অপু দাস, রাজশাহী : রাজশাহীর নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ, রাজশাহী থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের ইলামিত্র অঞ্চলের সাবেক সমন্বয়কারী তাজুল ইসলাম আর নেই। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে নগরীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজশাহীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের আবহ বিরাজ করছে।
দীর্ঘদিন ধরে তাজুল ইসলাম নাট্যচর্চা, সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন। রাজশাহী থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই তিনি সংগঠনটির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নাট্যচর্চাকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, নতুন প্রজন্মের নাট্যকর্মীদের গড়ে তোলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের ইলামিত্র অঞ্চলের সাবেক সমন্বয়কারী হিসেবে গ্রামীণ পর্যায়ে নাট্য ও সংস্কৃতিচর্চা বিস্তারে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে নাট্যকর্মী, সংস্কৃতিকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, তাজুল ইসলাম ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সাংস্কৃতিক সংগঠক, যিনি ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে নাট্য আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তাঁর প্রস্থান রাজশাহীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুমার নামাজের পর নগরীর টিকাপাড়া জামে মসজিদে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে টিকাপাড়া কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
তাজুল ইসলামের মৃত্যুতে বিভিন্ন নাট্য, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন পৃথক শোকবার্তায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানো হয়েছে।
রাজশাহীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, তাজুল ইসলামের কর্মময় জীবন, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নাট্যচর্চায় তাঁর অবদান আগামী দিনেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ ও কর্মপ্রয়াস নতুন প্রজন্মের সাংস্কৃতিক কর্মীদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 





















