ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220
গ্রামীণ জনপদের সমস্যা সমাধানে

গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

  • অপু দাস, রাজশাহী
  • সর্বশেষ পরিমার্জন : ১১:২৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • ৫৮ বার পঠিত
অপু দাস, রাজশাহী:   গ্রামীণ জনপদের বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষাগত, স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর কার্যকর সমাধানে গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে। বক্তারা বলেন, গ্রামের মানুষের বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরতে সংবাদমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। একই সঙ্গে সুশীল সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা সম্ভব।
রোববার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী মহানগরীর একটি কনভেনশন সেন্টারে গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কোঅপারেশন (এসডিসি), গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায়, ‘নাগরিকত্ব জিপিএ’-এর কারিগরি সহযোগিতায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল খান ফাউন্ডেশন। স্থানীয়ভাবে অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন করে সমতা নারী কল্যাণ সংস্থা এবং লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার (লফস)।
সভায় রাজশাহী জেলার চারটি উপজেলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, টেলিভিশন, বেতার ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত প্রায় ৪০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আইনি সহায়তা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
অংশগ্রহণকারীদের আলোচনায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা বিশেষভাবে উঠে আসে এবং সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধানের জন্য একাধিক সুপারিশ প্রদান করা হয়।
সভায় শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারকে বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বক্তাদের মতে, নিয়ন্ত্রণহীন স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে শিশু ও কিশোরদের পড়াশোনা, মানসিক বিকাশ, সামাজিক যোগাযোগ এবং পারিবারিক সম্পর্ক নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনায় সড়ক ও মহাসড়কের পাশে জীবন্ত গাছের গায়ে পেরেক পুঁতে ব্যানার, ফেস্টুন ও সাইনবোর্ড স্থাপনের প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, এতে একদিকে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, অন্যদিকে পরিবেশেরও ক্ষতি হয়। পাশাপাশি সড়কের পাশে অবৈধভাবে স্থাপিত বড় বড় সাইনবোর্ড অনেক সময় চালকদের দৃষ্টিসীমা বাধাগ্রস্ত করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এসব অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
গ্রামীণ এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা গর্ভবতী নারীদের ভোগান্তির বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বক্তারা জানান, অনেক ক্লিনিকে পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা না থাকায় গর্ভবতী নারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এতে তারা শারীরিকভাবে অস্বস্তির পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখেও পড়েন। এ সমস্যা সমাধানে প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।
এ ছাড়া গ্রামের সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তাদের মতে, আইনগত অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্য আইনি সেবা নিশ্চিত করা গেলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আরও বেশি ন্যায়বিচার লাভ করবে।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, গ্রামীণ সমস্যাগুলো সংবাদমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলে তা নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টিগোচর হবে এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ সহজ হবে। একই সঙ্গে সুশীল সমাজ মাঠপর্যায়ে মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই উভয় পক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, তথ্য বিনিময় ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
‘লফস’-এর নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক মহিলা কমিশনার মোসাঃ শাহানাজ পারভীন লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি সঞ্চালনা করেন খান ফাউন্ডেশনের রাজশাহী জেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রায় ৪০ জন সংবাদকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের মতবিনিময় সভার ধারাবাহিক আয়োজন এবং গ্রামীণ জনগণের সমস্যা সমাধানে যৌথ উদ্যোগ আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :

দুপচাঁচিয়ায় বিয়ে বাড়ি থেকে R15M চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার, আটক-২

26 July 2026

নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকা থেকে মতি নামের এক ব্যক্তির অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার! 

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

গ্রামীণ জনপদের সমস্যা সমাধানে

গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

সর্বশেষ পরিমার্জন : ১১:২৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
অপু দাস, রাজশাহী:   গ্রামীণ জনপদের বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষাগত, স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর কার্যকর সমাধানে গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে। বক্তারা বলেন, গ্রামের মানুষের বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরতে সংবাদমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। একই সঙ্গে সুশীল সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা সম্ভব।
রোববার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী মহানগরীর একটি কনভেনশন সেন্টারে গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কোঅপারেশন (এসডিসি), গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায়, ‘নাগরিকত্ব জিপিএ’-এর কারিগরি সহযোগিতায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল খান ফাউন্ডেশন। স্থানীয়ভাবে অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন করে সমতা নারী কল্যাণ সংস্থা এবং লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার (লফস)।
সভায় রাজশাহী জেলার চারটি উপজেলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, টেলিভিশন, বেতার ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত প্রায় ৪০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আইনি সহায়তা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
অংশগ্রহণকারীদের আলোচনায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা বিশেষভাবে উঠে আসে এবং সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধানের জন্য একাধিক সুপারিশ প্রদান করা হয়।
সভায় শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারকে বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বক্তাদের মতে, নিয়ন্ত্রণহীন স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে শিশু ও কিশোরদের পড়াশোনা, মানসিক বিকাশ, সামাজিক যোগাযোগ এবং পারিবারিক সম্পর্ক নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনায় সড়ক ও মহাসড়কের পাশে জীবন্ত গাছের গায়ে পেরেক পুঁতে ব্যানার, ফেস্টুন ও সাইনবোর্ড স্থাপনের প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, এতে একদিকে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, অন্যদিকে পরিবেশেরও ক্ষতি হয়। পাশাপাশি সড়কের পাশে অবৈধভাবে স্থাপিত বড় বড় সাইনবোর্ড অনেক সময় চালকদের দৃষ্টিসীমা বাধাগ্রস্ত করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এসব অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
গ্রামীণ এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা গর্ভবতী নারীদের ভোগান্তির বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বক্তারা জানান, অনেক ক্লিনিকে পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা না থাকায় গর্ভবতী নারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এতে তারা শারীরিকভাবে অস্বস্তির পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখেও পড়েন। এ সমস্যা সমাধানে প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।
এ ছাড়া গ্রামের সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তাদের মতে, আইনগত অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্য আইনি সেবা নিশ্চিত করা গেলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আরও বেশি ন্যায়বিচার লাভ করবে।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, গ্রামীণ সমস্যাগুলো সংবাদমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলে তা নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টিগোচর হবে এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ সহজ হবে। একই সঙ্গে সুশীল সমাজ মাঠপর্যায়ে মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই উভয় পক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, তথ্য বিনিময় ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
‘লফস’-এর নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক মহিলা কমিশনার মোসাঃ শাহানাজ পারভীন লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি সঞ্চালনা করেন খান ফাউন্ডেশনের রাজশাহী জেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রায় ৪০ জন সংবাদকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের মতবিনিময় সভার ধারাবাহিক আয়োজন এবং গ্রামীণ জনগণের সমস্যা সমাধানে যৌথ উদ্যোগ আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

Share this news as a Photo Card