ঢাকা, বাংলাদেশ। , শনিবার, ০২ মে ২০২৬
কাউখালীর বেকুটিয়া সেতুতে ল্যাম্প পোষ্টের বৈদ্যুতিক তার চুরি 

সন্ধ্যা হলেই নেমে আসে  অন্ধকার, ঝুঁকিতে যানবাহন চলাচল

এনামুল হক
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৮:১৬:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
  • / ৭৮ বার পঠিত

 

পিরোজপুর- কাউখালীর সীমানা নির্ধারণকারি  কঁচা নদীর উপর নির্মিত ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী বেকুটিয়া সেতুটি নির্মাণের ৪ বছর পার হতে না হতেই ইলেকট্রিক্যাল  বাতি জ্বলছে না।

সন্ধ্যা হলেই এক কিলোমিটার এলাকা কালো অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যায়। কারণ  রাতের আঁধারে চোরেরা ব্রিজের ল্যাম্পপোস্টের মূল সংযোগ লাইনটি  কাউখালী অংশে  মাটির নিচ থেকে চুরি করে কেটে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই ব্রিজের অর্ধেক  অংশে বৈদ্যুতিক আলো থাকলেও কাউখালীর অংশ ঝুঁকিতে  পড়েছে।বর্তমানে রাতের বেলায়  এই ব্রিজের উপর দিয়ে চলাচল করা গাড়ির চালক ও যাত্রীরা চরম ঝুঁকিনিয়ে  সেতুর ১ কিলোমিটার পার হতে হয়। সন্ধ্যা হলেই এই ব্রীজ পারাপার হতে সকলেই আতঙ্কের মধ্যে পড়েন।  কখন জানি সড়ক দুর্ঘটনা অথবা চোর-ডাকাত, ছিনতাই কারীর কবলে পড়ে সবকিছু হারাতে হয় যাত্রীদের।

এছাড়া বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে সাধারণ মানুষ বিকেল হলেই বেকুটিয়া সেতুতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসত কিন্তু তারাও একই ভয়ে এখন অনেকেই আসে না। সন্ধ্যার পরই ব্রিজের মাঝখান থেকে নতুন বাজার   অংশে বৈদ্যুতিক বাতিগুলো না জ্বলার কারণে এই অংশটা  অন্ধকার পুড়িতে পরিণত হয়। ল্যাম্প পোস্টে বিদ্যুত সরবরাহের প্রায় ৪০০ মিটার মূল্যবান বৈদ্যুতিক তার চুরি হওয়ার পর এমন অবস্থা বিরাজ করছে।

তবে কবে নাগাদ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে তা নিশ্চিতকরে বলতে পারছেন না।  এর ফলে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে সেতুটির অর্ধেকের বেশি অংশ।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে  ১৮ই জুলাই , শুক্রবার রাতের কোন এক সময় সেতুটিতে বিদ্যুৎ  সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মাটির নিচে থাকা বিদ্যুতের তারগুলো চুরি করা হয়।

এর ফলে বেনাপোল -খুলনা থেকে আশা গাড়িগুলো বেকুটিয়া সেতু পার হয়ে  বরিশাল কুয়াকাটা  রুটে চলাচল করেত বিঘ্ন হয় ।

যাত্রী এডভোকেট জহুরুল ইসলাম ও রিপন আইস বলেন  বন্ধ হওয়া লাইনটি দ্রুত চালু করা না গেলে সেতুটিতে রাতের বেলা  সড়ক দুর্ঘটনা, ছিনতাই ও ডাকাতির আংশকা রয়েছে।

এ বিষয়ে পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ জানিয়েছেন

সেতুটির ল্যাম্প পোস্টে বিদ্যুৎ সরবরাহের লাইনটি মাটির নিচ দিয়ে চীনের নির্মান প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে লাইনটি সচল করা সম্ভব নয়। এছাড়া লাইনি নির্মান করা অনেক ব্যয়বহুল। তবে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য চেষ্টা অব্যাহত আছে। তিনি  আরো জানিয়েছেন এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ছিনতাই ডাকাতি প্রতিরোধ করতে পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে।

কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সোলায়মান বলেন অপরাধীদের চিহ্নিত করার জন্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

এছাড়া সাধারণ মানুষ ও যানবাহনের সেতু পারাপার নির্বিঘ্ন করতে ল্যাম্প পোস্ট বন্ধ হওয়া অংশে পুলিশের টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। উল্লেখ্য চীন সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুটি চলাচলের জন্য ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করা হয়।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

