নেতাকর্মীদের ক্ষোভ
বাগেরহাট বিএনপির আহবায়ক-সদস্য সচিবের বিপরীতমুখী অবস্থান

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:২৫:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫
- / ৯৩ বার পঠিত

বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মোস্তাফিজুর রহমানের বহিস্কারাদেশ নিয়ে ধ্রুমজালের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা বিএনপির আহবায়ক স্বাক্ষরিত বহিস্কারাদেশ ও সদস্য সচিব স্বাক্ষরিত বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।দফায়-দফায় সভা-সমাবেশ করছেন বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা। জেলা বিএনপির আহবায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম ও সদস্য সচিব মোজাফফর রহমান আলমের সমন্বয়হীনতায় দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে বলে দাবি নেতাকর্মীদের।
জানাযায়, গেল ১৬ জানুয়ারি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য সচিব মোল্লা মোস্তাফিজুর রহমানকে দলের সকল পদ থেকে বহিষ্কার করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম। বহিস্কারের পরে মোল্লা মোস্তাফিজুর রহমানের সমর্থকরা তার পক্ষে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।বহিষ্কারাদেশ পুনঃবিবেচনার দাবি জানান তারা।
এর প্রায় ৬ মাস পরে ১০ জুন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোজাফফর রহমান আলম এক চিঠির মাধ্যমে মোল্লা মোস্তাফিজুর রহমানের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করেন।এর দুই দিন পরে জেলা বিএনপির আহবায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান মোল্লা মোস্তাফিজুর রহমানের বহিস্কারাদেশ বহাল রয়েছে। তার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করার বৈধতা শুধু কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের রয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তির পরে মোল্লা মোস্তাফিজুর রহমানের সমর্থকরা প্রতিবাদ সমাবেশ, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সব শেষ শনিবার (১৪ জুন) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সামনে মোল্লা মোস্তাফিজুর রহমানের সমর্থকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। তারা মোল্লা মোস্তাফিজুর রহমানের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। মোল্লা মোস্তাফিজুর রহমানকে ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে না দিলে, ওই ইউনিয়নে বিএনপির কমিটি গঠনের জন্য কোন নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না বলে হুশিয়ারী দেন মানববন্ধনকারীরা। মানববন্ধন শেষে একই দাবিতে মোল্লা মোস্তাফিজুর রহমান নিজে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
মোল্লা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আমাকে বহিস্কার করা হয়েছে, ওই ঘটনার সাথে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।রুহুল ও তার ভাইদের বাড়ি ঘর ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের সময় আমি বাগেরহাট জেলা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ছিলাম।এরপরেও আমাকে বহিস্কার করা হয়েছে। সামনে ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠনের জন্য নির্বাচন হবে, আমি ওই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দীতা করার জন্য আমার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে সদস্য সচিব মোজাফফর রহমান আলম বলেন, মোল্লা মোস্তাফিজুর রহমান দলের দূর্দিনের কর্মী।তাকে নিয়ম অনুযায়ী বহিস্কার করা হয়নি। এজন্য আমি তার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছি।
বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের সাংগঠনিক ক্ষমতা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আহবায়কও আমার সাথে আলোচনা না করে, বহিস্কার করেছিল। তাই আমিও প্রত্যাহার করেছি। দুই-চার দিনের মধ্যে কে সঠিক কে ভুল তা প্রমান হয়ে যাবে।
এদিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম বলেন, দলের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে অনেককে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। আর মোল্লা মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গুলো গুরুত্বর ছিল। তাই তাকে বহিস্কার করা হয়েছে। তার বহিস্কারাদেশ এখনও বহাল রয়েছে। সদস্য সচিব কোন ভাবেই এই বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে পারে না। তার সে সাংগঠনিক ক্ষমতা নেই।
গেল বছরের আগস্টের পর থেকে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহবায়ক রুহুল আমিন ওরফে রুহুল মেম্বর ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মোস্তাফিজুর রহমানের মধ্যে প্রকাশ্যে বিরোধ দেখা যায়। উভয় পক্ষের লোকজনের মাঝে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা চলতে থাকে। চলতি বছরের ০৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় রুহুল মেম্বার ও তার ৭ ভাইয়ের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এর জন্য মোল্লা মোস্তাফিজুর রহমান ও তার লোকজনকে দায়ী করা হয়।




















