ঢাকা, বাংলাদেশ। , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রটোকল নয়,মানুষের পথেই স্বাচ্ছন্দ্য

রিকশায় চড়েই রাজশাহী ঘুরছেন ভূমিমন্ত্রী মিনু

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:৪৯:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৬৪ বার পঠিত
অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পরও জীবনযাত্রায় কোনো আড়ম্বর যোগ হয়নি মিজানুর রহমান মিনুর। রাজশাহী নগরীতে এখনো তাঁকে দেখা যায় আগের মতোই রিকশায় চড়ে চলাফেরা করতে। সরকারি গাড়ি, বাড়তি প্রটোকল কিংবা আনুষ্ঠানিক বাহনের পরিবর্তে তিনি বেছে নিয়েছেন সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত এই বাহনকেই।
শনিবার সকালে নগরের ভদ্রা এলাকার বাসা থেকে বের হন তিনি। দীর্ঘদিনের পরিচিত রিকশাচালক আব্দুল কুদ্দুসের রিকশাতেই যাত্রা শুরু করেন। প্রায় এক দশক ধরে কুদ্দুস তাঁকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাচ্ছেন। সেদিনও তিনি প্রথমে যান সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকায়। সকালে সেখানে প্রাতর্ভ্রমণে আসা প্রবীণদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং কিছু সময় আড্ডায় কাটান।
এরপর সাহেববাজারের একটি কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। স্থানীয় সাংগঠনিক বিষয় ও সমসাময়িক প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা শেষে দুপুরের দিকে ফেরার পথে দড়িখড়বোনা এলাকার একটি সেলুনে যান। জানা গেছে, প্রায় ৪০ বছর ধরে একই সাধারণ সেলুনে চুল কাটান তিনি। সেখান থেকে বের হয়ে আবার রিকশায় চড়ে বাসায় ফিরে যান।
রিকশায় যাতায়াতের সময় পথচারীদের উদ্দেশে হাসিমুখে শুভেচ্ছা জানান তিনি। অনেকেই এগিয়ে এসে সালাম ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রব পান্না।
মিজানুর রহমান মিনুর রাজনৈতিক যাত্রা দীর্ঘদিনের। মাত্র ৩২ বছর বয়সে তিনি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। টানা ১৭ বছর সেই দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে দলীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত আছেন।
রাজনীতির শুরু থেকেই তিনি সরল জীবনযাপন বজায় রেখেছেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে রিকশায় চড়ে গণসংযোগ করেছেন। সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনেও একইভাবে প্রচার চালান।
রিকশাচালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, একজন মন্ত্রী হয়েও তিনি সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করে রিকশায় চলাফেরা করছেন—এটি তাঁর কাছে গর্বের বিষয়। ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রব পান্না জানান, প্রটোকলের জন্য পুলিশের গাড়ি ও সরকারি বাহন প্রস্তুত থাকলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। মানুষের কাছাকাছি থাকতেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
দায়িত্ব ও পদমর্যাদা বাড়লেও জীবনযাপনের সরলতায় পরিবর্তন আসেনি—রাজশাহীর পথে রিকশায় চড়া সেই চেনা দৃশ্যই যেন তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

প্রটোকল নয়,মানুষের পথেই স্বাচ্ছন্দ্য

রিকশায় চড়েই রাজশাহী ঘুরছেন ভূমিমন্ত্রী মিনু

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:৪৯:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পরও জীবনযাত্রায় কোনো আড়ম্বর যোগ হয়নি মিজানুর রহমান মিনুর। রাজশাহী নগরীতে এখনো তাঁকে দেখা যায় আগের মতোই রিকশায় চড়ে চলাফেরা করতে। সরকারি গাড়ি, বাড়তি প্রটোকল কিংবা আনুষ্ঠানিক বাহনের পরিবর্তে তিনি বেছে নিয়েছেন সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত এই বাহনকেই।
শনিবার সকালে নগরের ভদ্রা এলাকার বাসা থেকে বের হন তিনি। দীর্ঘদিনের পরিচিত রিকশাচালক আব্দুল কুদ্দুসের রিকশাতেই যাত্রা শুরু করেন। প্রায় এক দশক ধরে কুদ্দুস তাঁকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাচ্ছেন। সেদিনও তিনি প্রথমে যান সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকায়। সকালে সেখানে প্রাতর্ভ্রমণে আসা প্রবীণদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং কিছু সময় আড্ডায় কাটান।
এরপর সাহেববাজারের একটি কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। স্থানীয় সাংগঠনিক বিষয় ও সমসাময়িক প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা শেষে দুপুরের দিকে ফেরার পথে দড়িখড়বোনা এলাকার একটি সেলুনে যান। জানা গেছে, প্রায় ৪০ বছর ধরে একই সাধারণ সেলুনে চুল কাটান তিনি। সেখান থেকে বের হয়ে আবার রিকশায় চড়ে বাসায় ফিরে যান।
রিকশায় যাতায়াতের সময় পথচারীদের উদ্দেশে হাসিমুখে শুভেচ্ছা জানান তিনি। অনেকেই এগিয়ে এসে সালাম ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রব পান্না।
মিজানুর রহমান মিনুর রাজনৈতিক যাত্রা দীর্ঘদিনের। মাত্র ৩২ বছর বয়সে তিনি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। টানা ১৭ বছর সেই দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে দলীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত আছেন।
রাজনীতির শুরু থেকেই তিনি সরল জীবনযাপন বজায় রেখেছেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে রিকশায় চড়ে গণসংযোগ করেছেন। সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনেও একইভাবে প্রচার চালান।
রিকশাচালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, একজন মন্ত্রী হয়েও তিনি সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করে রিকশায় চলাফেরা করছেন—এটি তাঁর কাছে গর্বের বিষয়। ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রব পান্না জানান, প্রটোকলের জন্য পুলিশের গাড়ি ও সরকারি বাহন প্রস্তুত থাকলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। মানুষের কাছাকাছি থাকতেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
দায়িত্ব ও পদমর্যাদা বাড়লেও জীবনযাপনের সরলতায় পরিবর্তন আসেনি—রাজশাহীর পথে রিকশায় চড়া সেই চেনা দৃশ্যই যেন তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের