ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
তাজা খবর
“কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র অভিনন্দন
উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ১৪৪ তম খুলনা দিবস!
চট্রগ্রামের জব্বারের বলি খেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হোমনার বাঘা শরীফ
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
কালবৈশাখী ও বজ্রপাতের চোখরাঙানি
রাজনগরের হাওর অঞ্চলে উৎকণ্ঠা, সতর্ক থাকার পরামর্শ

সঞ্জয় মালাকার
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:১০:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
- / ৫ বার পঠিত

সঞ্জয় মালাকার: বৈশাখ মাস মানেই একদিকে সোনালি ধানের সমারোহ, আর অন্যদিকে কালবৈশাখী ঝড়ের আতঙ্ক। বর্তমানে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘিসহ বিভিন্ন হাওর অঞ্চলে ধান কাটার উৎসব চললেও আকাশের মেঘ আর ঘনঘন বজ্রপাত কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিশেষ করে হাওরের উন্মুক্ত প্রান্তরে বজ্রপাতের তীব্রতা ও প্রাণহানির আশঙ্কা জনমনে ভীতি তৈরি করছে।
দেশে বজ্রপাতে নিহতের ভয়াবহ চিত্র:
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে বজ্রপাত সবচেয়ে বড় ঘাতক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত বজ্রপাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে (তথ্যসূত্র অনুযায়ী সংখ্যাটি পরিবর্তনশীল)। এর মধ্যে বড় একটি অংশই হলো হাওর অঞ্চলে কাজ করা কৃষক ও জেলে। গত কয়েক বছরে এই সংখ্যা কয়েক শ ছাড়িয়েছে, যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
বজ্রপাতের আশঙ্কা ও বর্তমান পরিস্থিতি:
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন রাজনগরসহ সিলেট বিভাগে কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে তীব্র বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তপ্ত আবহাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বজ্রপাতের তীব্রতা আগের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়েছে। হাওর অঞ্চলে বড় কোনো গাছপালা না থাকায় খোলা মাঠে কাজ করা মানুষগুলো সরাসরি বজ্রপাতের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।
হাওরবাসীর জন্য জরুরি সতর্কতা:
১. আকাশ মেঘলা হলে নিরাপদ আশ্রয়ে যান: কালো মেঘ দেখা দিলে বা মেঘের ডাক শোনা মাত্রই দ্রুত পাকা দালান বা টিনের ঘরের নিচে আশ্রয় নিন। হাওরের খোলা মাঠে বা নৌকায় থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
২. গাছের নিচে আশ্রয় নেবেন না: বজ্রপাতের সময় কোনোভাবেই বড় গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে দাঁড়াবেন না।
৩. ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকুন: কাস্তে, লাঙল বা মাছ ধরার জালের মতো ধাতব বস্তু সাথে রাখবেন না। বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
৪. উঁচু স্থান এড়িয়ে চলুন: নিজেকে মাটির সাথে যতটা সম্ভব নিচু করে রাখুন, তবে সরাসরি মাটিতে শুয়ে পড়বেন না।
৫. পাকা দালানই নিরাপদ:যদি সম্ভব হয়, কাছাকাছি কোনো পাকা দালানে আশ্রয় নিন।
জীবন আগে, তারপর ধান। আবহাওয়া খারাপ দেখলে ঝুঁকি নিয়ে হাওরে অবস্থান না করাই শ্রেয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাওর অঞ্চলে ‘বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড’ স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের। তবে আপাতত ব্যক্তিগত সচেতনতাই পারে প্রাণহানি রোধ করতে।
আরও পড়ুন:
সঞ্জয় মালাকার




















