
বিপ্লব সাহা, খুলনা
খুলনা এখন জিম্মি হয়ে পড়েছে সন্ত্রাসীদের হাতে প্রতিনিয়ত হচ্ছে খুন সাথে সন্ত্রাস চাঁদাবাজি বেড়েই চলেছে ক্রমান্বয়ে অশান্ত রূপ ধারণ করছে নগরী সর্বক্ষণ আতংক বিরাজ করছে নগরবাসীর মনে মহানগর থেকে শুরু করে আশপাশের উপজেলায় একের পর এক প্রকাশ্যে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গোটা অঞ্চলজুড়ে এখন থমথমে পরিস্থিতি ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দিনদুপুরে কিংবা রাতের আঁধারে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অপরাধীরা। চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ২০ দিনেই ছয়জনের নির্মম মৃত্যু সেই আতঙ্কের চিত্রকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে মাদকের কারবার এবং স্থানীয় কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর আধিপত্য বিস্তারের রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্ব। অপরাধ করে দ্রুত পার্শ্ববর্তী জেলায় পালিয়ে যাওয়া এবং জামিনে বেরিয়ে পুনরায় অপরাধে জড়ানোর কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে বেগ পেতে হচ্ছে প্রশাসনকে।
শহরঘেঁষা বটিয়াঘাটা উপজেলার বটিয়াঘাটা বাজার সংলগ্ন নদী থেকে এক অজ্ঞাতনামা তরুণীর ভাসমান লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৯ আগস্ট (লবণচরায় জোড়া খুন): আশিবিঘা এলাকায় ফুটবল খেলা নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে মঞ্জুরুল ইসলাম (২২) নামে এক রাজমিস্ত্রির সহকারীকে প্রকাশ্যে গুলি ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এলাকাটিতে ‘সাইফি গ্রুপ’ ও ‘রাজু গ্রুপ’ নামে দুটি সক্রিয় সন্ত্রাসী দলের দ্বন্দ্ব রয়েছে। এই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই এলাকার অপর প্রান্ত থেকে নাজমুল (১৮) নামে আরেক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়, যাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়েছিল মুখোশধারীরা। ১৮ আগস্ট: আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহলে রাজু শিকদার নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। একই রাতে রূপসার নৈহাটিতে মামুন মীর (৩৫) নামে এক যুবককে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ১৫ আগস্ট: রূপসার আইচগাতী ইউনিয়নে জয় ঢালী (২৫) নামের এক তরুণকে কুপিয়ে ও গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ১১ আগস্ট: রূপসার নৈহাটির একটি ইটভাটায় ফখরুল শেখ নামে এক যুবদল কর্মীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে দুষ্কৃতকারীরা।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে মহানগরীতে হত্যাকাণ্ডের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত যেখানে মোট হত্যা মামলা হয়েছিল ১৯টি, সেখানে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২টিতে। হঠাৎ অপরাধের এই ঊর্ধ্বগতি সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
খুলনার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই চরম অবনতিতে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নাগরিক সমাজ। খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, “খুলনা শহরে এখন স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পরিবেশ নেই, চারিদিকে শুধু আতঙ্কের ছায়া। অবিলম্বে খুলনাকে সন্ত্রাসকবলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করে বিশেষ যৌথ অভিযান চালানো প্রয়োজন। তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না করা পর্যন্ত নাগরিকদের নিরাপত্তাহীনতা কাটবে লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন জানান, জোড়া খুনের ঘটনাটি ফুটবল খেলা ও স্থানীয় বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটলেও এর পেছনে অন্য কোনো গভীর রহস্য আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কেএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পরই মামলা দায়ের হয়েছে এবং পুলিশ ও র্যা ব যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। আশিবিঘার জোড়া খুনের ঘটনায় র্যা ব দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যৌথ বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 



















