ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

জাককানইবিতে আনসার কর্তৃক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

মোমিন ইসলাম, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়:   জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে মানসিক নির্যাতন, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, শারীরিক লাঞ্ছনা ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক আনসার সদস্য এবং তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেট সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। অভিযোগের পর ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি তাঁর সহপাঠী ও সিনিয়র শিক্ষার্থীদের অবহিত করলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত আনসার সদস্য শিরিয়া বেগম এবং তাঁর স্বামী জোবায়ের রাহমানকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। পরে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পরিবারসহ অভিযুক্ত আনসার সদস্যের পাশের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। কিছুদিন ধরে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত দম্পতি তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে নিয়মিত গালিগালাজ, অপমান ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, তাঁর বাবা একজন রিকশাচালক হওয়ায় তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হতো। তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা চুরির অপবাদ দেওয়া, অশালীন মন্তব্য করা এবং ধর্মীয় অনুশীলনের সময়ও কটূক্তি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া অভিযুক্ত আনসার সদস্যের স্বামী তাঁর প্রতি অশ্লীল ও যৌন হয়রানিমূলক মন্তব্য করেন এবং একাধিকবার তাঁর বৃদ্ধা মাকে ধাক্কা দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আনসার সদস্য হওয়ার পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বাসা ছাড়তে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও করেন ওই শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, “আমি এবং আমার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চরম মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হিসেবে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আনসার সদস্য শিরিয়া বেগম। তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। একই বাসায় থাকার কারণে কথা কাটাকাটি হয়েছে, তবে গালিগালাজ বা অন্য যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোর কোনো সত্যতা নেই।”
অভিযুক্ত শিরিয়া বেগমের স্বামী জোবায়ের রাহমানও অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে মারধর কিংবা গালিগালাজের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
এ বিষয়ে বাসার মালিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের কেয়ারটেকার মাসুদ রানা বলেন, “এর আগেও তিনবার তাদের মধ্যে হওয়া ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসার চেষ্টা করেছি। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আমি তাদের বাসা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নাজমুল হাসান বলেন, “আমরা দুই পক্ষের বক্তব্য শুনেছি। ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনসার প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে।” বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নারী শিক্ষার্থী ও তাঁর পরিবারের ওপর নিরাপত্তাকর্মী কর্তৃক এমন লাঞ্ছনার ঘটনায় শিক্ষার্থী মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

Share this news as a Photo Card

মৃত্যুকে ভয় পাই না, আমি নিজেই একজন জুলাই যোদ্ধা: হিরো আলম

27 July 2026

বাগেরহাটে আইনজীবী হত্যার সাথে জড়িত ৪ জন গোয়েন্দা পুলিশ কতৃক গ্রেফতার

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

জাককানইবিতে আনসার কর্তৃক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

সর্বশেষ পরিমার্জন : ১২:৫০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
মোমিন ইসলাম, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়:   জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে মানসিক নির্যাতন, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, শারীরিক লাঞ্ছনা ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক আনসার সদস্য এবং তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেট সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। অভিযোগের পর ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি তাঁর সহপাঠী ও সিনিয়র শিক্ষার্থীদের অবহিত করলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত আনসার সদস্য শিরিয়া বেগম এবং তাঁর স্বামী জোবায়ের রাহমানকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। পরে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পরিবারসহ অভিযুক্ত আনসার সদস্যের পাশের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। কিছুদিন ধরে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত দম্পতি তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে নিয়মিত গালিগালাজ, অপমান ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, তাঁর বাবা একজন রিকশাচালক হওয়ায় তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হতো। তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা চুরির অপবাদ দেওয়া, অশালীন মন্তব্য করা এবং ধর্মীয় অনুশীলনের সময়ও কটূক্তি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া অভিযুক্ত আনসার সদস্যের স্বামী তাঁর প্রতি অশ্লীল ও যৌন হয়রানিমূলক মন্তব্য করেন এবং একাধিকবার তাঁর বৃদ্ধা মাকে ধাক্কা দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আনসার সদস্য হওয়ার পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বাসা ছাড়তে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও করেন ওই শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, “আমি এবং আমার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চরম মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হিসেবে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আনসার সদস্য শিরিয়া বেগম। তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। একই বাসায় থাকার কারণে কথা কাটাকাটি হয়েছে, তবে গালিগালাজ বা অন্য যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোর কোনো সত্যতা নেই।”
অভিযুক্ত শিরিয়া বেগমের স্বামী জোবায়ের রাহমানও অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে মারধর কিংবা গালিগালাজের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
এ বিষয়ে বাসার মালিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের কেয়ারটেকার মাসুদ রানা বলেন, “এর আগেও তিনবার তাদের মধ্যে হওয়া ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসার চেষ্টা করেছি। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আমি তাদের বাসা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নাজমুল হাসান বলেন, “আমরা দুই পক্ষের বক্তব্য শুনেছি। ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনসার প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে।” বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নারী শিক্ষার্থী ও তাঁর পরিবারের ওপর নিরাপত্তাকর্মী কর্তৃক এমন লাঞ্ছনার ঘটনায় শিক্ষার্থী মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

Share this news as a Photo Card