ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

বাড়িতে ঢুকে হামলা, নারীকে মারধর ও স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি:
পূর্ববিরোধের জেরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাড়িতে ঢুকে একই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। আহতরা লালপুর ও বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার দুড়দুড়িয়া (নতুনপাড়া) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী মনিরা খাতুন (৩৯) লালপুর থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে তার ছেলে হাফিজুল ইসলামকে (১৯) ‘পাগল’ বলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আইনাল কাজীর সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। এর জের ধরে আব্দুর রহমান সজল, রিজভী আহম্মেদ, দুলাল হোসেন ও আইনাল কাজীসহ আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, বাড়িতে ঢুকে অভিযুক্তরা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এ সময় মনিরার স্বামী তাদের বাধা দিলে আইনাল কাজীর নির্দেশে তাকে লোহার রড ও গাছের ডাল দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত ও কালশিরার জখম হয়।

মনিরা খাতুন অভিযোগ করেন, তার দুই ছেলে বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি স্বামী ও সন্তানদের বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আব্দুর রহমান সজল তাকে মারধর করে মাটিতে ফেলে দেন এবং তার পরনের পোশাক টেনে ছিঁড়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে পেটে লাথি, বুকে কামড় এবং মাথায় আঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তার মুখের বাম পাশে গুরুতর জখম হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় তার গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা।
পরিবারের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন এবং পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় মনিরা খাতুন বাদী হয়ে লালপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে স্বরেরহাট এলাকার আব্দুর রহমান সজল, রিজভী আহম্মেদ, দুলাল হোসেন এবং দুড়দুড়িয়া এলাকার আইনাল কাজীসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত দুলাল হোসেন বলেন, “তারা আমাদের আত্মীয়। আইনাল কাজীর সঙ্গে মারামারির সময় আমি তাদের থামাতে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়। আমার ছেলে আমাকে বাঁচাতে গেলে তাকেও আহত করা হয়। আমরা বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় বাঘা ও লালপুর থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বাঘা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম জানান, “ওসি স্যারের নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তারা স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করছে।”

বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, “একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
19 October 2026

রাজবাড়ীর সদরের বাণীবহ ইউনিয়নে পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আখতারুজ্জামানের উঠান বৈঠক

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com

বাড়িতে ঢুকে হামলা, নারীকে মারধর ও স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৮:৩৭:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি:
পূর্ববিরোধের জেরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাড়িতে ঢুকে একই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। আহতরা লালপুর ও বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার দুড়দুড়িয়া (নতুনপাড়া) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী মনিরা খাতুন (৩৯) লালপুর থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে তার ছেলে হাফিজুল ইসলামকে (১৯) ‘পাগল’ বলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আইনাল কাজীর সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। এর জের ধরে আব্দুর রহমান সজল, রিজভী আহম্মেদ, দুলাল হোসেন ও আইনাল কাজীসহ আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, বাড়িতে ঢুকে অভিযুক্তরা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এ সময় মনিরার স্বামী তাদের বাধা দিলে আইনাল কাজীর নির্দেশে তাকে লোহার রড ও গাছের ডাল দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত ও কালশিরার জখম হয়।

মনিরা খাতুন অভিযোগ করেন, তার দুই ছেলে বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি স্বামী ও সন্তানদের বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আব্দুর রহমান সজল তাকে মারধর করে মাটিতে ফেলে দেন এবং তার পরনের পোশাক টেনে ছিঁড়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে পেটে লাথি, বুকে কামড় এবং মাথায় আঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তার মুখের বাম পাশে গুরুতর জখম হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় তার গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা।
পরিবারের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন এবং পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় মনিরা খাতুন বাদী হয়ে লালপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে স্বরেরহাট এলাকার আব্দুর রহমান সজল, রিজভী আহম্মেদ, দুলাল হোসেন এবং দুড়দুড়িয়া এলাকার আইনাল কাজীসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত দুলাল হোসেন বলেন, “তারা আমাদের আত্মীয়। আইনাল কাজীর সঙ্গে মারামারির সময় আমি তাদের থামাতে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়। আমার ছেলে আমাকে বাঁচাতে গেলে তাকেও আহত করা হয়। আমরা বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় বাঘা ও লালপুর থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বাঘা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম জানান, “ওসি স্যারের নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তারা স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করছে।”

বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, “একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card