ঢাকা, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ১৩২ দেশে দাপট দেখাচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ

নাগরিকভাবনা ডেস্ক:   যে দেশ একসময় সামান্য জীবন রক্ষাকারী ওষুধের জন্য বিদেশের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে থাকত, সেই বাংলাদেশ এখন বিশ্ববাজারে ওষুধের অন্যতম বড় শক্তি। অভ্যন্তরীণ চাহিদার ৯৮ শতাংশ মিটিয়ে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা ওষুধ এখন পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্বের ১৩২টি দেশে। গত এক দশকে এই খাতের রপ্তানি আয় বেড়েছে বিস্ময়কর ১৬৭ শতাংশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ওষুধ রপ্তানিতে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এই অর্থবছরে বাংলাদেশ ২৩৮ মিলিয়ন ডলারের ওষুধ রপ্তানি করেছে, যা আগের বছর ছিল ২১৩ মিলিয়ন ডলার। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল মাত্র ৮৯ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ১০ বছরে এই খাত এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের ওষুধের অভ্যন্তরীণ বাজারের আকার প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার। শুধু এশিয়া বা আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো অত্যন্ত কড়া মাননিয়ন্ত্রণকারী দেশগুলোতেও বাংলাদেশি ওষুধের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। বর্তমানে ওষুধ রপ্তানির শীর্ষ তালিকায় রয়েছে শ্রীলঙ্কা। এরপর পর্যায়ক্রমে মিয়ানমার, ফিলিপাইন, যুক্তরাষ্ট্র ও কম্বোডিয়ার অবস্থান। নতুন বাজার হিসেবে পর্তুগালেও বাংলাদেশের ওষুধ প্রবেশ করেছে।

ওষুধশিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সাফল্যের মূলে রয়েছে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধি। বর্তমানে দেশে ১ হাজার ৪০০টি জেনেরিক ও ৪৫ হাজার ব্র্যান্ডের ওষুধ উৎপাদিত হচ্ছে। অথচ ১৯৯৩ সালেও জেনেরিক ওষুধের সংখ্যা ছিল মাত্র ৭০০।

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত মেধাস্বত্ব ছাড়ের সুবিধা ভোগ করছে বাংলাদেশ, যা সাশ্রয়ী মূল্যে ওষুধ উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। মুন্সিগঞ্জে এপিআই (সক্রিয় ওষুধ উপাদান) শিল্প পার্কের কাজ দ্রুত শেষ করা গেলে কাঁচামালের আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং উৎপাদন খরচ আরও হ্রাস পাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গবেষণা ও উন্নয়নে (আরঅ্যান্ডডি) বিনিয়োগ বাড়ালে এবং মার্কিন এফডিএ-র অডিট কার্যক্রম আরও গতিশীল হলে আগামী তিন বছরের মধ্যে ওষুধ রপ্তানি ৫০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছানো সম্ভব। দেশের অর্থনীতির অন্যতম এই সম্ভাবনাময় খাতটি এখন বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখছে।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
14 October 2026

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল সুষ্ঠুভাবে বিতরণে ডিলার ও সংশ্লিষ্টদের সাথে মতবিনিময় সভা

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com

স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ১৩২ দেশে দাপট দেখাচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৩:১৭:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

নাগরিকভাবনা ডেস্ক:   যে দেশ একসময় সামান্য জীবন রক্ষাকারী ওষুধের জন্য বিদেশের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে থাকত, সেই বাংলাদেশ এখন বিশ্ববাজারে ওষুধের অন্যতম বড় শক্তি। অভ্যন্তরীণ চাহিদার ৯৮ শতাংশ মিটিয়ে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা ওষুধ এখন পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্বের ১৩২টি দেশে। গত এক দশকে এই খাতের রপ্তানি আয় বেড়েছে বিস্ময়কর ১৬৭ শতাংশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ওষুধ রপ্তানিতে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এই অর্থবছরে বাংলাদেশ ২৩৮ মিলিয়ন ডলারের ওষুধ রপ্তানি করেছে, যা আগের বছর ছিল ২১৩ মিলিয়ন ডলার। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল মাত্র ৮৯ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ১০ বছরে এই খাত এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের ওষুধের অভ্যন্তরীণ বাজারের আকার প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার। শুধু এশিয়া বা আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো অত্যন্ত কড়া মাননিয়ন্ত্রণকারী দেশগুলোতেও বাংলাদেশি ওষুধের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। বর্তমানে ওষুধ রপ্তানির শীর্ষ তালিকায় রয়েছে শ্রীলঙ্কা। এরপর পর্যায়ক্রমে মিয়ানমার, ফিলিপাইন, যুক্তরাষ্ট্র ও কম্বোডিয়ার অবস্থান। নতুন বাজার হিসেবে পর্তুগালেও বাংলাদেশের ওষুধ প্রবেশ করেছে।

ওষুধশিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সাফল্যের মূলে রয়েছে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধি। বর্তমানে দেশে ১ হাজার ৪০০টি জেনেরিক ও ৪৫ হাজার ব্র্যান্ডের ওষুধ উৎপাদিত হচ্ছে। অথচ ১৯৯৩ সালেও জেনেরিক ওষুধের সংখ্যা ছিল মাত্র ৭০০।

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত মেধাস্বত্ব ছাড়ের সুবিধা ভোগ করছে বাংলাদেশ, যা সাশ্রয়ী মূল্যে ওষুধ উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। মুন্সিগঞ্জে এপিআই (সক্রিয় ওষুধ উপাদান) শিল্প পার্কের কাজ দ্রুত শেষ করা গেলে কাঁচামালের আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং উৎপাদন খরচ আরও হ্রাস পাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গবেষণা ও উন্নয়নে (আরঅ্যান্ডডি) বিনিয়োগ বাড়ালে এবং মার্কিন এফডিএ-র অডিট কার্যক্রম আরও গতিশীল হলে আগামী তিন বছরের মধ্যে ওষুধ রপ্তানি ৫০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছানো সম্ভব। দেশের অর্থনীতির অন্যতম এই সম্ভাবনাময় খাতটি এখন বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখছে।

Share this news as a Photo Card