ঢাকা, বাংলাদেশ || বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, সবাইকে বাংলাদেশি ভাবার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৬:০৮:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪৮ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:   সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, সবাইকে বাংলাদেশি ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহিষ্ণুতা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে দীর্ঘদিন কংসের মতো নিষ্ঠুর শাসক এ দেশের জনগণের কাঁধে চেপে বসেছিল। হাজারো প্রাণের বিনিময়ে সেই ফ্যাসিস্টের পতন ঘটিয়েছে জনগণ।বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন, আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটিয়ে এবার দেশ পুনর্গঠনের পালা। একটি রাষ্ট্র এবং সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মিলন থাকে। এটিই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য।

তিনি বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানে যারা সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু হিসেবে বিবেচিত, ইউরোপ কিংবা আমেরিকা সফরে গেলে আমরা সবাই কিন্তু কথিত সংখ্যালঘু।  সুতরাং বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু, এসব পরিচয় কোনো মুখ্য বিষয় নয়। অতএব, সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, আসুন সবাই নিজেদেরকে বাংলাদেশি ভাবি।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্র এবং সমাজে দল মত ধর্ম বর্ণ পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ বৈষম্য সৃষ্টির কারণ না হয়, সেই উপলব্ধি থেকেই দেশের সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ রাখতে স্বাধীনতার ঘোষকের যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন ‘‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’’। আমাদের সকল নাগরিকের গর্বিত পরিচয় ‘‘আমরা বাংলাদেশি’’।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ নানাভাবে গুজব ছড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এজন্য ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহিষ্ণুতা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এই দেশ সবার উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘নাগরিক হিসেবে এই দেশে আপনার-আমার- আমাদের সকলের অধিকার সমান। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, বিএনপি বিশ্বাস করে, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার”। ধর্ম যার যার নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার।’

এর আগে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবায়েতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পরে ৯ জন সেবায়েত ও পুরোহিতের হাতে ভাতা তুলে দেন তিনি। একই সঙ্গে সারাদেশে আরও ৬৪ জন সেবায়েত ও পুরোহিতকে ভাতা দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ), প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধি, ধর্মীয় গুরু, বিশিষ্ট নাগরিক এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পুরোহিত ও সেবাইতগণ অংশ নেন।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
13 October 2026

নাঙ্গলকোটে শিক্ষার মানোন্নয়নে অংশীজনদের করণীয় বিষয়ে অভিভাবক সমাবেশ

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com

সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, সবাইকে বাংলাদেশি ভাবার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৬:০৮:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:   সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, সবাইকে বাংলাদেশি ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহিষ্ণুতা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে দীর্ঘদিন কংসের মতো নিষ্ঠুর শাসক এ দেশের জনগণের কাঁধে চেপে বসেছিল। হাজারো প্রাণের বিনিময়ে সেই ফ্যাসিস্টের পতন ঘটিয়েছে জনগণ।বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন, আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটিয়ে এবার দেশ পুনর্গঠনের পালা। একটি রাষ্ট্র এবং সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মিলন থাকে। এটিই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য।

তিনি বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানে যারা সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু হিসেবে বিবেচিত, ইউরোপ কিংবা আমেরিকা সফরে গেলে আমরা সবাই কিন্তু কথিত সংখ্যালঘু।  সুতরাং বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু, এসব পরিচয় কোনো মুখ্য বিষয় নয়। অতএব, সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, আসুন সবাই নিজেদেরকে বাংলাদেশি ভাবি।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্র এবং সমাজে দল মত ধর্ম বর্ণ পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ বৈষম্য সৃষ্টির কারণ না হয়, সেই উপলব্ধি থেকেই দেশের সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ রাখতে স্বাধীনতার ঘোষকের যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন ‘‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’’। আমাদের সকল নাগরিকের গর্বিত পরিচয় ‘‘আমরা বাংলাদেশি’’।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ নানাভাবে গুজব ছড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এজন্য ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহিষ্ণুতা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এই দেশ সবার উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘নাগরিক হিসেবে এই দেশে আপনার-আমার- আমাদের সকলের অধিকার সমান। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, বিএনপি বিশ্বাস করে, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার”। ধর্ম যার যার নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার।’

এর আগে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবায়েতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পরে ৯ জন সেবায়েত ও পুরোহিতের হাতে ভাতা তুলে দেন তিনি। একই সঙ্গে সারাদেশে আরও ৬৪ জন সেবায়েত ও পুরোহিতকে ভাতা দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ), প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধি, ধর্মীয় গুরু, বিশিষ্ট নাগরিক এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পুরোহিত ও সেবাইতগণ অংশ নেন।

Share this news as a Photo Card