ঢাকা, বাংলাদেশ। , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

মাঠ জুড়ে শোভা পাচ্ছে কৃষকদের স্বপ্নের ফসল সরিষার 

সুশান্ত মালাকার, দুপচাঁচিয়া, (বগুড়া) প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৪৪:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৪০ বার পঠিত
 সুশান্ত মালাকার, দুপচাঁচিয়া, (বগুড়া) প্রতিনিধি: শীতের শুরুর দিকে, যখন প্রকৃতি তার রূপ বদলায়, তখন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের ফসলের মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের হলুদ সমারোহ চোখে পড়ে। সরিষা ফুলের হলুদ রঙের ছটা গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে পড়ে, সেসব জায়গায় শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে এক নতুন শোভা নিয়ে উপস্থিত হয়। মাঠজুড়ে সরিষার ফুলের সমারোহ যেন নতুন জীবনের বার্তা নিয়ে আসে, যা অনুপ্রেরণা দেয় কবিদেরও। সরিষা ফুল নিয়ে কবিদের হাজারও কবিতা রয়েছে, যেখানে তারা এই ফুলের সৌন্দর্য এবং এর সাথে সম্পর্কিত প্রকৃতির রূপের নানা দিক তুলে ধরেছেন। শীত মৌসুম আসতেই  প্রকৃতিপ্রেমীরা একেবারে ডুবে যান সরিষা ফুলের সৌন্দর্যে। সরিষা ফুলের সমারোহ যেন প্রকৃতির এক মায়াবী রূপে পরিণত হয়। গ্রামাঞ্চলে ফসলের মাঠে এই হলুদ ফুলের বিস্তার শুধু মানুষের চোখকে মুগ্ধ করে না, বরং মানুষের মনের গভীরে এক শান্তির অনুভূতি ছড়িয়ে দেয়। শীতের হাওয়া, সরিষার রঙিন সমারোহ, আর মাঠে জুড়ে বিস্তৃত সবুজ প্রকৃতি মিলিয়ে এক অপরূপ দৃশ্য সৃষ্টি হয়। এমনই দৃশ্য চোখে পড়ে বগুড়ার দুপচাচিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠে। দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠে সবে মাত্র উঁকি দিচ্ছে সদ্য ফোটা সরিষা গাছের হলুদ বর্ণের ফুল। আর এই সরিষা ফুলের সঙ্গেই যেন মিশে আছে হাজারও কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। চলতি রবি মৌসুমে সরিষা চাষে লাভের স্বপ্নে বিভোর উপজেলার কয়েক হাজার কৃষক। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে এ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে বারি-১৪, বারি-১৫, বারি ১৭, বারি ১৮ সহ বিভিন্ন জাতের প্রায় ৩ হাজার ৪শ ৬০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আবাদ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই কম বেশি সরিষার চাষ করা হয়েছে। উন্নত জাত ও দেশীয় জাতের সরিষার বীজ বপন করছেন কৃষকরা। তবে প্রচলিত দেশি সরিষার চেয়ে উন্নত জাতের বারি-১৪ ও বারি-১৫ ফলন বেশি হওয়ায় এ দুই জাতের সরিষা চাষে বেশি আগ্রহী বলে জানান কৃষকরা।
উপজেলার তালোড়া ইউনিয়নের কইল গ্রামের নুরুল ইসলাম জানান, এই এলাকায় সরিষার চাষ বেশ ভালোই হয়। এই সরিষা ফুলের দৃশ্য দেখতে শহর থেকে অনেক প্রকৃতিপ্রেমী আসেন। আমি এ বছর ২ বিঘা জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করেছি। এখন পর্যন্ত গাছের অবস্থা অনেক ভালো দেখা যাচ্ছে। যদি আবহাওয়া অনুকলে থাকে, তাহলে ভালো ফলনের আশা করছি। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মুহাম্মদ  সাইফুল আবেদীন বলেন, এ উপজেলায় ৩ হাজার ৪শ ৬০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। এবং সরিষা চাষ আরও বৃদ্ধি করার জন্য কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে চাষীদের মাঝে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

