রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী: দীর্ঘ চার দশক—অর্থাৎ দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে চলে আসা জমিজমা সংক্রান্ত এক জটিল বিরোধের অবসান ঘটেছে। কোনো আইনি প্রক্রিয়া বা সামাজিক বৈঠক যা এতদিন সমাধান করতে পারেনি, তা অবশেষে আলোর মুখ দেখল রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের আন্তরিক হস্তক্ষেপে। রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়ন বিএনপির অন্যতম নেতা মো. আওয়াল হোসেন টুলু এবং আমজাদ হোসেন বাবুর জোরালো ও নিরপেক্ষ ভূমিকায় এই দীর্ঘস্থায়ী পারিবারিক কলহের শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খানখানাপুরের দুটি হিন্দু পরিবারের মধ্যে জমি নিয়ে এই বিরোধ চলে আসছিল যুগের পর যুগ ধরে। বিগত ৪০ বছরে বহুবার সালিশ-বৈঠক এবং সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো পক্ষই একটি স্থায়ী সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে দুই পরিবারের মধ্যে মানসিক দূরত্ব ও সামাজিক অস্থিরতা দিন দিন বাড়ছিল।
সম্প্রতি বিষয়টি সমাধানের জন্য দুই পক্ষই খানখানাপুর ইউনিয়ন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা আওয়াল হোসেন টুলু ও আমজাদ হোসেন বাবুর শরণাপন্ন হন। বিষয়টি আমলে নিয়ে এই দুই নেতা উভয় পক্ষকে সাথে নিয়ে দফায় দফায় বসেন, জমির কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেন এবং একটি ন্যায়সংগত ও গ্রহণযোগ্য ফর্মুলা তৈরি করেন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে অবশেষে উভয় পরিবারই এই সমাধান মেনে নেন এবং পরস্পরের সাথে কোলাকুলি ও মিষ্টি মুখ করার মাধ্যমে দীর্ঘ ৪০ বছরের শত্রুতার ইতি টানেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী দুই পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন:
“আমরা গত ৪০ বছর ধরে এই একটা ঝামেলা নিয়ে প্রতিনিয়ত মানসিক কষ্টে ভুগেছি। এত যুগ পার হয়ে গেল কিন্তু কোনো সমাধান মেলেনি। আজ টুলু ভাই আর বাবু ভাইয়ের জোরালো এবং নিরপেক্ষ ভূমিকার কারণে আমরা শান্তিতে ঘুমাতে পারব। আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ, আমরা আজ অনেক খুশি।”
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা আওয়াল হোসেন টুলু ও আমজাদ হোসেন বাবু জানান, “দল-মত বা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সব মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য। দুটি পরিবারের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর করতে পেরে এবং তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আমাদেরও খুব ভালো লাগছে। আমরা আগামীতেও খানখানাপুর ইউনিয়নের যেকোনো সামাজিক সমস্যা সমাধানে সাধারণ মানুষের পাশে থাকব।”
এই সফল ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পর স্থানীয় এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে বিএনপি নেতাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে। এলাকায় এখন স্বস্তির আমেজ বিরাজ করছে।

রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী 



















