ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক।
তিনি আরও বলেন, “ভবনের নিচে পর্যাপ্ত পানির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ওয়াটার রিজার্ভার থাকতে হবে। অথচ রাজবাড়ী ও এর আশপাশের বাজারে একের পর এক ভবন উঠলেও অগ্নিনির্বাপণের জন্য আশেপাশে কোনো পুকুর বা জলাশয় রাখা হচ্ছে না। এছাড়া যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে কিংবা অগ্নিকাণ্ডে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি বহুতল ভবনে বাধ্যতামূলকভাবে দুটি করে সিঁড়ি রাখা উচিত, যাতে মানুষ বিকল্প পথ ব্যবহার করে নিরাপদে বের হতে পারে।”
প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ দাবি
আইন অমান্য করে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার তোয়াক্কা না করে নির্মিত এসব ভবনের বিষয়ে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা। তারা মনে করেন, এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বা অগ্নিকাণ্ডজনিত দুর্ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থেকে যাবে।

রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী 


