মাঠ জুড়ে শোভা পাচ্ছে কৃষকদের স্বপ্নের ফসল সরিষার 

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৪৪:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
 সুশান্ত মালাকার, দুপচাঁচিয়া, (বগুড়া) প্রতিনিধি: শীতের শুরুর দিকে, যখন প্রকৃতি তার রূপ বদলায়, তখন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের ফসলের মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের হলুদ সমারোহ চোখে পড়ে। সরিষা ফুলের হলুদ রঙের ছটা গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে পড়ে, সেসব জায়গায় শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে এক নতুন শোভা নিয়ে উপস্থিত হয়। মাঠজুড়ে সরিষার ফুলের সমারোহ যেন নতুন জীবনের বার্তা নিয়ে আসে, যা অনুপ্রেরণা দেয় কবিদেরও। সরিষা ফুল নিয়ে কবিদের হাজারও কবিতা রয়েছে, যেখানে তারা এই ফুলের সৌন্দর্য এবং এর সাথে সম্পর্কিত প্রকৃতির রূপের নানা দিক তুলে ধরেছেন। শীত মৌসুম আসতেই  প্রকৃতিপ্রেমীরা একেবারে ডুবে যান সরিষা ফুলের সৌন্দর্যে। সরিষা ফুলের সমারোহ যেন প্রকৃতির এক মায়াবী রূপে পরিণত হয়। গ্রামাঞ্চলে ফসলের মাঠে এই হলুদ ফুলের বিস্তার শুধু মানুষের চোখকে মুগ্ধ করে না, বরং মানুষের মনের গভীরে এক শান্তির অনুভূতি ছড়িয়ে দেয়। শীতের হাওয়া, সরিষার রঙিন সমারোহ, আর মাঠে জুড়ে বিস্তৃত সবুজ প্রকৃতি মিলিয়ে এক অপরূপ দৃশ্য সৃষ্টি হয়। এমনই দৃশ্য চোখে পড়ে বগুড়ার দুপচাচিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠে। দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠে সবে মাত্র উঁকি দিচ্ছে সদ্য ফোটা সরিষা গাছের হলুদ বর্ণের ফুল। আর এই সরিষা ফুলের সঙ্গেই যেন মিশে আছে হাজারও কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। চলতি রবি মৌসুমে সরিষা চাষে লাভের স্বপ্নে বিভোর উপজেলার কয়েক হাজার কৃষক। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে এ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে বারি-১৪, বারি-১৫, বারি ১৭, বারি ১৮ সহ বিভিন্ন জাতের প্রায় ৩ হাজার ৪শ ৬০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আবাদ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই কম বেশি সরিষার চাষ করা হয়েছে। উন্নত জাত ও দেশীয় জাতের সরিষার বীজ বপন করছেন কৃষকরা। তবে প্রচলিত দেশি সরিষার চেয়ে উন্নত জাতের বারি-১৪ ও বারি-১৫ ফলন বেশি হওয়ায় এ দুই জাতের সরিষা চাষে বেশি আগ্রহী বলে জানান কৃষকরা।
উপজেলার তালোড়া ইউনিয়নের কইল গ্রামের নুরুল ইসলাম জানান, এই এলাকায় সরিষার চাষ বেশ ভালোই হয়। এই সরিষা ফুলের দৃশ্য দেখতে শহর থেকে অনেক প্রকৃতিপ্রেমী আসেন। আমি এ বছর ২ বিঘা জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করেছি। এখন পর্যন্ত গাছের অবস্থা অনেক ভালো দেখা যাচ্ছে। যদি আবহাওয়া অনুকলে থাকে, তাহলে ভালো ফলনের আশা করছি। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মুহাম্মদ  সাইফুল আবেদীন বলেন, এ উপজেলায় ৩ হাজার ৪শ ৬০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। এবং সরিষা চাষ আরও বৃদ্ধি করার জন্য কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে চাষীদের মাঝে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।