ঢাকা, বাংলাদেশ। , শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
রাজশাহী অঞ্চলে--

হাম রোগের তীব্র বিস্তার, শিশু মৃত্যুর ঘটনা বাড়ায় বাড়ছে উৎকণ্ঠা

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার,রাজশাহী 
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:০১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • / ১০০ বার পঠিত
অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার,রাজশাহী:  রাজশাহী অঞ্চলে অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যা এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীর প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ হামে আক্রান্ত শিশুদের চাপ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। গত কয়েক দিনে গুরুতর অবস্থায় একাধিক শিশুকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং কিছু শিশু এখনও সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
চলতি মাসে এই হাসপাতালে হামে আক্রান্ত অন্তত এক ডজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। আইসিইউতে স্থানান্তরের পরও অনেক শিশুকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আবার আইসিইউ বেডের অভাবে অপেক্ষমাণ অবস্থায় থেকেও কিছু শিশুর মৃত্যু ঘটেছে, যা চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে পরীক্ষাগারে পাঠানো নমুনার একটি উল্লেখযোগ্য অংশে হাম শনাক্ত হয়েছে। এতে সংক্রমণের হার প্রায় এক-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংক্রমণের বিস্তার সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী এবং পাবনা জেলায়।
অন্য হাসপাতালগুলোর চিত্রও উদ্বেগজনক। পাবনা সদর হাসপাতাল-এ একাধিক শিশু বর্তমানে হামের চিকিৎসা নিচ্ছে। যদিও সেখানে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি, তবে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল-এ গত কয়েক মাসে একাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমানে বহু শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু দুর্বলতা সামনে এসেছে। সংক্রামক রোগের জন্য আলাদা হাসপাতাল বা ইউনিট থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের পৃথকভাবে রাখা যাচ্ছে না। ফলে একই ওয়ার্ডে ডায়রিয়া, ডেঙ্গু ও হাম আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যা সংক্রমণ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে শিশু অন্য রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সেখানে হামে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে হাসপাতালভিত্তিক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। অনেক শিশুই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হাম প্রতিরোধী টিকা পায়নি। আবার ৯ মাস বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই কিছু শিশু আক্রান্ত হচ্ছে, যা তাদের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত আইসিইউ সুবিধা বৃদ্ধি, কার্যকর আইসোলেশন ব্যবস্থা চালু এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্তদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শিগগিরই হালনাগাদ তথ্য প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

রাজশাহী অঞ্চলে--

হাম রোগের তীব্র বিস্তার, শিশু মৃত্যুর ঘটনা বাড়ায় বাড়ছে উৎকণ্ঠা

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:০১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার,রাজশাহী:  রাজশাহী অঞ্চলে অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যা এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীর প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ হামে আক্রান্ত শিশুদের চাপ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। গত কয়েক দিনে গুরুতর অবস্থায় একাধিক শিশুকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং কিছু শিশু এখনও সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
চলতি মাসে এই হাসপাতালে হামে আক্রান্ত অন্তত এক ডজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। আইসিইউতে স্থানান্তরের পরও অনেক শিশুকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আবার আইসিইউ বেডের অভাবে অপেক্ষমাণ অবস্থায় থেকেও কিছু শিশুর মৃত্যু ঘটেছে, যা চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে পরীক্ষাগারে পাঠানো নমুনার একটি উল্লেখযোগ্য অংশে হাম শনাক্ত হয়েছে। এতে সংক্রমণের হার প্রায় এক-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংক্রমণের বিস্তার সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী এবং পাবনা জেলায়।
অন্য হাসপাতালগুলোর চিত্রও উদ্বেগজনক। পাবনা সদর হাসপাতাল-এ একাধিক শিশু বর্তমানে হামের চিকিৎসা নিচ্ছে। যদিও সেখানে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি, তবে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল-এ গত কয়েক মাসে একাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমানে বহু শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু দুর্বলতা সামনে এসেছে। সংক্রামক রোগের জন্য আলাদা হাসপাতাল বা ইউনিট থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের পৃথকভাবে রাখা যাচ্ছে না। ফলে একই ওয়ার্ডে ডায়রিয়া, ডেঙ্গু ও হাম আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যা সংক্রমণ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে শিশু অন্য রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সেখানে হামে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে হাসপাতালভিত্তিক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। অনেক শিশুই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হাম প্রতিরোধী টিকা পায়নি। আবার ৯ মাস বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই কিছু শিশু আক্রান্ত হচ্ছে, যা তাদের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত আইসিইউ সুবিধা বৃদ্ধি, কার্যকর আইসোলেশন ব্যবস্থা চালু এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্তদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শিগগিরই হালনাগাদ তথ্য প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।