ঢাকা, বাংলাদেশ। , সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

মিথ্যা অপবাদের প্রতিবাদ করায় গাছে বেঁধে কিশোরীকে নির্যাতনের অভিযোগ

শাহীন শহীদ
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:১৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / ১১৮ বার পঠিত

Oplus_131072

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায়  বাবার বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগের প্রতিবাদ করায় নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পরে কিশোরীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার  এ ঘটনা ঘটেছে উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের কিতাবখা  এলাকায়।

রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তসলিম উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

কিশোরীর অভিযোগ করেন- মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে কিশোরী তার দাদির কাছে গেলে তার দুঃসম্পর্কের দাদা আব্দুল কাদেরের সঙ্গে তর্ক হয়। এ সময় কাদেরের নির্দেশে তাঁর দাদির বোন আয়শা এবং আয়শার সতিন মায়া তাঁকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করেন। ওড়না গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করার চেষ্টাসহ বিভিন্নভাবে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এ সময় তাঁকে পানিও খেতে দেওয়া হয়নি। পরে খবর পেয়ে বেলা ৩টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

কিশোরী ও তার পরিবারের লোকজন জানায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর ছোট বোনের হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য তার দাদি কিশোরীর বাবাকে একটি গরু দেন। কিন্তু বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি আয়শা, মায়া ও কাদের। তাঁরা কিশোরীর বাবার বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ আনেন। আব্দুল কাদের (সাবেক মেম্বার) চৌকিদার পাঠিয়ে চুরির দায় দিয়ে কিশোরীর পরিবারকে হুমকি দেন। বাবার বিরুদ্ধে ওঠা চুরির অপবাদের প্রতিবাদ জানাতে মঙ্গলবার সকালে দাদির বাড়িতে যায় ওই কিশোরী। এ সময় প্রতিবেশী দাদা ও সাবেক মেম্বার আব্দুল কাদেরের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা  হয়। তখন কাদের তার বাড়ির উঠানে নবম শ্রেণির ওই কিশোরীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখার নির্দেশ দেন।

আটকৃত অভিযুক্ত নারীর নাম মায়া। তিনি সম্পর্কে ভুক্তভোগী কিশোরীর দাদি বলে জানা গেছে। তবে ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী কিশোরী। বাকি অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের এবং কিশোরীর দাদির বোন আয়শা। আব্দুল কাদেরের নির্দেশেই কিশোরীকে বেঁধে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেছে।

ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়- বাবার বিরুদ্ধে চুরির অপবাদের প্রতিবাদ করতে দাদির সঙ্গে দেখা করতে গেলে আব্দুল কাদের কয়েকজনের সহায়তায় সকাল ৯টার দিকে আমাকে বেঁধে রাখেন। তাঁরা বলেন, আমাকে ধরলে নাকি আমার আম্মু-আব্বু আসবে। তখন তাঁদের ধরবেন। কিশোরীর বাবার অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাঁর মেয়েকে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি জড়িত সবার বিচারের দাবি করেন।

ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে আব্দুল কাদের ও আয়শা পালিয়ে যান। পুলিশ মায়া নামের অভিযুক্ত এক নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিক বলেন, ‘ওর (কিশোরী) পিঠের চামড়া ছিড়ি দেওয়া লাগত। এত বেয়াদব মেয়ে হয়। তার বাবা কেন গরু চুরি করল? আমি চাইছিলাম অভিভাবক আসলে ফয়সালা করে দেব। কিন্তু এসে শুনলাম পুলিশ আসছে এসেছে। চেয়ারম্যানের অভিযোগ, কিশোরীর বাবা গরু ‘চুরি’ করে নিয়ে যাওয়ায় তার দাদি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ওসি তসলিম উদ্দিন বলেন, কিশোরীকে উদ্ধার এবং এক নারীকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। কিশোরীর পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে বাকি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

 

 

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

মিথ্যা অপবাদের প্রতিবাদ করায় গাছে বেঁধে কিশোরীকে নির্যাতনের অভিযোগ

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:১৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায়  বাবার বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগের প্রতিবাদ করায় নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পরে কিশোরীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার  এ ঘটনা ঘটেছে উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের কিতাবখা  এলাকায়।

রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তসলিম উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

কিশোরীর অভিযোগ করেন- মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে কিশোরী তার দাদির কাছে গেলে তার দুঃসম্পর্কের দাদা আব্দুল কাদেরের সঙ্গে তর্ক হয়। এ সময় কাদেরের নির্দেশে তাঁর দাদির বোন আয়শা এবং আয়শার সতিন মায়া তাঁকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করেন। ওড়না গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করার চেষ্টাসহ বিভিন্নভাবে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এ সময় তাঁকে পানিও খেতে দেওয়া হয়নি। পরে খবর পেয়ে বেলা ৩টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

কিশোরী ও তার পরিবারের লোকজন জানায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর ছোট বোনের হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য তার দাদি কিশোরীর বাবাকে একটি গরু দেন। কিন্তু বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি আয়শা, মায়া ও কাদের। তাঁরা কিশোরীর বাবার বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ আনেন। আব্দুল কাদের (সাবেক মেম্বার) চৌকিদার পাঠিয়ে চুরির দায় দিয়ে কিশোরীর পরিবারকে হুমকি দেন। বাবার বিরুদ্ধে ওঠা চুরির অপবাদের প্রতিবাদ জানাতে মঙ্গলবার সকালে দাদির বাড়িতে যায় ওই কিশোরী। এ সময় প্রতিবেশী দাদা ও সাবেক মেম্বার আব্দুল কাদেরের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা  হয়। তখন কাদের তার বাড়ির উঠানে নবম শ্রেণির ওই কিশোরীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখার নির্দেশ দেন।

আটকৃত অভিযুক্ত নারীর নাম মায়া। তিনি সম্পর্কে ভুক্তভোগী কিশোরীর দাদি বলে জানা গেছে। তবে ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী কিশোরী। বাকি অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের এবং কিশোরীর দাদির বোন আয়শা। আব্দুল কাদেরের নির্দেশেই কিশোরীকে বেঁধে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেছে।

ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়- বাবার বিরুদ্ধে চুরির অপবাদের প্রতিবাদ করতে দাদির সঙ্গে দেখা করতে গেলে আব্দুল কাদের কয়েকজনের সহায়তায় সকাল ৯টার দিকে আমাকে বেঁধে রাখেন। তাঁরা বলেন, আমাকে ধরলে নাকি আমার আম্মু-আব্বু আসবে। তখন তাঁদের ধরবেন। কিশোরীর বাবার অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাঁর মেয়েকে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি জড়িত সবার বিচারের দাবি করেন।

ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে আব্দুল কাদের ও আয়শা পালিয়ে যান। পুলিশ মায়া নামের অভিযুক্ত এক নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিক বলেন, ‘ওর (কিশোরী) পিঠের চামড়া ছিড়ি দেওয়া লাগত। এত বেয়াদব মেয়ে হয়। তার বাবা কেন গরু চুরি করল? আমি চাইছিলাম অভিভাবক আসলে ফয়সালা করে দেব। কিন্তু এসে শুনলাম পুলিশ আসছে এসেছে। চেয়ারম্যানের অভিযোগ, কিশোরীর বাবা গরু ‘চুরি’ করে নিয়ে যাওয়ায় তার দাদি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ওসি তসলিম উদ্দিন বলেন, কিশোরীকে উদ্ধার এবং এক নারীকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। কিশোরীর পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে বাকি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।