ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
তাজা খবর
“কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র অভিনন্দন
উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ১৪৪ তম খুলনা দিবস!
চট্রগ্রামের জব্বারের বলি খেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হোমনার বাঘা শরীফ
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও তরুণ ভোটারেই নির্ভর করছে জয়-পরাজয়

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ১০:০৮:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৮০ বার পঠিত

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: রাজশাহী-১ সংসদীয় আসন (তানোর–গোদাগাড়ী) আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পরিণত হয়েছে উত্তপ্ত রাজনৈতিক ময়দানে। বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকা, বিপুল ভোটার এবং সামাজিক বৈচিত্র্যের কারণে এই আসনটি সব সময়ই আলাদা গুরুত্ব বহন করে। এবারের নির্বাচনে সেই গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ, এখানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে, আর সেই লড়াইয়ের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও তরুণ ভোটাররা।
তানোর ও গোদাগাড়ী—এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-১ আসনে গোদাগাড়ী উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। অতীতের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই ভোটারদের সমর্থন যেদিকে গেছে, নির্বাচনের ভাগ্যও অনেকাংশে সেদিকেই নির্ধারিত হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী—উভয় দলই এই জনগোষ্ঠীর সমর্থন আদায়ে বিশেষ কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে।
এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দিন এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের মধ্যে। দুজনই নিজ নিজ দলের সাংগঠনিক শক্তি ও ব্যক্তিগত পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। পাশাপাশি এবি পার্টির মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রহমান (ঈগল প্রতীক) এবং গণ-অধিকার পরিষদের প্রার্থী শাহজাহান (ট্রাক প্রতীক) প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে তাঁদের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থন তুলনামূলকভাবে সীমিত হওয়ায় মূল লড়াইয়ে বড় কোনো প্রভাব ফেলবেন—এমনটা মনে করছেন না স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
২০০৮ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের দখলে থাকা আসনটি এবার পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও শুরু থেকেই আসনটিতে শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা চলছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের তেমন কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা এলাকায় নেই। বড় নেতাদের উপস্থিতিও চোখে পড়ছে না। ফলে এবারের নির্বাচনী মাঠ কার্যত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
ভৌগোলিক দিক থেকে রাজশাহী-১ আসন একটি বড় সংসদীয় এলাকা। তানোর উপজেলায় রয়েছে ২টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন এবং গোদাগাড়ী উপজেলায় রয়েছে ২টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন। তানোর উপজেলার আয়তন ২৯৫ দশমিক ৪০ বর্গকিলোমিটার এবং গোদাগাড়ী উপজেলার আয়তন ৪৭৫ দশমিক ২৬ বর্গকিলোমিটার। সব মিলিয়ে মোট আয়তন ৭৭০ দশমিক ৬৬ বর্গকিলোমিটার, যা আয়তনের দিক থেকে দেশের বড় সংসদীয় আসনগুলোর একটি। এই বিশাল এলাকায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভোটারদের কাছে পৌঁছানো রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৭৮ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন। মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৫৯টি। এসব কেন্দ্রে সনাতন ধর্মাবলম্বী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও তরুণ ভোটারের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য, যা শেষ পর্যন্ত ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার প্রকাশ্য অবস্থান। তাঁদের কেউ কেউ জামায়াতের নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে প্রকাশ্যে ভোট চাওয়ায় এলাকায় রাজনৈতিক আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। এমনই এক নেতা বলেন, “আমরা অনেককেই ক্ষমতায় দেখেছি। এবার পরিবর্তন দেখতে চাই। নতুন কিছু প্রত্যাশা থেকেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গেও কথা বলে ভিন্ন ভিন্ন মতামত পাওয়া গেছে। তানোর বাজার এলাকার এক ভোটার বলেন, “এখানে দুজন প্রার্থীই শক্তিশালী। কে আমাদের এলাকার উন্নয়ন আর সমস্যা সমাধানে বেশি আন্তরিক হবে, সেটার ওপরই আমাদের ভোট নির্ভর করবে।” আবার গোদাগাড়ীর এক তরুণ ভোটার জানান, “কর্মসংস্থান আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা যিনি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে পারবেন, আমরা তাঁর দিকেই ঝুঁকব।”
এদিকে দুই প্রধান দলই নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছে। গ্রামগঞ্জে উঠান বৈঠক, পথসভা, লিফলেট বিতরণ এবং সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চেষ্টা করছে উভয় পক্ষ। রাত-দিন বিরামহীন প্রচারণায় মুখরিত পুরো এলাকা।
তানোর উপজেলা বিএনপির এক দায়িত্বশীল নেতা বলেন, “নির্বাচন যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, তাহলে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবেন।” অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতারাও সমান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলছেন, মাঠের পরিস্থিতি তাঁদের পক্ষেই অনুকূল এবং ভোটারদের ইতিবাচক সাড়া তাঁরা পাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে রাজশাহী-১ আসনের নির্বাচনী চিত্র এখনো অনিশ্চিত। এখানে কোনো দলই নিশ্চিত জয়ের দাবি করতে পারছে না। বিপুল ভোটার, বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকা এবং সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সনাতন ধর্মাবলম্বী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও তরুণ ভোটারদের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে—কার হাতে যাবে রাজশাহী-১ আসনের সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব।


















