সর্বশেষ পরিমার্জন:
০৪:৫৯:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫
/
১৩৬
বার পঠিত
হাসান মামুন, দক্ষিণাঞ্চল প্রতিবেদক :: প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হওয়া সত্তে¡ও সড়কগুলো দেখে মনে হবে গ্রামের কোন কাদা-মাটির রাস্তা। খানাখন্দে পানি জমে অধিকাংশ রাস্তাই চলাচলের অনুপযোগী। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। সময় অনেক গড়ালেও প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্তে¡ও এখানে নাগরিক সুবিধা বিপর্যস্ত। জানাযায়, পৌরসভায় প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে, যার ৯০ শতাংশ রাস্তাই ভাঙ্গা ও চলাচলের অনুপযোগী। ভাঙ্গা রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। বর্ষা মৌসুমে যা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাঝে মাঝে নামমাত্র কিছু সড়ক মেরামত করা হলেও তা নিন্ম মানের হওয়ায় কয়েক মাসের মধ্যেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। ফলে সীমাহীন দূর্ভোগ আর ভোগান্তী নিত্য দিনের সঙ্গী পৌর এলাকায় বসবার করা লক্ষাধীক মানুষের। দেখা গেছে, পৌরসভার মূল শহরের ৪, ৫, ৬ ও ৭নং ওয়ার্ডের সড়ক দেখে গ্রামের কোন কাদা-মাটির সড়ক মনে হয়। জেলা শহরে ক্লাব রোড (কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ), সিআইপাড়া সড়ক, শেখ পাড়া, মধ্যরাস্তা, আদর্শ পাড়া, প্রেসক্লাব সড়ক, পুরনো পৌরসভা, কাপুরিয়া, পোস্ট অফিস সড়ক, খলিফা পট্রি, স্বর্নকার পট্রি, বাজার রোড, রাজারহাট রোড, পশ্চিম শিকারপুর, বলেশ্বর ব্রীজ এলাকা-লাহুরী পর্যন্ত, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায়-পাড়েরহাট সড়ক পর্যন্ত, সিআইপাড়া সড়কের সরদার বাড়ি, মোল্লা বাড়ি, শেখ বাড়িসহ পৌর এলাকার ঘনবসতিপূর্ন বাড়ির পুরনো রাস্তাগুলোর খানাখন্দে একাকার। বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি জমে থাকে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে ডোবার রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন এসব ডোবায় যানবাহন আটকা পড়ে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষদের। প্রতিদিন কোমলমতি শিশুসহ সকলে ভোগান্তি পোহালেও সংশ্লিষ্টদের কারও যেন মাথা ব্যাথা নেই। সংস্কারের জন্য এগিয়ে আসছে না কেউ। সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে, সকলের রাস্তার কাদাপানিতে কাপড় ময়লায় একাকার হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য ব্যবস্থা থাকলেও নেই তার যথাযথ ব্যবহার। ফলে বৃষ্টির পানি জমে নানান সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয়রা জানায়, পানি নিষ্কাশনের জন্য কিছু ড্রেনের ব্যবস্থা থাকলেও সঠিক ভাবে এর ব্যবহার হচ্ছে না বলেই একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে। আর এ দুর্গন্ধ কারনে অনেক সময় নাক চেপে হাঁটতে হয়। জেলার দুটি আঞ্চলিক সড়কে চলাচলকারি সাধারণ মানুষ ও সুবিধাবঞ্চিত পৌরবাসীর জীবন যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বরিশাল-ঝালকাঠি-রাজাপুর-ভান্ডারিয়া-পিরোজপুর আঞ্চলিক সড়কটি দিয়ে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা, মঠবাড়িয়া ও ভান্ডারিয়া উপজেলার সঙ্গে সড়কপথে জেলা সদর বাগেরহাট, খুলনা, রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটে স্থানীয় ও দূর-পাল্লার যানবাহন চলাচল করে। সড়কে খানাখন্দ থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চালকদের চলাচল করতে হচ্ছে। পিরোজপুর অংশে থাকা সড়কে খানাখন্দের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি এখনও পিরোজপুর পৌরসভার সবকটি ওয়ার্ডে পানি সরবারাহের ব্যবস্থা চালু না করা, ড্রেন ও ডাষ্ট বিন সংস্কার করাসহ মেরামত হয়নি পৌর এলাকার রাস্তাগুলো। পৌর এলাকায় বিশেষ করে শহরের প্রাণ কেন্দ্রে অপরিকল্পিত বাড়ি-ঘর, দোকান পাট ও দালান কোটা নির্মান করায় ড্রেনেজ সমস্য প্রকট আকার ধারণ করেছে। বাইপাস এলাকার লোকজন বলছে, সড়কটি সংস্কার করা হয়েছে তা বেশি দিন হয়নি, কিন্তু সঠিকভাবে সংস্কার না করা বা কাজে ফাঁকি দেয়ায় কিছুদিন না যেতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে, তারা এই সমস্যা সমাধানে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন। পৌর এলাকায় ড্রেন নির্মান করা হলেও ময়লা-আবর্জনায় ভরে স্তপ হয়ে থাকে। এসব ড্রেন দিয়ে পানি ও ময়লা আবর্জনা নিষ্কাশন হয় না। তাছাড়া পর্যাপ্ত ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার ফলে সামান্য বর্ষাতেই পানি উপচে রাস্তা ঘাট ও নিকটবতী ডোবা নালায় জমে থাকে। দীর্ঘ দিন জমে থাকা এসব পানিতে নানা রোগ ব্যাধির প্রকোপ দেখা দেয়। বিশেষ করে এসব এলাকায় সৃষ্টি হয় মশার প্রজনন ক্ষেত্র। ফলে