মফিজুল ইসলাম, নীলফামারী: নীলফামারীর ডিমলা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রধান গেট ভেঙে দুই প্লে-শ্রেণির ছাত্রী গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে(২১জুলাই)২০২৬,সকার প্রায় ১১টার দিকে।
আহত দুই শিক্ষার্থী হলেন ডোমার উপজেলার মৌজা এলাকার মফিজা জান্নাত এবং ডিমলা উপজেলার উত্তর তিতপাড়া গ্রামের নুরুজ্জানের মেয়ে তাসনিম সিদ্দিকা। তারা দুজনই ডিমলা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্লে-শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান গেটের কাছে অবস্থানকালে হঠাৎ গেটটি ভেঙে পড়ে। এতে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। ঘটনার পরপরই শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর বিভাগীয় হাসপাতালে রেফার করেন। পরে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, দুই শিক্ষার্থী সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার পর এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের প্রধান গেটটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তা সংস্কার বা নিরাপদ করার কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।
এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে বহনের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে ডিমলা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সত্যতা, গেটের রক্ষণাবেক্ষণের অবস্থা এবং দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

মফিজুল ইসলাম, নীলফামারী 


















