ঢাকা, বাংলাদেশ। , শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
৮৭ দিনেও চার্জশিট হয়নি

“হাদি হত্যার বিচার নিয়ে কোনো নাটক নয়”—প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা ও দ্রুত বিচার দাবি

মাহবুব তালুকদার, নলছিটি (ঝালকাঠি)
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:৩১:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • / ৫০ বার পঠিত
মাহবুব তালুকদার, নলছিটি (ঝালকাঠি): ঝালকাঠির নলছিটিতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে তাঁর পরিবার। এ সময় বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর কাছে হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় সর্বাত্মক সহযোগিতা ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
সোমবার (৯ মার্চ) সকাল ১১টায় নলছিটি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শহীদ ওসমান বিন হাদির বোন মাসুমা বিনতে হাদি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তার ছোট ভাই ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ দুপুর ২টা ২০ মিনিটে বিজয়নগর কালভার্ট রোডে জুমার নামাজ শেষে রিকশাযোগে গন্তব্যে যাওয়ার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ১৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার ৮৭ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থা আদালতে গ্রহণযোগ্য চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি। প্রকাশ্য দিবালোকে গুলির ঘটনার পর শুটার ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী আলমগীর কীভাবে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেল, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয় বলে তিনি দাবি করেন।
মাসুমা বিনতে হাদি বলেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে যে, হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি শুটার ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী আলমগীর ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাই বাংলাদেশ সরকারের কাছে তাদের দাবি—বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে দ্রুত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে প্রচলিত আইনের আওতায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের নির্দেশদাতা, অর্থের যোগানদাতা এবং শুটারদের পালিয়ে যেতে সহায়তাকারীসহ পুরো চক্রের নাম জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে এবং তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় তিনি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিলেরও দাবি জানান। একই সঙ্গে কোনো ধরনের দায়সারা চার্জশিট দেওয়া হলে তা পরিবার ও দেশের জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে বলেও সতর্ক করেন।
মাসুমা বিনতে হাদি বলেন, “বিচার কার্য নিয়ে যদি কোনো ধরনের নাটক মঞ্চস্থ করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে বাংলাদেশপন্থী ওসমানপ্রিয় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সময়োপযোগী কর্মসূচির মাধ্যমে তা রুখে দেওয়া হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শহীদ ওসমান বিন হাদির ভগ্নিপতি আমির হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তৌহিদুল আলম মান্না, সাধারণ সম্পাদক সাইদুল কবির রানা, মুফতি হানযালা নোমানী, শাহাদাত আলম ফকির, সাথি আক্তারসহ স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

৮৭ দিনেও চার্জশিট হয়নি

“হাদি হত্যার বিচার নিয়ে কোনো নাটক নয়”—প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা ও দ্রুত বিচার দাবি

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:৩১:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
মাহবুব তালুকদার, নলছিটি (ঝালকাঠি): ঝালকাঠির নলছিটিতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে তাঁর পরিবার। এ সময় বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর কাছে হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় সর্বাত্মক সহযোগিতা ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
সোমবার (৯ মার্চ) সকাল ১১টায় নলছিটি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শহীদ ওসমান বিন হাদির বোন মাসুমা বিনতে হাদি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তার ছোট ভাই ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ দুপুর ২টা ২০ মিনিটে বিজয়নগর কালভার্ট রোডে জুমার নামাজ শেষে রিকশাযোগে গন্তব্যে যাওয়ার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ১৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার ৮৭ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থা আদালতে গ্রহণযোগ্য চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি। প্রকাশ্য দিবালোকে গুলির ঘটনার পর শুটার ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী আলমগীর কীভাবে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেল, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয় বলে তিনি দাবি করেন।
মাসুমা বিনতে হাদি বলেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে যে, হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি শুটার ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী আলমগীর ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাই বাংলাদেশ সরকারের কাছে তাদের দাবি—বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে দ্রুত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে প্রচলিত আইনের আওতায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের নির্দেশদাতা, অর্থের যোগানদাতা এবং শুটারদের পালিয়ে যেতে সহায়তাকারীসহ পুরো চক্রের নাম জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে এবং তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় তিনি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিলেরও দাবি জানান। একই সঙ্গে কোনো ধরনের দায়সারা চার্জশিট দেওয়া হলে তা পরিবার ও দেশের জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে বলেও সতর্ক করেন।
মাসুমা বিনতে হাদি বলেন, “বিচার কার্য নিয়ে যদি কোনো ধরনের নাটক মঞ্চস্থ করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে বাংলাদেশপন্থী ওসমানপ্রিয় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সময়োপযোগী কর্মসূচির মাধ্যমে তা রুখে দেওয়া হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শহীদ ওসমান বিন হাদির ভগ্নিপতি আমির হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তৌহিদুল আলম মান্না, সাধারণ সম্পাদক সাইদুল কবির রানা, মুফতি হানযালা নোমানী, শাহাদাত আলম ফকির, সাথি আক্তারসহ স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ।