ঢাকা, বাংলাদেশ। , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

যাদবপুর সীমান্তে বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ 

প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১১:২৩:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫
  • / ৬০ বার পঠিত
ভারতের অভ্যন্তরে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে আছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার মধুপুর এলাকা ও বাংলাদেশের ঝিনাদহের মহেশপুরের গোপালপুর গ্রামের সীমান্ত এলাকাগুলো। আর হবেই বা না কেন? সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। একের পর এক সীমান্তে হত্যার কোন বিচার বা সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ।
এক বিবৃতিতে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের প্রধান সমন্বয় মোঃ মোস্তফা আল ইহযায বলেন, সীমান্ত বাংলাদেশী হত্যা একটি চিরাচরিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ১৬ বছরে প্রায় ৭০০ (সাত শত) বাংলাদেশীকে সীমান্তে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী (বিএসএফ)।  কখনো পাখির মত গুলি করে মারে, আবার কখনো মেরে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই বিষয়গুলো কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত একটি চক্রান্ত। দেশের সামগ্রিক সার্বভৌমত্ব খর্বিত হওয়ায় আমরা সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং নিন্দা জ্ঞাপন করছি।
জানা যায়, ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। গত রোববার সকালে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে তাঁর পরিচয় জানাতে পারেনি বিজিবি। মরদেহটি যেখানে পাওয়া গেছে, সেটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার মধুপুর এলাকা। এর বিপরীতে বাংলাদেশের মহেশপুরের গোপালপুর গ্রাম।
মহেশপুরের যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন বিভিন্ন মিডিয়াকে নিশ্চিত হয়ে বলেন, ‘মৃতদেহটি গোপালপুর গ্রামের ওবায়দুল হকের বলে আমরা জেনেছি। সে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। তবে কারা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে, তা নিশ্চিত হতে পারিনি। ঘটনাটি দিবাগত রাত একটার দিকে ঘটে।
মোঃ মোস্তফা আল ইহযায আরো বলেন, সীমান্তে অবাধ বিচরণ ধৃষ্টতাপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক সিমান্ত নিরাপত্তা আইন বিরোধী অপরাধ। কিছুদিন আগেই দেখা যায় বাংলাদেশের অভ্যান্তে এসে
আরাকান আর্মি জলকেলি উৎসবই পালন করেই ক্ষান্ত হয়নি; ওই উৎসবের ভিডিও সচিত্র সামাজিক গণমাধ্যমে শেয়ার করেছে। আরাকান আর্মির রাজনৈতিক শাখা ‘ইউএলএ’ এবং স্থানীয় জনগণ ঘটা করে ওই উৎসবে অংশগ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের সীমানার ১০ কি.মি ভেতরে অনুপ্রবেশ করে এমন উৎসব করার মাধ্যমে তারা মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছে।
এবং আমাদের অনিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের উপর এক মারাত্মক হুমকি এবং উদ্বেগজনক বলে আমরা মনে করছি। বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করার মত দুঃসাহস কোথায় পেলো আরাকান আর্মি জাতির সম্মুখে অনতিবিলম্বে তা জবাবদিহি করার জন্য বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (BGB) প্রতি উদাত্ত আহ্বান করেন।
একই সাথে এই ঘটনা বর্তমান সরকার ও সামরিক বাহিনীর জন্য চরম ব্যর্থতা বলে মনে করছি। এ ধরনের উদাসীনতা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। এ ব্যাপারে সরকার ও সামরিক বাহিনীর কে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করেন।
এছাড়া সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক মোঃ সাইফুল আলম সরকার ঝিনাইদহ বিজিবি ৫৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সীমান্তে বিএসএফ এর সাথে শুধু পতাকা বৈঠক করলেই হবে না।  সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা বন্ধে এবং চোরা চালান রোধে কঠোর আইনের ব্যবহার করতে হবে।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

যাদবপুর সীমান্তে বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ 

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১১:২৩:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫
ভারতের অভ্যন্তরে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে আছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার মধুপুর এলাকা ও বাংলাদেশের ঝিনাদহের মহেশপুরের গোপালপুর গ্রামের সীমান্ত এলাকাগুলো। আর হবেই বা না কেন? সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। একের পর এক সীমান্তে হত্যার কোন বিচার বা সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ।
এক বিবৃতিতে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের প্রধান সমন্বয় মোঃ মোস্তফা আল ইহযায বলেন, সীমান্ত বাংলাদেশী হত্যা একটি চিরাচরিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ১৬ বছরে প্রায় ৭০০ (সাত শত) বাংলাদেশীকে সীমান্তে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী (বিএসএফ)।  কখনো পাখির মত গুলি করে মারে, আবার কখনো মেরে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই বিষয়গুলো কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত একটি চক্রান্ত। দেশের সামগ্রিক সার্বভৌমত্ব খর্বিত হওয়ায় আমরা সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং নিন্দা জ্ঞাপন করছি।
জানা যায়, ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। গত রোববার সকালে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে তাঁর পরিচয় জানাতে পারেনি বিজিবি। মরদেহটি যেখানে পাওয়া গেছে, সেটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার মধুপুর এলাকা। এর বিপরীতে বাংলাদেশের মহেশপুরের গোপালপুর গ্রাম।
মহেশপুরের যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন বিভিন্ন মিডিয়াকে নিশ্চিত হয়ে বলেন, ‘মৃতদেহটি গোপালপুর গ্রামের ওবায়দুল হকের বলে আমরা জেনেছি। সে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। তবে কারা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে, তা নিশ্চিত হতে পারিনি। ঘটনাটি দিবাগত রাত একটার দিকে ঘটে।
মোঃ মোস্তফা আল ইহযায আরো বলেন, সীমান্তে অবাধ বিচরণ ধৃষ্টতাপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক সিমান্ত নিরাপত্তা আইন বিরোধী অপরাধ। কিছুদিন আগেই দেখা যায় বাংলাদেশের অভ্যান্তে এসে
আরাকান আর্মি জলকেলি উৎসবই পালন করেই ক্ষান্ত হয়নি; ওই উৎসবের ভিডিও সচিত্র সামাজিক গণমাধ্যমে শেয়ার করেছে। আরাকান আর্মির রাজনৈতিক শাখা ‘ইউএলএ’ এবং স্থানীয় জনগণ ঘটা করে ওই উৎসবে অংশগ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের সীমানার ১০ কি.মি ভেতরে অনুপ্রবেশ করে এমন উৎসব করার মাধ্যমে তারা মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছে।
এবং আমাদের অনিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের উপর এক মারাত্মক হুমকি এবং উদ্বেগজনক বলে আমরা মনে করছি। বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করার মত দুঃসাহস কোথায় পেলো আরাকান আর্মি জাতির সম্মুখে অনতিবিলম্বে তা জবাবদিহি করার জন্য বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (BGB) প্রতি উদাত্ত আহ্বান করেন।
একই সাথে এই ঘটনা বর্তমান সরকার ও সামরিক বাহিনীর জন্য চরম ব্যর্থতা বলে মনে করছি। এ ধরনের উদাসীনতা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। এ ব্যাপারে সরকার ও সামরিক বাহিনীর কে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করেন।
এছাড়া সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক মোঃ সাইফুল আলম সরকার ঝিনাইদহ বিজিবি ৫৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সীমান্তে বিএসএফ এর সাথে শুধু পতাকা বৈঠক করলেই হবে না।  সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা বন্ধে এবং চোরা চালান রোধে কঠোর আইনের ব্যবহার করতে হবে।