ঢাকা, বাংলাদেশ। , শনিবার, ০২ মে ২০২৬

সরকারি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালকের অভাবে অচল সেবা ব্যবস্থা

রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:১৮:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২২ বার পঠিত
রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী:  রাজবাড়ীতে সরকারি হাসপাতালগুলোতে অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালকের অভাবে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে সেবা ব্যবস্থা। ফলে জরুরি মুহূর্তে রোগী ও তাদের স্বজনদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। অনেক অ্যাম্বুলেন্স গ্যারেজে পড়ে থেকে ধুলো জমছে, কোথাও মাকড়শার জাল, আবার কোনো গাড়ির টায়ারে নেই বাতাস—যেন ব্যবহারের অপেক্ষায় নিস্তব্ধ।
জেলা সদর হাসপাতালে চারটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালকের পদ রয়েছে মাত্র দুটি। এর মধ্যে একজন বহু আগেই অবসরে গেছেন। বর্তমানে দায়িত্বে থাকা একমাত্র চালক মো. মাসুদ বলেন, “আমি একা কী করবো? একবার ঢাকায় রোগী নিয়ে গেলে আর অন্য কোনো সার্ভিস দেওয়া সম্ভব হয় না।”
উপজেলা পর্যায়ে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় তিন বছর ধরে গ্যারেজে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। চালক অবসরে যাওয়ার পর থেকে সেটি আর ব্যবহৃত হয়নি।
এদিকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের বেড়াডাঙ্গায় অবস্থিত ২০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের অ্যাম্বুলেন্সটিও একই চিত্র। ২০২৩ সালে চালক অবসরে যাওয়ার পর থেকে গাড়িটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ফলে মা ও শিশুদের জরুরি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স।
হাসপাতালে আসা রোগীদের স্বজনরা জানান, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া এখন ভাগ্যের ব্যাপার। যেখানে সরকারি ভাড়া মাত্র ৬৬০ টাকা, সেখানে চালক না থাকায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে দিতে হচ্ছে প্রায় ২ হাজার টাকা পর্যন্ত।
মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে আসা একাধিক স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি টাকায় কেনা অ্যাম্বুলেন্স গ্যারেজে পড়ে আছে, অথচ আমরা প্রয়োজনেও ব্যবহার করতে পারছি না। শুধু চালকের অভাবে এমন অবস্থা—এটা খুবই দুঃখজনক।”
এ বিষয়ে,জেলা সিভিল সার্জন এস এম মাসুদ জানান, শুধু চালক নয়, পুরো জেলাতেই জনবল সংকট রয়েছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে নতুন নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট কাটানো সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

সরকারি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালকের অভাবে অচল সেবা ব্যবস্থা

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:১৮:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী:  রাজবাড়ীতে সরকারি হাসপাতালগুলোতে অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালকের অভাবে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে সেবা ব্যবস্থা। ফলে জরুরি মুহূর্তে রোগী ও তাদের স্বজনদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। অনেক অ্যাম্বুলেন্স গ্যারেজে পড়ে থেকে ধুলো জমছে, কোথাও মাকড়শার জাল, আবার কোনো গাড়ির টায়ারে নেই বাতাস—যেন ব্যবহারের অপেক্ষায় নিস্তব্ধ।
জেলা সদর হাসপাতালে চারটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালকের পদ রয়েছে মাত্র দুটি। এর মধ্যে একজন বহু আগেই অবসরে গেছেন। বর্তমানে দায়িত্বে থাকা একমাত্র চালক মো. মাসুদ বলেন, “আমি একা কী করবো? একবার ঢাকায় রোগী নিয়ে গেলে আর অন্য কোনো সার্ভিস দেওয়া সম্ভব হয় না।”
উপজেলা পর্যায়ে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় তিন বছর ধরে গ্যারেজে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। চালক অবসরে যাওয়ার পর থেকে সেটি আর ব্যবহৃত হয়নি।
এদিকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের বেড়াডাঙ্গায় অবস্থিত ২০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের অ্যাম্বুলেন্সটিও একই চিত্র। ২০২৩ সালে চালক অবসরে যাওয়ার পর থেকে গাড়িটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ফলে মা ও শিশুদের জরুরি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স।
হাসপাতালে আসা রোগীদের স্বজনরা জানান, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া এখন ভাগ্যের ব্যাপার। যেখানে সরকারি ভাড়া মাত্র ৬৬০ টাকা, সেখানে চালক না থাকায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে দিতে হচ্ছে প্রায় ২ হাজার টাকা পর্যন্ত।
মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে আসা একাধিক স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি টাকায় কেনা অ্যাম্বুলেন্স গ্যারেজে পড়ে আছে, অথচ আমরা প্রয়োজনেও ব্যবহার করতে পারছি না। শুধু চালকের অভাবে এমন অবস্থা—এটা খুবই দুঃখজনক।”
এ বিষয়ে,জেলা সিভিল সার্জন এস এম মাসুদ জানান, শুধু চালক নয়, পুরো জেলাতেই জনবল সংকট রয়েছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে নতুন নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট কাটানো সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।