ঢাকা , বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

মিলন রানী দাসের মানবেতর জীবন যাপন

অরবিন্দ রায়, নরসিংদী:   জীবনের শেষ প্রান্তে এসে চরম অসহায়ত্ব ও দারিদ্র্যের সাথে বিধবা মিলন রানী দাস প্রতিনিয়ত জীবনের সাথে লড়াই করছেন। বয়সের ভারে নত এই বৃদ্ধার নেই কোনো উপার্জনের পথ, নেই স্বামী, সন্তান বা স্বজনের নির্ভরতা। ভাঙ্গাচোরা, জরাজীর্ণ একটি ঘরেই মিলন রানীর মানবেতর জীবন যাপন করছেন। নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার মাছিমপুর ইউনিয়নের ধানুয়া উত্তরপাড়া গ্রামের ৮৩ বছর বয়সী বিধবামিলন রানী দাসের জীবনের শেষ বয়সটুকু কাটছে চরম অসহায়ত্ব আর অনিশ্চয়তার মধ্যে।
মিলন রানীর বসত ঘরের টিনের চালা ও ভেড়া ভেঙ্গে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভিতর পানি পড়ে, আবার প্রচন্ড গরমে ঘরে থাকা কষ্টকর। রাতেও একা ঘরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়। দীর্ঘদিন ধরেই দুর্বিষহ জীবন যাবন করছে মিলন রানী।

স্হানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বামী মারা যাবার পর থেকেই চরম কষ্টে দিন পার করছেন মিলন রানী দাস। তিনি বয়সজনিত কারনে কোনো কাজ করতে পারে না। প্রতিবেশীদের সহায়তা ও মানুষের দানের ওপর নির্ভর করে কোনোমতে খাবারের ব্যবস্হা হয়।
স্বামী নেই, সন্তান নেই,  মাথা গোঁজার মতো নিরাপদ কোনো আশ্রয় নেই।  বহু বছরের পরের জায়গায় পুরোনো যেটিনের ঘরটি ছিল তাঁর একমাত্র ঠিকানা, সেটিও ইতোমধ্যে ধসে পড়েছে। সেই ধসে পড়া, বসবাসের অযোগ্য ঘরেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই বৃদ্ধা। ঘরটির টিনের বেড়ার অধিকাংশ অংশ ভেঙে পড়ে গেছে, কোথাও কোথাও বেড়া নেই। ছাউনি ও কাঠামোর বিভিন্ন অংশ ধসে পড়েছে। দরজা-জানালা ভাঙাচোরা এবং পুরো ঘরটি এখন অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টি, ঝড় কিংবা রোদ—কোনো কিছু থেকেই রক্ষা পাওয়ার উপায় নেই। খোলা আকাশের নিচে থাকার মতো মিলন রানী দিন-রাত কাটছে।
মিলন রানী দাস শিবপুর উপজেলার মাছিমপুর ইউনিয়নের ধানুয়া উত্তরপাড়া গ্রামের স্বামী মৃত সুচিন্দ্র চন্দ্র দাসএর ২য় স্ত্রী। তার কোন ছেলে মেয়ে নেই। প্রথম সংসারে একমাত্র ছেলে তার বাবার মৃত্যুর পর সকলসম্পত্তি বিক্রি করে চলে গেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, সমাজের সবচেয়ে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিকনিরাপত্তা কর্মসূচি থাকলেও মিলন রানী দাস এখনো প্রয়োজনীয় সহায়তা পাননি।  একটি নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকৃত অসহায় মানুষ অনেক সময় সরকারি ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। তারা দ্রুত মিলন রানী দাসের জন্য একটি নিরাপদ ঘরের ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয়চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফারজানা ইয়াসমিন-গনমাধ্যম কে জানান,   অসহায় বিধবা মিলন রানী দাসের জন্য ঘর নির্মাণে সহায়তা হিসেবে দুই বান্ডিলঢেউটিন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি তাঁর অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার বিষয়েও খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও মানবিক সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে মিলন রানী দাসের কষ্ট অনেকটাই দূর হবে। জীবনের শেষ বয়সে মিলন রানী দাসের প্রত্যাশা একটি নিরাপদ আশ্রয়, দু’ বেলা খাবারের নিশ্চয়তা।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :

সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের নিয়ে মতবিনিময়

29 July 2026

পুবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস সেবার যাত্রা শুরু

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

মিলন রানী দাসের মানবেতর জীবন যাপন

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৫:৩৮:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

অরবিন্দ রায়, নরসিংদী:   জীবনের শেষ প্রান্তে এসে চরম অসহায়ত্ব ও দারিদ্র্যের সাথে বিধবা মিলন রানী দাস প্রতিনিয়ত জীবনের সাথে লড়াই করছেন। বয়সের ভারে নত এই বৃদ্ধার নেই কোনো উপার্জনের পথ, নেই স্বামী, সন্তান বা স্বজনের নির্ভরতা। ভাঙ্গাচোরা, জরাজীর্ণ একটি ঘরেই মিলন রানীর মানবেতর জীবন যাপন করছেন। নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার মাছিমপুর ইউনিয়নের ধানুয়া উত্তরপাড়া গ্রামের ৮৩ বছর বয়সী বিধবামিলন রানী দাসের জীবনের শেষ বয়সটুকু কাটছে চরম অসহায়ত্ব আর অনিশ্চয়তার মধ্যে।
মিলন রানীর বসত ঘরের টিনের চালা ও ভেড়া ভেঙ্গে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভিতর পানি পড়ে, আবার প্রচন্ড গরমে ঘরে থাকা কষ্টকর। রাতেও একা ঘরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়। দীর্ঘদিন ধরেই দুর্বিষহ জীবন যাবন করছে মিলন রানী।

স্হানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বামী মারা যাবার পর থেকেই চরম কষ্টে দিন পার করছেন মিলন রানী দাস। তিনি বয়সজনিত কারনে কোনো কাজ করতে পারে না। প্রতিবেশীদের সহায়তা ও মানুষের দানের ওপর নির্ভর করে কোনোমতে খাবারের ব্যবস্হা হয়।
স্বামী নেই, সন্তান নেই,  মাথা গোঁজার মতো নিরাপদ কোনো আশ্রয় নেই।  বহু বছরের পরের জায়গায় পুরোনো যেটিনের ঘরটি ছিল তাঁর একমাত্র ঠিকানা, সেটিও ইতোমধ্যে ধসে পড়েছে। সেই ধসে পড়া, বসবাসের অযোগ্য ঘরেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই বৃদ্ধা। ঘরটির টিনের বেড়ার অধিকাংশ অংশ ভেঙে পড়ে গেছে, কোথাও কোথাও বেড়া নেই। ছাউনি ও কাঠামোর বিভিন্ন অংশ ধসে পড়েছে। দরজা-জানালা ভাঙাচোরা এবং পুরো ঘরটি এখন অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টি, ঝড় কিংবা রোদ—কোনো কিছু থেকেই রক্ষা পাওয়ার উপায় নেই। খোলা আকাশের নিচে থাকার মতো মিলন রানী দিন-রাত কাটছে।
মিলন রানী দাস শিবপুর উপজেলার মাছিমপুর ইউনিয়নের ধানুয়া উত্তরপাড়া গ্রামের স্বামী মৃত সুচিন্দ্র চন্দ্র দাসএর ২য় স্ত্রী। তার কোন ছেলে মেয়ে নেই। প্রথম সংসারে একমাত্র ছেলে তার বাবার মৃত্যুর পর সকলসম্পত্তি বিক্রি করে চলে গেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, সমাজের সবচেয়ে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিকনিরাপত্তা কর্মসূচি থাকলেও মিলন রানী দাস এখনো প্রয়োজনীয় সহায়তা পাননি।  একটি নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকৃত অসহায় মানুষ অনেক সময় সরকারি ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। তারা দ্রুত মিলন রানী দাসের জন্য একটি নিরাপদ ঘরের ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয়চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফারজানা ইয়াসমিন-গনমাধ্যম কে জানান,   অসহায় বিধবা মিলন রানী দাসের জন্য ঘর নির্মাণে সহায়তা হিসেবে দুই বান্ডিলঢেউটিন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি তাঁর অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার বিষয়েও খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও মানবিক সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে মিলন রানী দাসের কষ্ট অনেকটাই দূর হবে। জীবনের শেষ বয়সে মিলন রানী দাসের প্রত্যাশা একটি নিরাপদ আশ্রয়, দু’ বেলা খাবারের নিশ্চয়তা।

Share this news as a Photo Card