ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
তাজা খবর
“কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র অভিনন্দন
উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ১৪৪ তম খুলনা দিবস!
চট্রগ্রামের জব্বারের বলি খেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হোমনার বাঘা শরীফ
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
বাড়ছে মশার উপদ্রব, জনজীবনে অস্বস্তি, স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কা

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:২৭:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
- / ৮২ বার পঠিত

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: রাজশাহী মহানগরীতে সম্প্রতি মশার উপদ্রব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্ধ্যা নামলেই মশার আক্রমণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন নগরবাসী। বাসাবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এলাকা, বাজার ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আশপাশ—প্রায় সর্বত্রই মশার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
নগরীর সাগরপাড়া, শিরোইল, আলুপট্টি, লক্ষ্মীপুর, মতিহার, উপশহর, কাশিয়াডাঙ্গা ও হেতেমখাঁসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মশার উপদ্রব ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর দলে দলে মশা ঘরে ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখতে হচ্ছে। এতে গরমের মধ্যে আরও অস্বস্তি বাড়ছে। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত ও কার্যকর মশা নিধন কার্যক্রম না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। অনেক বাসিন্দা বলেন, আগে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। কিন্তু এখন সে ধরনের কার্যক্রম খুব কম দেখা যায়। ফলে মশার উপদ্রব দ্রুত বাড়ছে বলে তাদের দাবি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশার সংখ্যা এভাবে বাড়তে থাকলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। কোথাও যদি দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকে, তবে সেখানে খুব দ্রুত মশার লার্ভা জন্ম নেয়। অপরিষ্কার নালা-নর্দমা, বন্ধ ড্রেন, জলাবদ্ধতা এবং নির্মাণাধীন ভবনের আশপাশে জমে থাকা পানিও মশার বংশবিস্তার বাড়িয়ে দেয়।
নগরীর সচেতন নাগরিকদের মতে, অনেক এলাকায় ড্রেন ও নালা-নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় মশার বংশবিস্তার সহজ হয়ে যাচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে এবং সেসব স্থান মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে।
এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, বছরের এই সময়টিকে সাধারণত মশার প্রজনন বা ব্রিডিং সময় হিসেবে ধরা হয়। এ সময় মশা দ্রুত বংশবিস্তার করে। ফলে নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম চালালেও পুরোপুরি মশার উপদ্রব কমানো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। সূত্রটি আরও জানায়, শুধু ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধন করলে তা সাময়িকভাবে মশার সংখ্যা কমালেও স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায় না। কার্যকরভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মশার লার্ভা ধ্বংস করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সেই লক্ষ্যেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় লার্ভা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ড্রেন ও নালা-নর্দমায় লার্ভিসাইড প্রয়োগসহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
সিটি কর্পোরেশন নাগরিকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বাসাবাড়ির আশপাশে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখা, ফুলের টব, পানির ট্যাংক, ফ্রিজের ট্রে ও ছাদে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং রাতে মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে নগরবাসীর একটি অংশ সিটি কর্পোরেশনের এই দাবির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন। তাদের মতে, যদি নিয়মিত লার্ভা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকে, তাহলে মশার উপদ্রব এতটা বাড়ছে কেন—এ প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। অনেক বাসিন্দার অভিযোগ, মাঝে মাঝে ফগিং কার্যক্রম দেখা গেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত।
নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা জানান, আগে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধন এবং ড্রেনে ওষুধ ছিটানোর কাজ করা হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যক্রম খুব একটা চোখে পড়ছে না। ফলে মশার উপদ্রব দিন দিন বাড়ছে বলে তিনি মনে করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মশা নিয়ন্ত্রণে শুধু ফগিং বা সাময়িক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে নিয়মিত নজরদারি এবং নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি—এসব পদক্ষেপ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
তারা আরও মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং স্থানীয় কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো গেলে মশা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল পাওয়া যেতে পারে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে মশার উপদ্রব অব্যাহত থাকলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। তাই দ্রুত কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন রাজশাহীর বাসিন্দারা। নগরবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিত উদ্যোগ নিলে অচিরেই মশার উপদ্রব কমে আসবে এবং নগরবাসী স্বস্তির পরিবেশ ফিরে পাবে।


















