ঢাকা, বাংলাদেশ। , শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
বাড়ছে শিশু মৃত্যু--

রাজশাহী হামের ভয়াবহ বিস্তার: সংক্রমণ ৩১% বেশি

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:১৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • / ৪৩ বার পঠিত
অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী:   রাজশাহী বিভাগজুড়ে অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিভাগে হামের সংক্রমণের হার বেড়ে ৩১ দশমিক ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে। বিভিন্ন জেলা থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষায় এই চিত্র উঠে এসেছে। এখন পর্যন্ত ২৪৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ৭৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও পাবনা জেলায় সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে। রোববার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮০ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৭১ জন এবং পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ২১ জন শিশু চিকিৎসাধীন ছিল।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আক্রান্তদের জন্য পৃথক আইসোলেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। হাসপাতালের নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে। এখানে ভর্তি হওয়া ১৫৩ জন শিশুর নমুনা পরীক্ষায় ৪৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যা প্রায় ২৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ হাসপাতালে এ পর্যন্ত ২৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
পাবনা জেলায় চলতি মাসে ১১৮ জন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ২১ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় জানুয়ারিতে প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ফেব্রুয়ারিতে সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকে। বর্তমানে সেখানে আক্রান্তদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড চালু থাকলেও শনাক্তের হার প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে এবং বহু শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
চিকিৎসা ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অনেক হাসপাতালে সংক্রামক রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত আলাদা ব্যবস্থা না থাকায় একই ওয়ার্ডে বিভিন্ন রোগের রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে অন্য রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর শিশুদের মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা হাসপাতালভিত্তিক সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর শুরুতে সীমিত আকারে চিকিৎসা দেওয়া হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। গুরুতর অসুস্থ শিশুদের আইসিইউ সুবিধা প্রয়োজন হলেও সব ক্ষেত্রে তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অনেক সময় আইসিইউতে নেওয়ার আগেই কিংবা অপেক্ষারত অবস্থায় রোগীর মৃত্যু হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতিই এই পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক শিশু নির্ধারিত সময়ের হাম-রুবেলা টিকা পায়নি। এছাড়া কিছু শিশু ৯ মাস বয়সের আগেই আক্রান্ত হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সাধারণত চার বছর পরপর হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়। সর্বশেষ ২০২১ সালে এই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে অনুযায়ী ২০২৫ সালে নতুন কর্মসূচি হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে অনেক শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি চালু, আক্রান্তদের আইসোলেশনে রাখা, আইসিইউ সুবিধা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্তদের পৃথকভাবে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

বাড়ছে শিশু মৃত্যু--

রাজশাহী হামের ভয়াবহ বিস্তার: সংক্রমণ ৩১% বেশি

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:১৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী:   রাজশাহী বিভাগজুড়ে অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিভাগে হামের সংক্রমণের হার বেড়ে ৩১ দশমিক ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে। বিভিন্ন জেলা থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষায় এই চিত্র উঠে এসেছে। এখন পর্যন্ত ২৪৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ৭৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও পাবনা জেলায় সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে। রোববার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮০ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৭১ জন এবং পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ২১ জন শিশু চিকিৎসাধীন ছিল।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আক্রান্তদের জন্য পৃথক আইসোলেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। হাসপাতালের নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে। এখানে ভর্তি হওয়া ১৫৩ জন শিশুর নমুনা পরীক্ষায় ৪৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যা প্রায় ২৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ হাসপাতালে এ পর্যন্ত ২৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
পাবনা জেলায় চলতি মাসে ১১৮ জন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ২১ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় জানুয়ারিতে প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ফেব্রুয়ারিতে সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকে। বর্তমানে সেখানে আক্রান্তদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড চালু থাকলেও শনাক্তের হার প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে এবং বহু শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
চিকিৎসা ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অনেক হাসপাতালে সংক্রামক রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত আলাদা ব্যবস্থা না থাকায় একই ওয়ার্ডে বিভিন্ন রোগের রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে অন্য রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর শিশুদের মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা হাসপাতালভিত্তিক সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর শুরুতে সীমিত আকারে চিকিৎসা দেওয়া হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। গুরুতর অসুস্থ শিশুদের আইসিইউ সুবিধা প্রয়োজন হলেও সব ক্ষেত্রে তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অনেক সময় আইসিইউতে নেওয়ার আগেই কিংবা অপেক্ষারত অবস্থায় রোগীর মৃত্যু হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতিই এই পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক শিশু নির্ধারিত সময়ের হাম-রুবেলা টিকা পায়নি। এছাড়া কিছু শিশু ৯ মাস বয়সের আগেই আক্রান্ত হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সাধারণত চার বছর পরপর হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়। সর্বশেষ ২০২১ সালে এই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে অনুযায়ী ২০২৫ সালে নতুন কর্মসূচি হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে অনেক শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি চালু, আক্রান্তদের আইসোলেশনে রাখা, আইসিইউ সুবিধা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্তদের পৃথকভাবে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।