ঢাকা, বাংলাদেশ। , সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

মহাসড়কে আলু ফেলে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ

রহমত আল আকাশ, দিনাজপুর
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৩৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / ১২০ বার পঠিত

আলু সংরক্ষণে হিমাগারভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। মহাসড়কে আলু ফেলে হিমাগার মালিক সমিতির ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।

বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শহীদ মিনারের সামনে আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির ব্যানারে প্রথমে মানববন্ধন করেন। পরে তাঁরা পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কে আলু ফেলে অবরোধ করেন।

আলুচাষিদের আলু ন্যায্যমূল্য ও দাবি পূরণে রাস্তায় আলু নিয়ে গড়াগড়ি দিতে দেখা যায়। খবর পেয়ে বীরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে এলাহী ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর সেখানে এসে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। পরে আন্দোলনকারীরা ৭ দিনে আল্টিমেটাম দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

আলু চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতি সভাপতি আব্দুল মালেক মানববন্ধনে জানান, গত কয়েকবছর থেকে তারা আলু সংরক্ষণে নানা ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এতে করে আলু চাষী ও ব্যবসায়ীগণ আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পুঁজি হারিয়েছেন। তাই, গত দুই বছরে আলু উৎপাদনে আলু চাষীগণ আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন, ফলে দেশে আলুর ঘাটতি দেখা যায় এবং আলুর দাম অনেক বেড়ে ভোক্তার নাগালের বাহিরে চলে যায়। চলতি মৌসুমে আলু উৎপাদনের জন্য আলু চাষীগণ বেশি দামে জমি লীজ নিয়ে বীজ আলু এবং সার কিনে আলু আবাদ করেছেন। চলতি মৌসুমে আলু আবাদ বেশী হওয়ায় হিমাগার মালিকগণ আলু সংরক্ষনে ভাড়া বাড়ানোর দুরভিসন্ধি করছেন। বাধ্য হয়ে তারা রাস্তায় নেমেছেন।

বীরগঞ্জের ইউএনও ফজলে এলাহী বলেন, হিমাগার মালিক সমিতি যে দাম বাড়িয়েছে, তা অন্যায্য। বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি। জেলা প্রশাসক বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কনফারেন্সে উপস্থাপন করবেন। জাতীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে সমাধানেরও চেষ্টা করা হবে।

আলুচাষিদের দাবিগুলো হলো হিমাগারের প্রতি বস্তা আলু সংরক্ষণে ন্যায্য ভাড়া নির্ধারণ, হয়রানি বন্ধ, আলু শুকানোর জন্য শেড চার্জ নামমাত্র করা, আলু সংরক্ষণের জন্য হিমাগার মালিকেরা যে ঋণ দেন, তা ব্যাংকের সুদের হারের চেয়ে ২ শতাংশের বেশি নির্ধারণ না করা। হিমাগার মালিকদের অবহেলার কারণে যদি আলু নষ্ট হয় তবে তার বাজার অনুয়ায়ী সমমূল্য পরিশোধ করা।

মানববন্ধনে কৃষকদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন ধলু, কৃষক শফিকুল ইসলাম প্রমূখ।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

মহাসড়কে আলু ফেলে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৩৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

আলু সংরক্ষণে হিমাগারভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। মহাসড়কে আলু ফেলে হিমাগার মালিক সমিতির ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।

বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শহীদ মিনারের সামনে আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির ব্যানারে প্রথমে মানববন্ধন করেন। পরে তাঁরা পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কে আলু ফেলে অবরোধ করেন।

আলুচাষিদের আলু ন্যায্যমূল্য ও দাবি পূরণে রাস্তায় আলু নিয়ে গড়াগড়ি দিতে দেখা যায়। খবর পেয়ে বীরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে এলাহী ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর সেখানে এসে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। পরে আন্দোলনকারীরা ৭ দিনে আল্টিমেটাম দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

আলু চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতি সভাপতি আব্দুল মালেক মানববন্ধনে জানান, গত কয়েকবছর থেকে তারা আলু সংরক্ষণে নানা ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এতে করে আলু চাষী ও ব্যবসায়ীগণ আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পুঁজি হারিয়েছেন। তাই, গত দুই বছরে আলু উৎপাদনে আলু চাষীগণ আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন, ফলে দেশে আলুর ঘাটতি দেখা যায় এবং আলুর দাম অনেক বেড়ে ভোক্তার নাগালের বাহিরে চলে যায়। চলতি মৌসুমে আলু উৎপাদনের জন্য আলু চাষীগণ বেশি দামে জমি লীজ নিয়ে বীজ আলু এবং সার কিনে আলু আবাদ করেছেন। চলতি মৌসুমে আলু আবাদ বেশী হওয়ায় হিমাগার মালিকগণ আলু সংরক্ষনে ভাড়া বাড়ানোর দুরভিসন্ধি করছেন। বাধ্য হয়ে তারা রাস্তায় নেমেছেন।

বীরগঞ্জের ইউএনও ফজলে এলাহী বলেন, হিমাগার মালিক সমিতি যে দাম বাড়িয়েছে, তা অন্যায্য। বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি। জেলা প্রশাসক বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কনফারেন্সে উপস্থাপন করবেন। জাতীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে সমাধানেরও চেষ্টা করা হবে।

আলুচাষিদের দাবিগুলো হলো হিমাগারের প্রতি বস্তা আলু সংরক্ষণে ন্যায্য ভাড়া নির্ধারণ, হয়রানি বন্ধ, আলু শুকানোর জন্য শেড চার্জ নামমাত্র করা, আলু সংরক্ষণের জন্য হিমাগার মালিকেরা যে ঋণ দেন, তা ব্যাংকের সুদের হারের চেয়ে ২ শতাংশের বেশি নির্ধারণ না করা। হিমাগার মালিকদের অবহেলার কারণে যদি আলু নষ্ট হয় তবে তার বাজার অনুয়ায়ী সমমূল্য পরিশোধ করা।

মানববন্ধনে কৃষকদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন ধলু, কৃষক শফিকুল ইসলাম প্রমূখ।