সুশান্ত মালাকার, দুপচাঁচিয়া (বগুড়া): বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা তালোড়া ইউনিয়নের আলতাফ নগর (টু) কইল গ্রামের প্রধান সড়কটি এখন এলাকাবাসীর জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ ও মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলার তালোড়া ইউনিয়ন পরিষদ, স্থানীয় স্কুল ও কলেজ এবং সর্বসাধারণের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তা কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়, যা দেখে বোঝার উপায় থাকে না এটি সড়ক নাকি কোনো ডোবা-নালা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে শত শত সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং কইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলতাব নগর ইবনে সৈয়দ দ্বী- মূখী উচ্চ বিদ্যালয়, ও শহীদ এমন মনসুর আলী ডিগ্রী কলেজের শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটিতে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুম বা সামান্য একটু বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে যায় এবং পুরো রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। ফলে পথচারীদের পায়ে হেঁটে চলাচল করাই দায় হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ এখন চরমে। জামাকাপড় ও বইখাতা কাদাপানিতে নষ্ট করে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা কাদা ও পিছল রাস্তায় পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকারও হচ্ছে। এছাড়া অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ এবং গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই সড়কটি এখন এক আতঙ্কের নাম।
ব্যবসায়ী ও স্থানীয় যানবাহন চালকদের অভিযোগ, রাস্তা খারাপ হওয়ার কারণে অটোরিকশা, ভ্যান বা অন্যান্য যানবাহন প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ছে। ফলে অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সাথে কথা বললে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বছরের পর বছর এভাবে পড়ে আছে, এটা ভাবাই যায় না। সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের অবর্ণনীয় কষ্ট ভোগ করতে হয়। আমরা দ্রুত এই রাস্তাটির টেকসই সংস্কার চাই। এ বিষয়ে (আদমদিঘী- দুপচাঁচিয়া) এলাকার মাননীয় সংসদ সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী এবং শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে সড়কটি সংস্কার করে যাতায়াত উপযোগী করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

সুশান্ত মালাকার, দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) 




















