অপু দাস, রাজশাহী: রাজশাহী মহানগরী ও জেলার দুটি পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের সিগারেট উদ্ধার করেছে র্যাব-৫, রাজশাহী। পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া এসব সিগারেটের মোট সংখ্যা ৫৬ হাজার ৯০০ শলাকা। তবে উদ্ধারকৃত সিগারেটগুলোর মালিক বা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-৫ সূত্রে জানা যায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দমনে বাহিনীটি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। মাদক, অবৈধ অস্ত্র, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ভেজাল পণ্য, অপহরণ, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় র্যাব-৫ এর সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার কুমারপাড়া মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটে এস এ পরিবহন প্রাইভেট লিমিটেডের সামনের পাকা সড়কের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিপুল পরিমাণ সিগারেট দেখতে পায় র্যাব সদস্যরা।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া সিগারেটের মধ্যে ১ হাজার প্যাকেট লাকি স্ট্রাইক (Lucky Strike) ব্র্যান্ডের সিগারেট ছিল, যার মোট শলাকা সংখ্যা ২০ হাজার। এছাড়া ২ হাজার ৭০০ প্যাকেট স্টার (Star) ব্র্যান্ডের সিগারেট উদ্ধার করা হয়, যার মোট শলাকা সংখ্যা ২৭ হাজার। প্রথম অভিযানে মোট ৩ হাজার ৭০০ প্যাকেট বা ৪৭ হাজার শলাকা সিগারেট জব্দ করা হয়।
একই দিন রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজার এলাকায় দ্বিতীয় অভিযান পরিচালনা করে র্যাব। ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এস এ পরিবহনের সামনের অংশে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ৯৯০ প্যাকেট স্টার ব্র্যান্ডের সিগারেট উদ্ধার করা হয়। এসব সিগারেটের মোট শলাকা সংখ্যা ৯ হাজার ৯০০।
দুটি অভিযানে সর্বমোট ৪ হাজার ৬৯০ প্যাকেট সিগারেট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত সিগারেটের মোট শলাকা সংখ্যা ৫৬ হাজার ৯০০ বলে জানিয়েছে র্যাব।
অভিযান চলাকালে স্থানীয়দের কাছে উদ্ধার হওয়া সিগারেটের মালিকানা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলেও কেউ কোনো তথ্য দিতে পারেননি। প্রাথমিক অনুসন্ধানেও সিগারেটগুলোর প্রকৃত মালিক কিংবা পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
র্যাব জানিয়েছে, আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উদ্ধারকৃত সিগারেটগুলো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) মূলে রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানা এবং রাজশাহী জেলার পুঠিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাহিনীটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া সিগারেটগুলোর উৎস, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রকে শনাক্ত করার লক্ষ্যে তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অপু দাস, রাজশাহী 




















