ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
তাজা খবর
“কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র অভিনন্দন
উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ১৪৪ তম খুলনা দিবস!
চট্রগ্রামের জব্বারের বলি খেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হোমনার বাঘা শরীফ
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ
সাংবাদিক নেতার ওপর হামলা: প্রধান অভিযুক্তরা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:১৭:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
- / ৫৪ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: রাজশাহীর বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের ওপর সশস্ত্র হামলা ও চাঁদা দাবির ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ঘটনার মূল অভিযুক্তরা এখনও ধরা পড়েনি। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন ও সুরুজ আলীকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সাংবাদিক নেতাদের দাবি, হামলায় সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের অনেকেই প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও পুলিশ তাদের পলাতক বলে উল্লেখ করছে। এমনকি তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অভিযান চালানো হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রেসক্লাবের কয়েকজন নেতা জানান, ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত। তাদের মতে, রেজাউল করিমকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে একদল সন্ত্রাসী প্রেসক্লাবে হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীদের কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের জড়িত থাকার বিষয়টি নিয়ে দম্ভোক্তি করছে এবং নানা ধরনের অপপ্রচারও চালাচ্ছে। তারা প্রশাসনকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা দেখিয়ে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এ ঘটনায় বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে তার পক্ষ থেকে তেমন কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। তিনি জানিয়েছেন, মামলার এজাহারে যাদের নাম রয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশ কাজ করছে। তবে এজাহারে নাম না থাকা অজ্ঞাত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া গ্রেপ্তার করা কঠিন।
এই বক্তব্যের পর থেকেই পুলিশের অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, মামলার তদন্তকে ধীরগতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সাংবাদিক নেতারা বলেছেন, অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। তারা আরও জানান, ঈদের আগে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে বড় ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হয়নি। তবে ঈদের পর থেকে এ ঘটনার বিচার দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে কিছুদিন ধরে নুরে ইসলাম মিলন, সুরুজ আলীসহ তাদের কয়েকজন সহযোগী চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করা হলে গত ৭ মার্চ রাত প্রায় আটটার দিকে একদল হামলাকারী দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি ও ধারালো কুড়াল নিয়ে প্রেসক্লাবে হামলা চালায়।
হামলার সময় অভিযোগ রয়েছে, নুরে ইসলাম মিলন পিস্তল বের করে প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের মাথায় ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ সময় সুরুজ আলী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে প্রতিরোধ করেন। এতে তার উরুতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং পরে সেখানে ১৩টি সেলাই দিতে হয়। বর্তমানে তিনি নিজ বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন রবিবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট এলাকায় সাংবাদিকদের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্থানীয় সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নিয়ে দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন ও সুরুজ আলীর বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সাধারণ মানুষের ওপর হামলার ঘটনায় তাদের নাম উঠে আসে এবং সে ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। ওই মামলায় তারা দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন বলেও জানা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে তারা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং প্রশাসনকে প্রভাবিত করার দাপট দেখিয়ে প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে।
এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, ঘটনার সময় ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস পুলিশ জব্দ করেছে এবং এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে।
তবে সাংবাদিক সমাজের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মূল অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এজন্য তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


















