ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
তাজা খবর
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
গ্রামীণ আবহ আর কারুপণ্যের সম্ভার নিয়ে চলছে বৈশাখী মেলা
কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে মারা গেছেন
বরেণ্য গীতিকবি,সুরকার,লেখক ও সংগীত গুরু ইউনুস আলী মোল্লার
স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে মাদারীপুরে ৩০ শিক্ষার্থী অসুস্থ
গণধর্ষেণের শিকার ৬-বছরের শিশু ও ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী: গ্রেফতার-১
জাল টাকার কারখানায় অভিযান, আটক-১
জ্বালানি সংকটে অচল দেশ: পাম্পে সংঘর্ষ
তিস্তায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন
রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে চেয়ারম্যান-পুলিশসহ আহত ২০

মোঃমফিজুল ইসলাম , বিশেষ প্রতিনিধি নীলফামারী
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৭:৪০:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
- / ৪৯ বার পঠিত

মোঃমফিজুল ইসলাম , বিশেষ প্রতিনিধি নীলফামারী: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদীতে বোমা মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন, সাংবাদিক, গ্রাম পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৭ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে উপজেলার পূর্ব খড়িবাড়ি তিস্তা পাড় এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন- টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন, টেপাখড়িবাড়ি এলাকার আলিমুদ্দিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন, লোকমানসহ অন্তত ৩জন পুলিশ সদস্য। আহতদের মধ্যে প্রায় ১৭ জনকে প্রথমে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে গুরুতর আহত চেয়ারম্যানসহ ৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীতে বোমা মেশিন বসিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছে। এতে নদীর বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ছাড়াও আশপাশের রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ বিরাজ করছিল।
এ অবস্থায় টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে প্রতিরোধের ঘোষণা দেন। বৃহস্পতিবার সকালে পাথর উত্তোলনের খবর পেয়ে চেয়ারম্যান কয়েকজন গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় শতাধিক লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।
এ সময় তারা তিস্তা নদীতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত প্রায় ৩০টির বেশি বোমা মেশিন ভাঙচুর ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ও নদীতে ডুবিয়ে দেন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মেশিন মালিক, শ্রমিক ও স্থানীয় কিছু লোকজন ঘটনাস্থলে এসে চেয়ারম্যানের সঙ্গে থাকা লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া গণমাধ্যম কর্মীদের ওপরও হামলা ও মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও আহতদের উদ্ধার করতে থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে তেলিবাজার এলাকায় পুলিশের ওপরও হামলা চালানো হয়। এ সময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দায়িত্বরত চিকিৎসক গুরুতর আহত চেয়ারম্যানসহ সাতজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
এ বিষয়ে ডিমলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম বলেন, “চেয়ারম্যান সাহেবের মাথা ফেটে গেছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে দ্রুত উদ্ধার করতে যাই। পরে চেয়ারম্যানের পক্ষের লোকজন আমাদের মারধর করছে।” ডিমলা থানার উপপরিদর্শক পরিতোষ রায় বলেন, তিস্তা নদীতে অবৈধ পাথর উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের আটক করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।



