কাউখালীর বেকুটিয়া সেতুতে ল্যাম্প পোষ্টের বৈদ্যুতিক তার চুরি 

সন্ধ্যা হলেই নেমে আসে  অন্ধকার, ঝুঁকিতে যানবাহন চলাচল

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৮:১৬:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫

 

পিরোজপুর- কাউখালীর সীমানা নির্ধারণকারি  কঁচা নদীর উপর নির্মিত ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী বেকুটিয়া সেতুটি নির্মাণের ৪ বছর পার হতে না হতেই ইলেকট্রিক্যাল  বাতি জ্বলছে না।

সন্ধ্যা হলেই এক কিলোমিটার এলাকা কালো অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যায়। কারণ  রাতের আঁধারে চোরেরা ব্রিজের ল্যাম্পপোস্টের মূল সংযোগ লাইনটি  কাউখালী অংশে  মাটির নিচ থেকে চুরি করে কেটে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই ব্রিজের অর্ধেক  অংশে বৈদ্যুতিক আলো থাকলেও কাউখালীর অংশ ঝুঁকিতে  পড়েছে।বর্তমানে রাতের বেলায়  এই ব্রিজের উপর দিয়ে চলাচল করা গাড়ির চালক ও যাত্রীরা চরম ঝুঁকিনিয়ে  সেতুর ১ কিলোমিটার পার হতে হয়। সন্ধ্যা হলেই এই ব্রীজ পারাপার হতে সকলেই আতঙ্কের মধ্যে পড়েন।  কখন জানি সড়ক দুর্ঘটনা অথবা চোর-ডাকাত, ছিনতাই কারীর কবলে পড়ে সবকিছু হারাতে হয় যাত্রীদের।

এছাড়া বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে সাধারণ মানুষ বিকেল হলেই বেকুটিয়া সেতুতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসত কিন্তু তারাও একই ভয়ে এখন অনেকেই আসে না। সন্ধ্যার পরই ব্রিজের মাঝখান থেকে নতুন বাজার   অংশে বৈদ্যুতিক বাতিগুলো না জ্বলার কারণে এই অংশটা  অন্ধকার পুড়িতে পরিণত হয়। ল্যাম্প পোস্টে বিদ্যুত সরবরাহের প্রায় ৪০০ মিটার মূল্যবান বৈদ্যুতিক তার চুরি হওয়ার পর এমন অবস্থা বিরাজ করছে।

তবে কবে নাগাদ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে তা নিশ্চিতকরে বলতে পারছেন না।  এর ফলে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে সেতুটির অর্ধেকের বেশি অংশ।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে  ১৮ই জুলাই , শুক্রবার রাতের কোন এক সময় সেতুটিতে বিদ্যুৎ  সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মাটির নিচে থাকা বিদ্যুতের তারগুলো চুরি করা হয়।

এর ফলে বেনাপোল -খুলনা থেকে আশা গাড়িগুলো বেকুটিয়া সেতু পার হয়ে  বরিশাল কুয়াকাটা  রুটে চলাচল করেত বিঘ্ন হয় ।

যাত্রী এডভোকেট জহুরুল ইসলাম ও রিপন আইস বলেন  বন্ধ হওয়া লাইনটি দ্রুত চালু করা না গেলে সেতুটিতে রাতের বেলা  সড়ক দুর্ঘটনা, ছিনতাই ও ডাকাতির আংশকা রয়েছে।

এ বিষয়ে পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ জানিয়েছেন

সেতুটির ল্যাম্প পোস্টে বিদ্যুৎ সরবরাহের লাইনটি মাটির নিচ দিয়ে চীনের নির্মান প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে লাইনটি সচল করা সম্ভব নয়। এছাড়া লাইনি নির্মান করা অনেক ব্যয়বহুল। তবে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য চেষ্টা অব্যাহত আছে। তিনি  আরো জানিয়েছেন এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ছিনতাই ডাকাতি প্রতিরোধ করতে পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে।

কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সোলায়মান বলেন অপরাধীদের চিহ্নিত করার জন্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

এছাড়া সাধারণ মানুষ ও যানবাহনের সেতু পারাপার নির্বিঘ্ন করতে ল্যাম্প পোস্ট বন্ধ হওয়া অংশে পুলিশের টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। উল্লেখ্য চীন সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুটি চলাচলের জন্য ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করা হয়।