ঢাকা, বাংলাদেশ। , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

শতবর্ষের ঐতিহ্য গ্রামবাংলার ঘোড়দৌড়, গ্রামীণ মেলা

মো. ইমরোজুল ইসলাম, মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১১:৩৬:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৮০ বার পঠিত

মো. ইমরোজুল ইসলাম, মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি : খুলনা বিভাগের অন্যতম বৃহৎ ও শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা ও ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বড়রিয়া গ্রামে। এ মেলাকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশে মেতে ওঠে আশপাশের অন্তত ৫০টি গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ। গ্রামবাংলার প্রাণের এই আয়োজনে মিলেছে ঐতিহ্য, আনন্দ আর মানুষের মিলনমেলা।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের বড়রিয়া গ্রামে শত বছরের বেশি পুরোনো এই মেলা ও ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর বাংলা পৌষ মাসের ২৮ তারিখে আয়োজিত এ মেলা দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সর্ববৃহৎ গ্রামীণ উৎসবগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। মূল মেলার দিনকে ঘিরে আগে-পরে প্রায় ১৫ দিন ধরে চলে নানা আনন্দ আয়োজন। এ সময় প্রতিটি বাড়িতে দূরদূরান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজনের আগমনে গ্রামজুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।

প্রায় দুই বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বসে মাছ-মাংস, মিষ্টি, ফার্নিচার, বাঁশ-বেত ও মৃৎশিল্পসহ নানা পণ্যের স্টল। পাশাপাশি নাগরদোলা, যাদু প্রদর্শনী ও কমেডিয়ানদের উপস্থিতি মেলাকে করে তোলে আরও আকর্ষণীয়। তবে সব আয়োজনকে ছাপিয়ে মেলার প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা।

শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ—সব বয়সী ও পেশার মানুষের একটাই লক্ষ্য ছিল ঘোড়দৌড় উপভোগ করা। তাই দূরদূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরা মাঠ ও সড়কের দু’পাশে সারিবদ্ধ হয়ে দুই চোখ ভরে উপভোগ করেন প্রতিযোগিতা।

ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ১৫টি ঘোড়া আনা হয়। দুপুর ২টার দিকে প্রতিযোগিতা শুরুর আগে ঘোড়ার মালিক, ফকির ও ছোয়ার (জকি)রা ঘোড়ার প্রস্তুতি ও পথপরিক্রমা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটান। পরে শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত সেই ঘোড়দৌড়। শীতের বিকেলের মিষ্টি রোদে লাখো দর্শকের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা রূপ নেয় এক ব্যতিক্রমী আনন্দ উৎসবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “বড়রিয়া মেলা আশপাশের কয়েকটি জেলার মধ্যে অন্যতম বৃহৎ গ্রামীণ মেলা। এই মেলায় গ্রামের শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষ বছরে একটি দিন আনন্দে মেতে ওঠার সুযোগ পান। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মেলা কমিটির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম খান বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক শাহাজান সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রাজিবসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

শতবর্ষের ঐতিহ্য গ্রামবাংলার ঘোড়দৌড়, গ্রামীণ মেলা

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১১:৩৬:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

মো. ইমরোজুল ইসলাম, মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি : খুলনা বিভাগের অন্যতম বৃহৎ ও শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা ও ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বড়রিয়া গ্রামে। এ মেলাকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশে মেতে ওঠে আশপাশের অন্তত ৫০টি গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ। গ্রামবাংলার প্রাণের এই আয়োজনে মিলেছে ঐতিহ্য, আনন্দ আর মানুষের মিলনমেলা।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের বড়রিয়া গ্রামে শত বছরের বেশি পুরোনো এই মেলা ও ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর বাংলা পৌষ মাসের ২৮ তারিখে আয়োজিত এ মেলা দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সর্ববৃহৎ গ্রামীণ উৎসবগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। মূল মেলার দিনকে ঘিরে আগে-পরে প্রায় ১৫ দিন ধরে চলে নানা আনন্দ আয়োজন। এ সময় প্রতিটি বাড়িতে দূরদূরান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজনের আগমনে গ্রামজুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।

প্রায় দুই বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বসে মাছ-মাংস, মিষ্টি, ফার্নিচার, বাঁশ-বেত ও মৃৎশিল্পসহ নানা পণ্যের স্টল। পাশাপাশি নাগরদোলা, যাদু প্রদর্শনী ও কমেডিয়ানদের উপস্থিতি মেলাকে করে তোলে আরও আকর্ষণীয়। তবে সব আয়োজনকে ছাপিয়ে মেলার প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা।

শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ—সব বয়সী ও পেশার মানুষের একটাই লক্ষ্য ছিল ঘোড়দৌড় উপভোগ করা। তাই দূরদূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরা মাঠ ও সড়কের দু’পাশে সারিবদ্ধ হয়ে দুই চোখ ভরে উপভোগ করেন প্রতিযোগিতা।

ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ১৫টি ঘোড়া আনা হয়। দুপুর ২টার দিকে প্রতিযোগিতা শুরুর আগে ঘোড়ার মালিক, ফকির ও ছোয়ার (জকি)রা ঘোড়ার প্রস্তুতি ও পথপরিক্রমা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটান। পরে শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত সেই ঘোড়দৌড়। শীতের বিকেলের মিষ্টি রোদে লাখো দর্শকের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা রূপ নেয় এক ব্যতিক্রমী আনন্দ উৎসবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “বড়রিয়া মেলা আশপাশের কয়েকটি জেলার মধ্যে অন্যতম বৃহৎ গ্রামীণ মেলা। এই মেলায় গ্রামের শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষ বছরে একটি দিন আনন্দে মেতে ওঠার সুযোগ পান। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মেলা কমিটির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম খান বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক শাহাজান সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রাজিবসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।