ঢাকা, বাংলাদেশ। , শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

মোহনপুরে পুকুর খনন নিয়ে তরুণ কৃষক হত্যা, গ্রেফতার-২

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১১:৪৭:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • / ৩৭ বার পঠিত
অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী:  রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় জমিতে জোরপূর্বক পুকুর খননকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৫। দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়।
র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‍্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সন্ত্রাস, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখ বেলা আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে র‍্যাব-৫ এর একটি আভিযানিক দল রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার কোর্ট স্টেশন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে মোহনপুর থানার বহুল আলোচিত জোবায়ের হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি মোঃ মোনারুল ইসলাম (রুহুল আমিন নামে পরিচিত, বয়স ৩৩) এবং ৩ নম্বর আসামি মোঃ রুবেল হোসেন (৩৮) কে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে র‍্যাব হেডকোয়ার্টার্সের গোয়েন্দা শাখা সহায়তা প্রদান করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে মোহনপুর উপজেলার বড় পালশা গ্রামের পালশা পূর্ব বিল এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী আহমেদ জোবায়ের (২২)-এর জমির পাশের একটি জমিতে আসামিরা ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটছিল। এ সময় জোবায়েরসহ স্থানীয় কয়েকজন এ কাজের প্রতিবাদ জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ভেকু মেশিন ব্যবহার করে জোবায়েরের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই আসামিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে নিহতের পিতা মোঃ রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মোহনপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৮ জনকে নামীয় আসামি করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/১০৯/১১৪/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়।
মামলার তদন্তের স্বার্থে র‍্যাব-৫ এর সিপিএসসি ইউনিট আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় এখনও চাঞ্চল্য বিরাজ করছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ লক্ষ করা যাচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

মোহনপুরে পুকুর খনন নিয়ে তরুণ কৃষক হত্যা, গ্রেফতার-২

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১১:৪৭:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী:  রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় জমিতে জোরপূর্বক পুকুর খননকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৫। দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়।
র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‍্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সন্ত্রাস, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখ বেলা আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে র‍্যাব-৫ এর একটি আভিযানিক দল রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার কোর্ট স্টেশন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে মোহনপুর থানার বহুল আলোচিত জোবায়ের হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি মোঃ মোনারুল ইসলাম (রুহুল আমিন নামে পরিচিত, বয়স ৩৩) এবং ৩ নম্বর আসামি মোঃ রুবেল হোসেন (৩৮) কে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে র‍্যাব হেডকোয়ার্টার্সের গোয়েন্দা শাখা সহায়তা প্রদান করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে মোহনপুর উপজেলার বড় পালশা গ্রামের পালশা পূর্ব বিল এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী আহমেদ জোবায়ের (২২)-এর জমির পাশের একটি জমিতে আসামিরা ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটছিল। এ সময় জোবায়েরসহ স্থানীয় কয়েকজন এ কাজের প্রতিবাদ জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ভেকু মেশিন ব্যবহার করে জোবায়েরের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই আসামিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে নিহতের পিতা মোঃ রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মোহনপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৮ জনকে নামীয় আসামি করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/১০৯/১১৪/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়।
মামলার তদন্তের স্বার্থে র‍্যাব-৫ এর সিপিএসসি ইউনিট আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় এখনও চাঞ্চল্য বিরাজ করছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ লক্ষ করা যাচ্ছে।