ঢাকা, বাংলাদেশ। , শনিবার, ০২ মে ২০২৬

রাজবাড়ীতে পদ্মার ছোবলে নদী পাড়ের অসহায় মানুষ 

রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী 
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:০৭:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫
  • / ৬৪ বার পঠিত
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাওয়ালজানি ও মুন্সিবাজার এলাকায় গত দুইদিন ধরে পদ্মা নদীর ভাঙ্গন চলছে। এবার ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে ফসলী মাঠ, কবরিস্থান স্কুল মসজিদ কমিটি সেন্টার বাজার। তাছাড়া কয়েক শত অসহায় মানুষের বাড়িঘর। নদী ভাঙ্গনের দিশেহারা এ অঞ্চলের মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন তারা।
সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে,দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিবাজার এলাকা  ও কাউয়াজানি এলাকায় গত দুইদিন যাবৎ তীব্র ভাঙ্গন চলছে। এরই মধ্যে কয়েক কিলোমিটার ফসলের জমির মাঠ নদীর গর্ভে চলে গেছে। গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়ন দেশের মানচিত্র বুক থেকে হারাতে বসেছে। এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। পানি উন্নয়ন বোর্ড বা স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিদাতা জামাল মুন্সী জানান, গত বছরের এই দিনে আমাদের দেবগ্রামে শুরু হয়েছিল ভাঙ্গন। সে সময় আমরা রাস্তা অবরোধ সহ মানব বন্ধন এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ড মাত্র ১২ হাজার বস্তা জিও ব্যাগ নদীতে ফেলেছিল। তখন কিছুটা হলেও রোধ করা গেছিল নদী ভাঙ্গন। এ বছরে দুইদিন যাবত ভাঙ্গন চলছে। এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিলাম। প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। আপাতত জিও ব্যাক ফেলে নদী ভাঙ্গন রোধ করা প্রয়োজন। ২৪ ঘন্টা পর আমরা মানববন্ধন বা রাস্তা অবরোধ কর্মসূচি করবো।
কাউয়া জানি এলাকার সালাম ফকির জানান,জমিতে পাট বুনেছি  এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নদী ভাঙ্গন। অনেক পাট সহ জমি নদীর গর্ভে চলে গেছে। কি করবো বুঝতে পারছি না। যদি ভাঙ্গন স্থানে দ্রুত জিও ব্যাক না ফেলে তাহলে আমাদের এই কাউয়া জানি এলাকা আর টিকবে না।
দেবগ্রাম মুন্সী পাড়ার বাসিন্দা আছিয়া বেগম জানান, রাতে ঘুম হচ্ছে না। তিনবার নদীতে বাড়ি ভেঙেছে। এবার ভেঙে গেলে রাস্তায় থাকা ছাড়া আমাদের উপায় নেই। সরকারের কাছে আমাদের দাবি দ্রুত নদীতে জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করেন।
 দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, বাপ, দাদা,চাচার কবর অনেক আগেই নদীর বুকে বিলীন হয়ে গেছে ভাঙ্গনের কবলে। এত সরকার এলো গেল শুধু আশার বাণী শুনিয়ে গেল। কিন্তু নদী শাসনের কাজ আর করলো না।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বিভাগের (বাপাউমো)নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল আল আমিন জানান, দেবগ্রাম ইউনিয়নে নদী ভাঙ্গনের কথা শুনেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

রাজবাড়ীতে পদ্মার ছোবলে নদী পাড়ের অসহায় মানুষ 

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:০৭:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাওয়ালজানি ও মুন্সিবাজার এলাকায় গত দুইদিন ধরে পদ্মা নদীর ভাঙ্গন চলছে। এবার ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে ফসলী মাঠ, কবরিস্থান স্কুল মসজিদ কমিটি সেন্টার বাজার। তাছাড়া কয়েক শত অসহায় মানুষের বাড়িঘর। নদী ভাঙ্গনের দিশেহারা এ অঞ্চলের মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন তারা।
সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে,দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিবাজার এলাকা  ও কাউয়াজানি এলাকায় গত দুইদিন যাবৎ তীব্র ভাঙ্গন চলছে। এরই মধ্যে কয়েক কিলোমিটার ফসলের জমির মাঠ নদীর গর্ভে চলে গেছে। গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়ন দেশের মানচিত্র বুক থেকে হারাতে বসেছে। এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। পানি উন্নয়ন বোর্ড বা স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিদাতা জামাল মুন্সী জানান, গত বছরের এই দিনে আমাদের দেবগ্রামে শুরু হয়েছিল ভাঙ্গন। সে সময় আমরা রাস্তা অবরোধ সহ মানব বন্ধন এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ড মাত্র ১২ হাজার বস্তা জিও ব্যাগ নদীতে ফেলেছিল। তখন কিছুটা হলেও রোধ করা গেছিল নদী ভাঙ্গন। এ বছরে দুইদিন যাবত ভাঙ্গন চলছে। এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিলাম। প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। আপাতত জিও ব্যাক ফেলে নদী ভাঙ্গন রোধ করা প্রয়োজন। ২৪ ঘন্টা পর আমরা মানববন্ধন বা রাস্তা অবরোধ কর্মসূচি করবো।
কাউয়া জানি এলাকার সালাম ফকির জানান,জমিতে পাট বুনেছি  এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নদী ভাঙ্গন। অনেক পাট সহ জমি নদীর গর্ভে চলে গেছে। কি করবো বুঝতে পারছি না। যদি ভাঙ্গন স্থানে দ্রুত জিও ব্যাক না ফেলে তাহলে আমাদের এই কাউয়া জানি এলাকা আর টিকবে না।
দেবগ্রাম মুন্সী পাড়ার বাসিন্দা আছিয়া বেগম জানান, রাতে ঘুম হচ্ছে না। তিনবার নদীতে বাড়ি ভেঙেছে। এবার ভেঙে গেলে রাস্তায় থাকা ছাড়া আমাদের উপায় নেই। সরকারের কাছে আমাদের দাবি দ্রুত নদীতে জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করেন।
 দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, বাপ, দাদা,চাচার কবর অনেক আগেই নদীর বুকে বিলীন হয়ে গেছে ভাঙ্গনের কবলে। এত সরকার এলো গেল শুধু আশার বাণী শুনিয়ে গেল। কিন্তু নদী শাসনের কাজ আর করলো না।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বিভাগের (বাপাউমো)নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল আল আমিন জানান, দেবগ্রাম ইউনিয়নে নদী ভাঙ্গনের কথা শুনেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।