আব্দুল হান্নান, শাজাহানপুর (বগুড়া): নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সেবা বঞ্চিত সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাগামহীন ঘুষ বাণিজ্য, দলিল জিম্মি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক সাজেদুলের বিরুদ্ধে। অফিস সহায়ক পদে কর্মরত সাজেদুল ইসলামের অনিয়ম ও দূর্ণীতিতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন এলাকার সাধারণ ভূমি সেবাগ্রহীতারা। নামজারি, ভুল সংশোধন এবং ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তিনি হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এই কর্মচারীর ঘুষ বাণিজ্যের শিকার হয়েছেন একাধিক সাধারণ সেবাগ্রহীতা। এমনই এক ভুক্তভোগী শাজাহানপুর উপজেলার বৃ-কুষ্টিয়া গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে আব্দুল হাকীম (৬০)। তিনি জানান, ৪ শতক জমির খাজনা প্রদান ও নামজারির উদ্দেশ্যে ভূমি অফিসে আসলে তার কাছে ৬ হাজার টাকা দাবি করেন সাজেদুল। পরবর্তীতে দরকষাকষির মাধ্যমে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি তাকে ৪ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। সেবা দেওয়ার অজুহাতে মূল দলিল ছাড়া কাজ হবে না জানিয়ে আব্দুল হাকীমের কাছ থেকে মূল দলিলটি নিজের হেফাজতে নেন সাজেদুল। কিন্তু দীর্ঘ ৬ মাস পার হয়ে গেলেও নামজারি করে না দেওয়ায় আব্দুল হাকীম তার মূল দলিল ও প্রদানকৃত অর্থ ফেরত চান। এ সময় সাজেদুল ইসলাম জানান যে, জমির মূল দলিলটি হারিয়ে গেছে। দলিল হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন এই ভুক্তভোগী। অন্য এক ভুক্তভোগী রহিমাবাদ বি-ব্লকের বাসিন্দা আব্দুল মুত্তালেব জানান, গত প্রায় দেড় বছর ধরে নামজারির (খারিজ) জন্য ঘুরছেন তিনি। নামজারির দোহাই দিয়ে অগ্রিম টাকা নিলেও এখনও পর্যন্ত তার কাজটি সম্পন্ন করে দেননি অভিযুক্ত সাজেদুল।
ভূমি অফিসে আসা সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত ফি দিয়ে সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও সাজেদুলের মৌখিক চাহিদা অনুযায়ী বাড়তি টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা হয় কিংবা নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা আড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এই কর্মচারী সাজেদুলের অনিয়ম-দুর্নীতির দ্রুত তদন্ত এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, মূল দলিল স্ক্যান করার জন্য নিতে পারে। কি কারনে নিয়েছে আমার জানা নাই। অনুপস্থিতির বিষয়ে উপজেলার সহকারী কমিশনারকে জানিয়েছি।
অভিযোগের সত্যতা ও বক্তব্য জানতে গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) অভিযুক্ত ব্যক্তির মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে সরেজমিনে ভূমি অফিসে গিয়েও তার দেখা মেলেনি। এমনকি এর পরদিন, অর্থাৎ বুধবারেও (২৯ জুলাই) তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। পরপর দুই দিন কর্মস্থলে তার এই অনুপস্থিতি, সেবাগ্রহীদের দলিল জিম্মি করে রাখা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল ফেরদৌস (ঊর্মি)-র নজরে আনা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি জানান, বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে ইতোমধ্যে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দলিল জিম্মি ও অন্যান্য অনিয়মের বিষয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আব্দুল হান্নান, শাজাহানপুর (বগুড়া) 

















