ঢাকা, বাংলাদেশ। , শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

৩৭ ডিগ্রি ছাড়িয়ে তাপমাত্রা,দুর্ভোগে জনজীবন

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:৫৯:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২৮ বার পঠিত
অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী:  রাজশাহীতে গ্রীষ্মের তাপদাহ ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। টানা দুই দিন ধরে জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে, ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম অস্বস্তি। প্রখর রোদ ও অতিরিক্ত গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে যারা প্রতিদিন বাইরে কাজ করতে বাধ্য হন।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়, যা চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এর আগের দিন বুধবার তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্ধারিত মান অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে সেটিকে মৃদু তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। সেই হিসেবে রাজশাহী বর্তমানে টানা তাপপ্রবাহের মধ্যে রয়েছে।
শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। তবে জীবিকার তাগিদে শ্রমজীবী মানুষদের এই তীব্র গরম উপেক্ষা করেই কাজ করতে হচ্ছে, যার ফলে তারা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন।
বোয়ালিয়া থানার সাগরপাড়া এলাকার রিকশাচালক আব্দুল মালেক বলেন,
“সকাল থেকেই গরম থাকে, কিন্তু দুপুরে সেটা অসহনীয় হয়ে ওঠে। শরীর দুর্বল হয়ে যায়, তবুও বসে থাকলে চলবে না। যাত্রীও কম, আয় কমে গেছে।”
লক্ষ্মীপুর মোড় এলাকার দিনমজুর শফিকুল ইসলাম জানান,
“রোদে কাজ করতে গেলে কিছুক্ষণ পরই মাথা ঘুরে আসে। ঘাম থামতেই চায় না। মাঝে মাঝে কাজ বন্ধ রেখে বিশ্রাম নিতে হয়, এতে আয় কমে যাচ্ছে।”
কাজলা গেট এলাকার রিকশাচালক রফিকুল ইসলাম বলেন,
“এখন রিকশা চালানো অনেক কষ্টের হয়ে গেছে। রোদে বের হলে মাথা ব্যথা করে, শরীর খারাপ লাগে। যাত্রী কম থাকায় ঠিকমতো আয়ও হচ্ছে না।”
শাহমখদুম থানার উপশহর এলাকার নির্মাণশ্রমিক সোহেল রানা বলেন,
“রোদে কাজ করলে শরীর জ্বলে যায়। পানি খেলেও তৃষ্ণা মেটে না। তারপরও কাজ বন্ধ রাখার সুযোগ নেই।”
তালাইমারী ও বিনোদপুর এলাকার কয়েকজন রিকশাচালক জানান, দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সময়টা সবচেয়ে বেশি গরম থাকে। এ সময় অনেকেই কাজ কমিয়ে দেন বা কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন, ফলে দৈনিক আয় কমে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে শরবত ও ঠাণ্ডা পানীয়র দোকানগুলোতে মানুষের ভিড় বেড়েছে। স্বল্প খরচে কিছুটা স্বস্তি পেতে শ্রমজীবী মানুষরা এসবের ওপর নির্ভর করছেন।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, মার্চের মাঝামাঝি থেকেই তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। মাঝে অল্প বৃষ্টিপাত হলেও সাম্প্রতিক দিনে তা বন্ধ থাকায় তাপমাত্রা আবার দ্রুত বাড়ছে। বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় গরম আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) তাপমাত্রা আরও বেড়ে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। যদিও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে হালকা বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তবুও আপাতত এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই সময়ে সবাইকে বেশি করে পানি পান করা, রোদে কম বের হওয়া এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, টানা তাপপ্রবাহে রাজশাহীর জনজীবন ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে দিন এনে দিন খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের জন্য এই গরম এক কঠিন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

৩৭ ডিগ্রি ছাড়িয়ে তাপমাত্রা,দুর্ভোগে জনজীবন

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:৫৯:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী:  রাজশাহীতে গ্রীষ্মের তাপদাহ ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। টানা দুই দিন ধরে জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে, ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম অস্বস্তি। প্রখর রোদ ও অতিরিক্ত গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে যারা প্রতিদিন বাইরে কাজ করতে বাধ্য হন।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়, যা চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এর আগের দিন বুধবার তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্ধারিত মান অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে সেটিকে মৃদু তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। সেই হিসেবে রাজশাহী বর্তমানে টানা তাপপ্রবাহের মধ্যে রয়েছে।
শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। তবে জীবিকার তাগিদে শ্রমজীবী মানুষদের এই তীব্র গরম উপেক্ষা করেই কাজ করতে হচ্ছে, যার ফলে তারা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন।
বোয়ালিয়া থানার সাগরপাড়া এলাকার রিকশাচালক আব্দুল মালেক বলেন,
“সকাল থেকেই গরম থাকে, কিন্তু দুপুরে সেটা অসহনীয় হয়ে ওঠে। শরীর দুর্বল হয়ে যায়, তবুও বসে থাকলে চলবে না। যাত্রীও কম, আয় কমে গেছে।”
লক্ষ্মীপুর মোড় এলাকার দিনমজুর শফিকুল ইসলাম জানান,
“রোদে কাজ করতে গেলে কিছুক্ষণ পরই মাথা ঘুরে আসে। ঘাম থামতেই চায় না। মাঝে মাঝে কাজ বন্ধ রেখে বিশ্রাম নিতে হয়, এতে আয় কমে যাচ্ছে।”
কাজলা গেট এলাকার রিকশাচালক রফিকুল ইসলাম বলেন,
“এখন রিকশা চালানো অনেক কষ্টের হয়ে গেছে। রোদে বের হলে মাথা ব্যথা করে, শরীর খারাপ লাগে। যাত্রী কম থাকায় ঠিকমতো আয়ও হচ্ছে না।”
শাহমখদুম থানার উপশহর এলাকার নির্মাণশ্রমিক সোহেল রানা বলেন,
“রোদে কাজ করলে শরীর জ্বলে যায়। পানি খেলেও তৃষ্ণা মেটে না। তারপরও কাজ বন্ধ রাখার সুযোগ নেই।”
তালাইমারী ও বিনোদপুর এলাকার কয়েকজন রিকশাচালক জানান, দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সময়টা সবচেয়ে বেশি গরম থাকে। এ সময় অনেকেই কাজ কমিয়ে দেন বা কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন, ফলে দৈনিক আয় কমে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে শরবত ও ঠাণ্ডা পানীয়র দোকানগুলোতে মানুষের ভিড় বেড়েছে। স্বল্প খরচে কিছুটা স্বস্তি পেতে শ্রমজীবী মানুষরা এসবের ওপর নির্ভর করছেন।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, মার্চের মাঝামাঝি থেকেই তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। মাঝে অল্প বৃষ্টিপাত হলেও সাম্প্রতিক দিনে তা বন্ধ থাকায় তাপমাত্রা আবার দ্রুত বাড়ছে। বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় গরম আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) তাপমাত্রা আরও বেড়ে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। যদিও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে হালকা বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তবুও আপাতত এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই সময়ে সবাইকে বেশি করে পানি পান করা, রোদে কম বের হওয়া এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, টানা তাপপ্রবাহে রাজশাহীর জনজীবন ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে দিন এনে দিন খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের জন্য এই গরম এক কঠিন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।