এসব এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দুষিত করছে। তবে খাল সংস্কার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা চলছে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে। পর্যায়ক্রমে পৌরসভার অন্যান্য খালগুলোও সংস্কার ও পুনঃখনন করা প্রয়োজন। অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৮৮৫ সালে পৌরসভার সৃষ্টি এসময় শহরের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য শহরের সাধনা পুল সংলগ্ন পশ্চিম উত্তর পাশ্বে ভারানিখাল পাড়ে সুইপার ও ডোমদের বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়। পরে পৌর কতৃপক্ষ এসব সুইপার ও ডোমদের জন্য কৃষ্ণনগর এলাকায় কোয়াটার তৈরি করে সেখানে স্থানান্তর করা উদ্যেগ নিলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। অল্পসখ্যক সুইপার সেখানে স্থানতৃত হলেও একটি বড় অংশ থেকে গেছে শহরের সেই পূর্বের স্থানে। জানাযায়, বিভিন্ন সময় পৌর কতৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন শহরের মধ্যস্থল থেকে এই সুপার কলোনীটি স্থনান্তরের উদ্যেগ নেয়। কিন্তু স্থানীয় কতিপয় রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীর ব্যক্তির কারনে তা সম্ভব হয়নি। এ দিকে সুইপার কলোনীতে তৈরি চোলাই বাংলা মদ, কলোনী ঘিরে মাধক ব্যবসার প্রসার ঘটেছে। শহরের বক্ষে যন্ত্রনাদায়ক সুইপার কলোনী নামক বিশফোড়াটি সচেতন মহলের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পৌরসভা সূত্রে জানাগেছে, ৩১.০৯ বর্গ কি:মি: আয়তনের পৌরসভায় প্রায় লক্ষাধীক মানুষের বসবাস করছে। ১৮৫৯ সালের ২৪ অক্টবর আরো কয়েকটি থানা নিয়ে পিরোজপুর মহাকুমা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৮৪ সালে ১ মার্চ জেলায় উন্নীত করা হয়। আর ১৯৯০ সালে এসে এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নিত হয়। ১৮৮৫ সাল থেকে সুদীর্ঘ ১শ’৪০ বছরের পথ পরিক্রমায় চলা অত্যন্ত পূরাতন ও নড়বড়ে পৌর ভবন শহরের প্রান কেন্দ্র ৫নং ওয়ার্ড থেকে ৭নং ওয়ার্ডের পিরোজপুর-হুলারহাট ফিডার সড়কের সদর উপজেলা সংলগ্ন মনোরম পরিবেশে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রায় ৬৩ শতাংশ ভূমির ওপর পাঁচতলা ভিত্তির তিন তলা বিশিষ্ট ‘এল প্যাটেন’ টাইপের এবং ‘কএ’ ক্যাটাগরির নতুন এই পৌর ভবন। মঠবাড়িয়া-ভান্ডারিয়া রুটের বাসচালক আমিনুল ইসলাম ও মাইক্রোবাস চালক মো. শাহিন বিশ্বাস জানান, সড়কের খানাখন্দ মেরামত করা রা হলে ভারী বর্ষনে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সড়কে খানাখন্দের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বর্ষার আগেই খানাখন্দগুলো সংস্কার করা উচিৎ। স্থানীয় বলেশ্বর ব্রিজ এলাকার বাসিন্দা মো. জুয়েল সরদার বলেন, দূর্নীতি, লুটপাট, অনিয়ম আর দলীয় কোন্দলের কারনে বিগত কয়েক বছরে দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন হয়নি পিরোজপুর পৌরসভার সড়কগুলোতে। সড়ক, ড্রেনের কোনো সংস্কার হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে। পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ উদ্যেগে বেশ কয়েকবার ইট বালুর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তরুণ সমাজসেবক মোঃ মুর্শিদ শেখ। তিনি বলেন, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে দ্রæত সংস্কাররের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এ মহল¬ার সড়ক যেনোতেনো এবং ড্রেনের কোনো সংস্কার হয়নি। শহরের বিভিন্ন নিধারিত স্থানে পৌরসভা কর্তৃত নির্মিত মার্কেটগুলোয় নেই পর্যপ্ত টয়লেট ব্যাবস্থা। কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতাকেই দায়ী করেছেন পৌরবাসী। এলজিইডি এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের পিরোজপুর কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জেলার বিভিন্ন অংশের সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। পিরোজপুর অংশের সড়কের খানাখন্দ শিগগির সংস্কার করা হবে। পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ধ্রুব লাল দত্ত বণিক জানান, পিরোজপুর পৌরসভায় ৮০ কিলোমিটার কার্পেটিং রাস্তা, ৪৮ কিলো মিটার পাকা, দেড় শতাধীক কিলোমিটার হেরিংবন্ড ও ৬৮ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা রয়েছে। যার অধিকাংশই চলাচলের অনুপযোগী। ইতিমধেই পৌর শহরে বিভিন্ন সড়ক ও নর্দমা মেরামত সংস্কার ও পুনর্নিমানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তবে পৌরসভার এ নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন বরাদ্দ না থাকায় সড়ক সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কিছুটা ব্যহত হচ্ছে নাগরিক সুবিধা। বরাদ্দ পেলে সড়ক মেরামত করে পৌরবাসীর দূর্ভোগ লাগব করা হবে।