ঢাকা, বাংলাদেশ , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220
নিরপেক্ষ অদন্তের দাবি জোরালো

ডিমলায় সংবাদ প্রকাশের পরও দৃশ্যমান ব্যবস্হা নেই

মফিজুল ইসলাম, নীলফামারী:   নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের জারি কারক ফেরদৌস জ্জামান (বাবুল)-এর বিরুদ্ধে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, খতিয়ানের প্রত্যয়িত অনুলিপি না দিয়ে মোবাইল ফোনে ছবি সরবরাহ এবং এতে সরকারি রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগে একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। একই সঙ্গে অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামজারি (খারিজ) সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে প্রতিটি আবেদনে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া বিধি অনুযায়ী প্রত্যয়িত খতিয়ানের অনুলিপি সরবরাহ না করে মোবাইল ফোনে খতিয়ানের ছবি তুলে প্রতিটি ক্ষেত্রে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, সরকারি সেবা নিতে এসে তারা অতিরিক্ত অর্থ প্রদান, দীর্ঘসূত্রিতা এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেকের দাবি, নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করেও সময়মতো সেবা না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি সরকারি সেবার প্রতি আস্থাও কমে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অনিয়মের কারণে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং দরিদ্র ও সহজ-সরল গ্রামীণ মানুষ ভূমিসেবা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন। অনেকেই মনে করছেন, সরকারি অফিসে সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের সংস্কৃতি চলতে থাকলে দুর্নীতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে একাধিকবার মৌখিকভাবে অবহিত করা হলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও অভিযোগের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—বারবার অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের পরও তদন্ত বা ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব কেন?
এদিকে অভিযোগ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পরও অভিযোগ অনুযায়ী খতিয়ানের ছবি তুলে অর্থ আদায়ের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তাদের বক্তব্য, “যদি অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরও একই ধরনের কার্যক্রম চলতে থাকে, তাহলে তদারকি ও জবাবদিহিতা কতটা কার্যকর—সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।”
সচেতন মহলের অনেকে মনে করছেন, অভিযোগের দ্রুত তদন্ত না হওয়ায় প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে। তবে এই ধরনের জনমত বা অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত জারি কারক ফেরদৌস জ্জামান (বাবুল)-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হবে।তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০ | ফোন: ০৯৬৪৯২৩০২২০, ০১৯১৫৭০৮১৮৭, ই-মেইল: info.nagorikvabna@gmail.com

.nv-address-bar { background-color: #1565C0 !important; padding: 10px 20px !important; text-align: center !important; width: 100% !important; display: block !important; } .nv-address-bar p { color: #ffffff !important; font-size: 13px !important; margin: 0 !important; line-height: 1.6 !important; }
26 August 2026

উলিপুরে গাঁজা সেবনের দায়ে তিনজনের তিন মাসের কারাদণ্ড

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

নিরপেক্ষ অদন্তের দাবি জোরালো

ডিমলায় সংবাদ প্রকাশের পরও দৃশ্যমান ব্যবস্হা নেই

সর্বশেষ পরিমার্জন : ১১:২২:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
মফিজুল ইসলাম, নীলফামারী:   নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের জারি কারক ফেরদৌস জ্জামান (বাবুল)-এর বিরুদ্ধে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, খতিয়ানের প্রত্যয়িত অনুলিপি না দিয়ে মোবাইল ফোনে ছবি সরবরাহ এবং এতে সরকারি রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগে একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। একই সঙ্গে অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামজারি (খারিজ) সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে প্রতিটি আবেদনে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া বিধি অনুযায়ী প্রত্যয়িত খতিয়ানের অনুলিপি সরবরাহ না করে মোবাইল ফোনে খতিয়ানের ছবি তুলে প্রতিটি ক্ষেত্রে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, সরকারি সেবা নিতে এসে তারা অতিরিক্ত অর্থ প্রদান, দীর্ঘসূত্রিতা এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেকের দাবি, নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করেও সময়মতো সেবা না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি সরকারি সেবার প্রতি আস্থাও কমে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অনিয়মের কারণে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং দরিদ্র ও সহজ-সরল গ্রামীণ মানুষ ভূমিসেবা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন। অনেকেই মনে করছেন, সরকারি অফিসে সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের সংস্কৃতি চলতে থাকলে দুর্নীতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে একাধিকবার মৌখিকভাবে অবহিত করা হলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও অভিযোগের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—বারবার অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের পরও তদন্ত বা ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব কেন?
এদিকে অভিযোগ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পরও অভিযোগ অনুযায়ী খতিয়ানের ছবি তুলে অর্থ আদায়ের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তাদের বক্তব্য, “যদি অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরও একই ধরনের কার্যক্রম চলতে থাকে, তাহলে তদারকি ও জবাবদিহিতা কতটা কার্যকর—সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।”
সচেতন মহলের অনেকে মনে করছেন, অভিযোগের দ্রুত তদন্ত না হওয়ায় প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে। তবে এই ধরনের জনমত বা অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত জারি কারক ফেরদৌস জ্জামান (বাবুল)-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হবে।তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share this news as a Photo Card