ঢাকা, বাংলাদেশ। , শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশা সাতকানিয়া-লোহাগাড়াবাসীর

মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:৫৯:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৫৯ বার পঠিত

মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনের সর্বস্তরের মানুষ আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে একটি উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। ঐতিহ্যগতভাবে শান্তিপ্রিয় জনপদ হিসেবে পরিচিত সাতকানিয়া–লোহাগাড়া বরাবরই সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও সহাবস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও এখানকার মানুষ শান্তি ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে সবসময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, এই জনপদের মানুষ মনে করেন, যে যে দলেরই হোক না কেন, পরস্পর পরস্পরের প্রতি সম্মানবোধ বজায় রাখা জরুরি। রাজনীতির ভিন্নতা থাকলেও মানবিক মূল্যবোধে কোনো ভেদাভেদ নেই। ধনী-গরিব, বড়-ছোট কিংবা ক্ষমতাবান ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য না করে সকলের প্রতি সম্মান প্রদর্শনই একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মূল ভিত্তি। এমনটাই অভিমত এলাকাবাসীর।
এখানকার মানুষ দলের প্রতি অন্ধ আনুগত্যের চেয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা ও ভোটাধিকারকে বেশি গুরুত্ব দেন। সাধারণ ভোটারের অবাধ, সুষ্ঠু ও নির্ভীক ভোটে যিনি নির্বাচিত হবেন, তিনিই হবেন এই এলাকার প্রকৃত কর্ণধার। এমন বিশ্বাসে আস্থাশীল সাতকানিয়া–লোহাগাড়ার জনগণ।
একজন প্রবীণ শিক্ষক বলেন,
“নির্বাচন একটি জাতির গণতান্ত্রিক চর্চার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আমরা চাই, যে যে দলের হোক, সবাই যেন একে অপরকে সম্মান করে। ধনী-গরিবের কোনো পার্থক্য থাকবে না। ভোট হবে উৎসবের মতো,ভয়হীন ও শান্তিপূর্ণ। নির্বাচনের আগে ও পরে যেন কোনো অশান্তি না হয়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।”
এদিকে একজন আইনজীবী তার বক্তব্যে বলেন,
“আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও পারস্পরিক সম্মানবোধ বজায় থাকলেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকলেও কাউকে হেয় করা বা ভয় দেখানো গণতন্ত্রের পরিপন্থী।”
এলাকাবাসীর মতে, নির্বাচন কেবল একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, এটি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বাছাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই নির্বাচন-পূর্ব সময় থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণের দিন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময় পর্যন্ত যেন কোনো ধরনের সহিংসতা, উত্তেজনা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। এটাই সকলের অভিন্ন কামনা।
ধনী-গরিব নির্বিশেষে কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ চান,রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা হোক শালীন, বক্তব্য হোক দায়িত্বশীল এবং পারস্পরিক সম্মান ও সহনশীলতার মধ্য দিয়েই হোক নির্বাচনী কার্যক্রম।
সাতকানিয়া–লোহাগাড়ার সচেতন মহল মনে করেন, একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনই পারে এই অঞ্চলের উন্নয়ন, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও সুদৃঢ় করতে। শান্তির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামোসহ সামগ্রিক উন্নয়নের পথ আরও প্রশস্ত হবে। এমনটাই বিশ্বাস স্থানীয়দের।
সব মিলিয়ে, সাতকানিয়া–লোহাগাড়ার মানুষ একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ও উৎসবের আবহ উপভোগ করতে চান। পারস্পরিক সম্মান, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ বজায় থাকলেই শান্তিপ্রিয় এই জনপদ আরও সমৃদ্ধ ও মানবিক হয়ে উঠবে।এমন আশাই সকলের।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশা সাতকানিয়া-লোহাগাড়াবাসীর

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:৫৯:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনের সর্বস্তরের মানুষ আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে একটি উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। ঐতিহ্যগতভাবে শান্তিপ্রিয় জনপদ হিসেবে পরিচিত সাতকানিয়া–লোহাগাড়া বরাবরই সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও সহাবস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও এখানকার মানুষ শান্তি ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে সবসময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, এই জনপদের মানুষ মনে করেন, যে যে দলেরই হোক না কেন, পরস্পর পরস্পরের প্রতি সম্মানবোধ বজায় রাখা জরুরি। রাজনীতির ভিন্নতা থাকলেও মানবিক মূল্যবোধে কোনো ভেদাভেদ নেই। ধনী-গরিব, বড়-ছোট কিংবা ক্ষমতাবান ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য না করে সকলের প্রতি সম্মান প্রদর্শনই একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মূল ভিত্তি। এমনটাই অভিমত এলাকাবাসীর।
এখানকার মানুষ দলের প্রতি অন্ধ আনুগত্যের চেয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা ও ভোটাধিকারকে বেশি গুরুত্ব দেন। সাধারণ ভোটারের অবাধ, সুষ্ঠু ও নির্ভীক ভোটে যিনি নির্বাচিত হবেন, তিনিই হবেন এই এলাকার প্রকৃত কর্ণধার। এমন বিশ্বাসে আস্থাশীল সাতকানিয়া–লোহাগাড়ার জনগণ।
একজন প্রবীণ শিক্ষক বলেন,
“নির্বাচন একটি জাতির গণতান্ত্রিক চর্চার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আমরা চাই, যে যে দলের হোক, সবাই যেন একে অপরকে সম্মান করে। ধনী-গরিবের কোনো পার্থক্য থাকবে না। ভোট হবে উৎসবের মতো,ভয়হীন ও শান্তিপূর্ণ। নির্বাচনের আগে ও পরে যেন কোনো অশান্তি না হয়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।”
এদিকে একজন আইনজীবী তার বক্তব্যে বলেন,
“আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও পারস্পরিক সম্মানবোধ বজায় থাকলেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকলেও কাউকে হেয় করা বা ভয় দেখানো গণতন্ত্রের পরিপন্থী।”
এলাকাবাসীর মতে, নির্বাচন কেবল একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, এটি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বাছাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই নির্বাচন-পূর্ব সময় থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণের দিন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময় পর্যন্ত যেন কোনো ধরনের সহিংসতা, উত্তেজনা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। এটাই সকলের অভিন্ন কামনা।
ধনী-গরিব নির্বিশেষে কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ চান,রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা হোক শালীন, বক্তব্য হোক দায়িত্বশীল এবং পারস্পরিক সম্মান ও সহনশীলতার মধ্য দিয়েই হোক নির্বাচনী কার্যক্রম।
সাতকানিয়া–লোহাগাড়ার সচেতন মহল মনে করেন, একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনই পারে এই অঞ্চলের উন্নয়ন, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও সুদৃঢ় করতে। শান্তির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামোসহ সামগ্রিক উন্নয়নের পথ আরও প্রশস্ত হবে। এমনটাই বিশ্বাস স্থানীয়দের।
সব মিলিয়ে, সাতকানিয়া–লোহাগাড়ার মানুষ একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ও উৎসবের আবহ উপভোগ করতে চান। পারস্পরিক সম্মান, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ বজায় থাকলেই শান্তিপ্রিয় এই জনপদ আরও সমৃদ্ধ ও মানবিক হয়ে উঠবে।এমন আশাই সকলের।