ঢাকা, বাংলাদেশ। , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

রাজশাহীতে ২৯ প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:৩৬:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৬৬ বার পঠিত
অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: রাজশাহী জেলায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মোট ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আচরণবিধি মেনে বৃহস্পতিবার (আগামীকাল) থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতীক বরাদ্দের এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম শুরু হয়। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কার্যক্রমে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রার্থীরা ও তাদের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে পুরো প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
প্রতীক বরাদ্দের আগে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সকল প্রার্থীকে নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়। এ সময় পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহারের বিধিনিষেধ, মিটিং-মিছিল ও জনসভার নিয়মাবলি, প্রচারণার সময়সীমা এবং আইন ভঙ্গের পরিণতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রার্থীরা এসব বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দের কার্যক্রম শুরু হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা শেষ করা হয়।
জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ২৬ জন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী তাদের নিজ নিজ দলের নির্ধারিত প্রতীক পেয়েছেন। পাশাপাশি দুটি আসনে তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী পছন্দের প্রতীক বরাদ্দ লাভ করেন। এর মধ্যে রাজশাহী সদর-২ আসনের স্বতন্ত্র তরুণ প্রার্থী সালেহ আহমেদ ‘মোটরসাইকেল’ প্রতীক পান। রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া–দুর্গাপুর) আসনে পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বিএনপি থেকে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসফা খায়রুল হক ‘ঘোড়া’ প্রতীক অর্জন করেন। একই আসনে যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের সহ-সভাপতি ও বিএনপি বিরোধী স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম বরাদ্দ পান ‘ফুটবল’ প্রতীক।
যদিও প্রতীক বরাদ্দের সামগ্রিক প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তবে কয়েকটি আসনে এ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে রাজশাহী-৪ (বাগমারা), রাজশাহী-৬ (চারঘাট–বাঘা) এবং রাজশাহী-৩ (পবা–মোহনপুর) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ও প্রতীক বরাদ্দের প্রতিবাদ জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারীরা বিক্ষোভ করেন।
এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও জেলা এনসিপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম সাজু জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে তিনি জাতীয় পার্টির নির্বাচনী অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে তা বাতিলের দাবি জানান এবং দাবি মানা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।
প্রতীক বরাদ্দ শেষে প্রার্থীরা জানান, তারা নির্বাচন কমিশনের সব ধরনের বিধি-বিধান ও আচরণবিধি মেনে চলবেন। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটারদের দোরগোড়ায় গিয়ে ভোট চাইবেন এবং এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে রাজশাহীর ভোটাররা তাদের পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পাবেন, যা জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও শক্তিশালী করবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

রাজশাহীতে ২৯ প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:৩৬:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: রাজশাহী জেলায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মোট ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আচরণবিধি মেনে বৃহস্পতিবার (আগামীকাল) থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতীক বরাদ্দের এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম শুরু হয়। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কার্যক্রমে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রার্থীরা ও তাদের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে পুরো প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
প্রতীক বরাদ্দের আগে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সকল প্রার্থীকে নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়। এ সময় পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহারের বিধিনিষেধ, মিটিং-মিছিল ও জনসভার নিয়মাবলি, প্রচারণার সময়সীমা এবং আইন ভঙ্গের পরিণতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রার্থীরা এসব বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দের কার্যক্রম শুরু হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা শেষ করা হয়।
জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ২৬ জন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী তাদের নিজ নিজ দলের নির্ধারিত প্রতীক পেয়েছেন। পাশাপাশি দুটি আসনে তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী পছন্দের প্রতীক বরাদ্দ লাভ করেন। এর মধ্যে রাজশাহী সদর-২ আসনের স্বতন্ত্র তরুণ প্রার্থী সালেহ আহমেদ ‘মোটরসাইকেল’ প্রতীক পান। রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া–দুর্গাপুর) আসনে পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বিএনপি থেকে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসফা খায়রুল হক ‘ঘোড়া’ প্রতীক অর্জন করেন। একই আসনে যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের সহ-সভাপতি ও বিএনপি বিরোধী স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম বরাদ্দ পান ‘ফুটবল’ প্রতীক।
যদিও প্রতীক বরাদ্দের সামগ্রিক প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তবে কয়েকটি আসনে এ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে রাজশাহী-৪ (বাগমারা), রাজশাহী-৬ (চারঘাট–বাঘা) এবং রাজশাহী-৩ (পবা–মোহনপুর) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ও প্রতীক বরাদ্দের প্রতিবাদ জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারীরা বিক্ষোভ করেন।
এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও জেলা এনসিপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম সাজু জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে তিনি জাতীয় পার্টির নির্বাচনী অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে তা বাতিলের দাবি জানান এবং দাবি মানা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।
প্রতীক বরাদ্দ শেষে প্রার্থীরা জানান, তারা নির্বাচন কমিশনের সব ধরনের বিধি-বিধান ও আচরণবিধি মেনে চলবেন। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটারদের দোরগোড়ায় গিয়ে ভোট চাইবেন এবং এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে রাজশাহীর ভোটাররা তাদের পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পাবেন, যা জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও শক্তিশালী করবে।